নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার সরকারের ভূমিকা
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৬
নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার সরকারের ভূমিকা
এ্যাড. কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
প্রিন্ট অ-অ+

আজ থেকে ১২০০০ হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীতে কৃষি বিপ্লব ঘটে। কৃষি আমাদের আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি৷ ওই সময় থেকেই মানবসমাজে লৈঙ্গিক বৈষম্যের লক্ষণ প্রকট হতে শুরু করে৷ খুব স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্তা পুরুষের হাতেই, সামাজিক,পারিবারিক,রাজনৈতিক সহ সকল ধরণের ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়৷ কালক্রমে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেখানে নারীদের সাধারণ পছন্দ-অপছন্দ, ভাল লাগা মন্দ লাগা এমনকি হাসি আর সামান্য জোরে কথা বলার মতন ব্যাপারগুলোও, পুরুষের আজ্ঞাধীন হয়ে পড়ে।


আজ থেকে ২০০ বছর আগেও (মানব সমাজের হাজার হাজার বছরের পরিক্রমায় ২০০ বছর “মাত্রই” বটে) ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলিতেও নারীদের ভোটাধিকার,চাকরি-বাকরি করা, শিক্ষা গ্রহন করা ইত্যাদি অকল্পনীয় ছিল। একটা সময় এমনও হয়েছে যে জ্ঞান অনুরাগী বিদুষী নারীদেরকে ডাইনী অপবান দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আজকের আধুনিক সভ্যতার পীঠস্থান ইউরোপেই একটা সময় এমন অবস্থা ছিল তাহলে আমরা বুঝে নিতই পারি অন্যান্য জায়গায় নারীমুক্তি'র কীদশা ছিল!!


গত শতাব্দী থেকে হাওয়া ঘুরতে থাকে৷ উদার গণতন্ত্রের প্রসার এবং বিশ্বব্যাপী সাম্যবাদী রাজনীতির প্রভাবের ফলে সহস্র বছরের পুরোনো পুরুষতান্ত্রিক স্টিগমাগুলো একে একে ভেঙে পড়তে থাকে। পশ্চিমা বিশ্বে আজ স্কুল,আদালত, শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে নারীদের সরব উপস্থিতি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নারীকে আর কারো মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না৷
উদারতাবাদের এই স্রোতে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা আমাদের বাংলাদেশেও নারীমুক্তির আন্দোলন গড়ে ওঠে। গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে নারীরা ঘরের বন্দী অবস্থা থেকে বাইরে আসতে শুরু করে। এই ঘটনার প্রায় একশত বছর পর নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।


কিন্তু,সত্যিকার ক্ষমতায়ন অর্থাৎ সিদ্ধান্তগ্রহনের জায়গায় নারীর ভূমিকা কতটুকু শক্তিশালী হয়েছে সেই বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার৷ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকার প্রশ্ন আসলেই চলে আসে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন৷ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা আগের থেকে কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে সেই বিষয়টিও আমাদের হিসাবে নিতে হবে। আর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যেখান থেকে সেই রাজনৈতিক ক্ষমতার জায়গাতেও নারীর অবস্থান কতটুকু পোক্ত হলো সেই বিষয়েও আমাদের আলোচনা করতে হবে।


১৯৯০ সালে গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা শুরু করার পর ৩২ বছর হয়ে গেলো। এই বত্রিশ বছরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা এই দুই পদে সবসময়ই কোন না কোন নারী থেকেছেন৷ কিন্তু এর ফলে সমাজের প্রতিটি স্তরে দেশের প্রতিটি- অঞ্চলে অর্থাৎ শহর থেকে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত নারীদের জীবনমানে পরিবর্তন এসেছে? নারীরা সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং সামাজিক ক্ষমতার জায়গাতে কতটুকু শক্ত অবস্থানে এসেছেন সেই বিষয়টি নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে? শিক্ষা,কর্ম,চিকিৎসা,নিরাপত্তা এইসব ক্ষেত্রে নারীদের কতটুকু অগ্রগতি হলো সেই সমস্ত কিছু আমাদের আলোচনায় উঠে আসা দরকার।


এর উত্তর যদি বলি,বিগত যেকোন সময়ের চাইতে ২০০৮-২০২২ এই সময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নারীদের ক্ষমতায়ন অনেকগুণ বেশি হয়েছে।


