ডিপ্রেশন কাটাবো কীভাবে?
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ১৮:২৮
ডিপ্রেশন কাটাবো কীভাবে?
অনামিকা রায়
প্রিন্ট অ-অ+

পৃথিবীর এই অসুখের সময়ে অল্পকিছু মানুষের বাইরে আমরা সকলেই প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি। এত দীর্ঘ সময় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের মনের উপর খারাপ প্রভাব বিস্তার করছে হয়তো। অনেকেই চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ কোনো চাকরি যোগাড় হচ্ছে না। এমন একটা গুমোট অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি যে দিন দিন আমাদের মনের ইতিবাচক চিন্তাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা দিন দিন কেবল হতাশই হয়ে পড়ছি। এর ফলে কারো কারো হয়তো ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা তৈরি হচ্ছে।


হতাশা থেকে বেশি মারাত্মক ডিপ্রেশন। আমরা কম বেশি সবাই এই শব্দের সাথে পরিচিত। বর্তমান সময়ে মানসিক এই ব্যাধি ক্রমশ মন থেকে বিস্তার লাভ করে প্রভাব ফেলছে আপনার কাজে। ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা যেহেতু মানসিক ব্যাধি তাই সেটা কাটানোর জন্য শুরু থেকেই প্রতিকারের চেষ্টা করতে হবে।


বাস্তববাদী লক্ষ্য ঠিক করুন - ”Keep yourself busy if you want to avoid depression. For me, inactivity is the enemy.” বলেছিলেন ম্যাট লুকাস। তাই বিষণ্ণতা থেকে নিজেকে দূরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল নিজেকে ব্যস্ত রাখা। এজন্য হালকা যে কোনও ধরনের কাজ করুন। প্রতিদিন লক্ষ্য নির্ধারণ করুন যে এই এই কাজগুলি শেষ করতেই হবে। কাজে ব্যস্ত থাকলে অপ্রয়োজনীয় সমস্যার দিকে মনোযোগ কম যাবে। যদি আমরা নিজেদের ব্যস্ত রাখি তাহলে বিষণ্ণতা কমতে বাধ্য।


আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটান- একা থাকলে ডিপ্রেশন বাড়তে পারে। বর্তমানে এই গৃহবন্দি দশাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝালিয়ে নিন সম্পর্ক। তাঁদের সঙ্গেই সময় কাটান, যাদের সঙ্গ আপনার ভালো লাগে। এমনকি নিজের খারাপ লাগার কথা ও কারণ নিয়েও তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করুন।


ইতিবাচক থাকা- ডিপ্রেশনে আমরা সবকিছুর মধ্যেই হতাশা প্রত্যক্ষ করি। তাই ডিপ্রেশন কাটানোর প্রথম শর্ত, সব কিছুর খারাপ দিক চিন্তা করা, নেতিবাচকতা খোঁজা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া। ইতিবাচক কথা চিন্তা করতে হবে। তার জন্য ভালো বই পড়ুন, সিনেমা দেখুন। আর এমন মানুষের সঙ্গে মিশুন যাঁরা জীবনের প্রতি ইতিবাচক চিন্তাভাবনা রাখেন।


ধ্যান ও শরীরচর্চা- শরীর ও মন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই আমাদের মনকে ভাল রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের সুস্থ শরীর বজায় রেখে চলতে হবে। এজন্য দরকার ধ্যান ও শরীরচর্চামূলক কাজ করা।
নিয়মিত শরীরচর্চায় এন্ড্রোফিন নামে হরমোন নিঃসরণ হয়। যা মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। তাই বিষণ্ণতা কমানোর জন্য সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, ব্যায়াম করা, হাঁটার অভ্যাস রাখা জরুরি।


স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া - হাভার্ড মেডিকাল কলেজের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট বিষণ্ণতা থেকে উত্তরণে বা মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খান।


পছন্দের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা- বিষণ্ণতায় আমাদের অপছন্দের বা কঠিন কাজ করতে ইচ্ছা করে না। স্বাভাবিকভাবেই সেই সব কাজে আমাদের মন বসতে চায় না। এমন সময় আমাদের সেই কাজগুলো করা উচিত যা আমাদের আনন্দ দেয়, কঠিন কাজ হলেও করতে ভাল লাগে।


ধৈর্যশক্তি- মানুষ যখন বিষণ্ণ থাকে, তাঁদের মধ্যে কাজ করে অস্তিরতা। যে কোনও সমস্যার তাঁরা চায় তাৎক্ষণিক বা দ্রুত সমাধান। আর এ সমাধান না পেলে তাঁরা আরও বেশি ডিপ্রেসড হয়ে পড়ে। এই সময় তাঁর সবচেয়ে বেশি যা করা দরকার তা হল ধৈর্য। বিশ্বাস রাখতে হবে যে সব কিছুর সমাধান আছে এবং সব ঠিক হবে এক সময়।


এই কঠিন সময়ে মনোবল হারালে চলবে না। সব একদিন ঠিক হয়ে যাবে এমন ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে যে যেকোনো কঠিন সমস্যা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আপনার আছে।


বিবার্তা/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com