পর্যটকের পছন্দনীয় অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২২, ১২:২০
পর্যটকের পছন্দনীয় অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সমুদ্রসৈকত দেখা, সুন্দরবন অথবা সিলেটের চা-বাগানে ভ্রমণ– আগে শুধু এতটুকু ভ্রমণে সন্তুষ্ট থাকত ভ্রমণপ্রেমীরা। দিনবদলের এই আজকের সময়ে এসে বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা এখন আর এতটুকুতে সন্তুষ্ট নন, তারা এখন রোমাঞ্চ পেতে চান। রোমাঞ্চকর ধরনের ভ্রমণকে বলা হয় অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম। তাই দিন দিন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম বা রোমাঞ্চকর ভ্রমণ। ভ্রমণপিপাসু কিছু তরুণের হাত ধরে কয়েক দশক আগে দেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের যাত্রা শুরু। তবে এখন সরকারিভাবেই এ ধরনের পর্যটন প্রসারে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড কাজ করছে।


অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের একাধিক ধারণা রয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি ধারণা হলো পাহাড়ে হাইকিং, ট্রেকিং, ক্লাইম্বিং, মাউন্টেনিয়ারিং, জঙ্গলে হলকেভিং, হান্টিং, আর্চারি ও ব্যাকপ্যাকিং। এ ছাড়া সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে সারফিং, হট এয়ার বেলুন, প্যারাগ্লাইডিং, হ্যান্ড গ্লাইডিং, প্যারাশুটিং, স্কাই ডাইভিং, বানজি জাম্প, মাইক্রো লাইট প্লেন ইত্যাদি। কায়াকিং (নদী বা হ্রদে বোট চালানো), জিপলাইনিং (উঁচু পাহাড় বা গাছে দড়ি বেঁধে চলাচল), র‍্যাপলিং-জুমারিংয়ের (দড়ির সাহায্যে পাহাড়ি পথে ওঠানামা) মতো অ্যাডভেঞ্চার এসবই অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের অংশ।


অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের ট্যুর আয়োজন করে বিভিন্ন গ্রুপ। এরকম একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল বাংলার কর্ণধার অনিক আহমেদ বলেন, ‘তরুণরা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম ছাড়া কিছুই বোঝে না। তারা আর আগের মতো সৈকতে গিয়ে গোসল এবং হোটেলে সময় কাটানো পছন্দ করে না। কায়াকিং (নদী বা হ্রদে বোট চালানো), জিপলাইনিং (উঁচু পাহাড় বা গাছে দড়ি বেঁধে চলাচল), র‍্যাপলিং-জুমারিংয়ের (দড়ির সাহায্যে পাহাড়ি পথে ওঠানামা) মতো অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করে তারা।’


বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। দেশের ভেতরে তরুণরা এখন পাহাড়ে উঠছে। পার্বত্যাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। নাইট ক্যাম্প, সাইক্লিং, হাইকিং, ট্রেকিং, ক্লাইম্বিং, মাউন্টেনিয়ারিং করছে। তবে দেশের বাইরে থেকে কম মানুষ আসে। এ জন্য আমাদের ব্র্যান্ডিং দরকার, বড় আয়োজন প্রয়োজন। নানাভাবে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে তুলে ধরা সম্ভব।


পর্যটনে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম আশার আলো দেখাচ্ছে। কারণ তরুণরা প্রতিনিয়ত ছুটছে বিভিন্ন প্রান্তে। এতে করে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের আগামীর পর্যটন ব্যবসা হবে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম। পাহাড়, জঙ্গল বা সমুদ্রে বেড়াতে গিয়ে বিশ্রাম নেয়া বা অলসভাবে প্রকৃতির সঙ্গ উপভোগ করাটা আজকালকার অধিকাংশ তরুণদের মধ্যে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। পাহাড়ে নতুন নতুন পথ বা ঝরনা খুঁজে বের করা, এগুলোর উৎস অনুসন্ধান করা, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কোনো গন্তব্যে যাওয়া, প্রতিকূল পরিবেশে তাঁবু গেড়ে থাকা, নানা ধরণের দু:সাহসিক বা একটু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ– যার মধ্যে একটা অভিযানে বের হবার আনন্দ বা রোমাঞ্চ আছে সেগুলো করার ব্যাপারেই বর্তমানের তরুণ পর্যটকদের আগ্রহ বেশী।


বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশই তরুণ। আর এই তরুণদের সিংহভাগই আগ্রহী 'অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে'।


এইসব কিছুর মাঝে থেকে যায় একটু কিন্তু। আর সেটি হলো। বিষয়টিই হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম। আর এখানে আগ্রহী ব্যক্তিরাই হচ্ছে তরুণরা। তাই অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত–


★ তারুণ্যের উচ্ছ্বলতায় অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে যেন বেশি কিছু করা না হয় সেটা খুব লক্ষ্য রাখা উচিত। কারণ বিপদ বলে কয়ে আসে না। তাছাড়া একসাথে যারা ঘুরতে যাচ্ছে তাদের মধ্যে সদ্ভাব থাকাটাও জরুরি। অনেকক্ষেত্রেই এইরকম ট্যুরিজমে প্রাণ হারাতে হয়, অনেক তরুণকে। ভ্রমণ আনন্দের জন্য, ভ্রমণ যদি হয় প্রিয়জন হারানোর কারণ তবে তা দুঃখজনক।


★ যারা শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল তাদেরই অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে যাওয়া উচিত। কারণ ভ্রমণে গিয়ে চিকিৎসাসেবা সহজেই মিলতে না পারে। তাছাড়া অসুস্থ হলে না পাওয়া যাবে ভ্রমণের আনন্দ না পাওয়া যাবে সেবা।


★ অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে সবার আগে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। পরিকল্পনা ব্যতীত অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের দিকে না যাওয়াই উচিত।


★ যেখানে যাওয়া হচ্ছে সে জায়গাটি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নিয়ে যেতে হবে। খুব ভালো করে জানতে হবে সেখানে থাকা-খাওয়ার পুনাঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে গিয়ে এসব করার সুযোগ নেই।


★ প্রয়োজনীয় সবকিছু সাথে নেওয়া ভ্রমণের অন্যতম শর্ত। আর অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে তো এটা অবশ্য পালনীয় তার কোনো বিকল্প নেই।


ভ্রমণ করুন নিরাপদে, প্রতিদিন থাকুন আনন্দে।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com