শেখ হাসিনার সময়কালে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ঐতিহাসিক এবং সাংবিধানিক ভিত্তির উপর আলোকপাত করা প্রয়োজনীয় বলে মনে করছি। দক্ষিণ এশিয়ার সমাজ কাঠামো অত্যন্ত রক্ষণশীল।


২০২২ সালে এসেও ভারত-পাকিস্তানের অনেক অঞ্চলে "অনার কিলিং”, যৌতুক, ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দিয়ে দেয়ার মতন ঘটনা খুবই স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়৷ শেষোক্ত দুইটি ঘটনা আমাদের দেশেও দেখা যায়। নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশ এসব এখনো দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে রীতিমতো ট্যাবু৷ এইরকম একটি অঞ্চলে যখন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয় "সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা" এই মূলমন্ত্র নিয়ে।


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চার মূলভিত্তি যখন হয়- জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই নারীমুক্তি বাংলাদেশের জন্মকালীন একটি প্রতিশ্রুতি হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, "... মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্ক্ষার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতা পালন করা।" অর্থাৎ, প্রগতিশীল সমাজ গঠন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দাবি। আর প্রগতিশীল সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন৷ নানারকম ঐশ্বরিক এবং গোষ্ঠী


আইনের দোহাই দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল অংশ যাদের হাজার বছর ধরে পুরুষতান্ত্রিকতার শেকলে বেঁধে পরাধীন করে রেখেছে, তাদের মুক্তি নিশ্চিত না করে কোন সমাজই ঠিক “প্রগতিশীল" হয়ে উঠতে পারে না।


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার আদর্শ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি প্রতিশ্রুতিকে ধারণ করে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আওয়ামী লীগ সচেষ্ট। তাই নারী মুক্তি আর নারীর ক্ষমতায়নকে আওয়ামী লীগ সবসময়ই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যখন দলটি প্রথম সরকার গঠন করে তখন এর এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হয় যুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের সামাজিক সম্মান ফিরিয়ে দেয়া এবং তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়া৷ পৃথিবীতে যত যুদ্ধ,সংঘাত হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে আক্রমনকারীদের প্রতিহিংসা এবং লালসার শিকার হয়েছেন নারীরা যুদ্ধের পর পুরুষের বীরত্ব নিয়ে যত গাঁথা হয়েছে, নারীর ত্যাগ নিয়ে তার কিছুই হয়নি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেন এটা না হয় এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সচেষ্ট ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের আমাদের নির্মম সমাজ গ্রহন করতে চায় নি। তাদেরকে ঘৃণা এবং তামাশাঁর চোখে দেখা হয়েছে। যুদ্ধে ধর্ষণের শিকার নারীদের কতটা নোংরা দৃষ্টিতে দেখা হত তার নমুনা আমরা দেখতে পাই ডা.এমএ হাসান রচিত “যুদ্ধ ও নারী” গ্রন্থে। সেখানে এমন সব বর্ণনা উঠে এসেছে যা পড়লে গা শিউরে ওঠে। নির্যাতিতা নারীদের পুর্ণবাসন এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিত চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবীদের বর্ণনায় পাওয়া যায় স্থানীয় লোকেদের এইসব নির্যাতিতা নারীদের উদ্দেশ্যে “বেশ্যা" বলে গালি দিতেও বাঁধেনি।


এইরকম অবস্থায় স্বাধীন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে প্রথম চ্যালেঞ্জই ছিল বীরাঙ্গনাদের পুর্ণবাসন। বঙ্গবন্ধু সাড়ে চার লক্ষ বীরাঙ্গনাদের নিজের মেয়ে বলে স্বীকৃতি দিলেন। বললেন, “যুদ্ধে নির্যাতনের শিকার মেয়েদেরর পিতার নামের জায়গায় আমার নাম লিখে দাও আর ঠিকানা লিখে দাও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর!” জাতির পিতার এই বক্তব্য সেইদিনের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। এই সংবিধানে নারীর ক্ষমতায়ন এবং জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে নারীরা যাতে বৈষম্যের শিকার না হয় সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।


সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে আইনের চোখে সকল নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ লৈঙ্গিক কারণে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত হতে পারবে না। সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে, সকল প্রকার বৈষম্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। নারী-পুরুষভেদে যেই সামাজিক বৈষম্য বিদ্যমান তাকে রহিত করার জন্য জোর দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদে


সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলের সমান অধিকারের সুযোগ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দু'টি ধারা হচ্ছে অনুচ্ছেদ ৬৫(২) এবং ৬৫(৩)। সংবিধানের ৬৫(৩) ধারায় সংরক্ষিত নারী আসনের কথা বলা হয়েছে। আর ৬৫(২) তে বলা হয়েছে সংরক্ষিত আসনের বাইরেও সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে নারীদের কোন বাঁধা থাকবে না। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আরো বিস্তৃত সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা বিগত সকল সরকারের কাজকে ছাড়িয়ে গেছে৷


২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯(৩) অনুচ্ছেদ সংবিধানে সংযোজিত হয়৷ এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- “জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ এবং সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।”


এর আগে সংসদে নারী আসনের সংরক্ষণের কথা থাকলেও উক্ত ধারা যোগ করার ফলে সমাজের সকল স্তরে নারীর ভূমিকা নিশ্চিতকরণের প্রচেষ্টা একটি সাংবিধানিক রূপ পায়৷ এই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমেই ৬৫(৩) এ উল্লেখিত সংরক্ষিত নারী আসন ৩৪৫ থেকে ৩৫০ এ উন্নীত করা হয়। যা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের জায়গায় নারীর অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করে।


শেখ হাসিনার সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে জেন্ডার বাজেট। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে নারী উন্নয়নের জন্য ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা মোট বাজেটের ৩৩.৮৪ শতাংশ এবং জিডিপি'র ৫.১৬ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় নারী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৮৯৭ কোটি টাকা বেশি৷


প্রাসঙ্গিকভাবে বলে রাখা ভালো,২০০৯-১০ অর্থবছরে নারী উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। জেন্ডার খাতে বাজেট বৃদ্ধি নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার সরকারের সদিচ্ছাই প্রমান করে নারীর ক্ষমতায়নের প্রধান ধাপ নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা।


নারীমুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমেই জোর দিয়েছেন নারী শিক্ষার অগ্রগতির উপর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২১ সালের আগস্ট মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৫.৬ শতাংশ আর এই বয়সী নারীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ।


সর্বশেষ শ্রম জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মজীবী নাগরিকের প্রায় ৩৮ শতাংশ নারী। শ্রমজীবী নারীদের অধিকাংশই যুক্ত আছেন তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে। শুধু শিল্প নয় গ্রামীণ কৃষিকাজের প্রায় ৪৬ শতাংশই করে থাকেন নারীরা। কৃষিকাজের সাথে জড়িত ২১ টি ধাপের মধ্যে ১৭ টি ধাপই নারীদের দ্বারা সম্পন্ন হয়। আরো আশার কথা হচ্ছে গ্রামীন নারীদের মধ্যে কৃষিকাজের পাশাপাশি উদ্যোক্তার ভূমিকা নেয়ার পরিমানও দিনদিন বাড়ছে। আর এই উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দিতে বিভিন্ন সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দিচ্ছে শেখ হাসিনার


সরকার নারীর ক্ষমতায়নের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যেসব বহুমাত্রিক প্রকল্প গ্রহন এবং বাস্তবায়ন করছে আগের সরকারগুলোর জন্য এমন পদক্ষেপ নেয়া ছিল অকল্পনীয়।



গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া কিছু পদক্ষেপ নিম্নরূপঃ-
১) নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে জয়িতা ফাউন্ডেশন। যার অধীনে ১৮০ টি সমিতির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ১৪ হাজার ৯৬০ জন নারী উদ্যোক্তার পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে।
২) মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন নিবন্ধিত মহিলা সমিতিভুক্ত দুঃস্থ ও অসহায় নারীদের সহায়তা করার লক্ষ্যে তাদের তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রি ও প্রদর্শনের জন্য অধিদপ্তরের সদর কার্যালয়ে পরিচালিত হচ্ছে “অঙ্গনা”।
৩) আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬৫০ জন নারীকে ৪৩ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
৪) মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মায়েদের জন্য 'স্বপ্ন প্যাকেজ' কর্মসূচির আওতায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি জেলার ১০টি উপজেলায় ৭০০ জন উপকারভোগী মায়ের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৫) গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের জন্য অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধিত মহিলা সমিতিগুলোয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে দুস্থ অসহায় নারীদের মধ্যে ১০ হাজার ৭৪৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ হয়েছে। দুস্থ ও শিশু কল্যাণ তহবিল থেকে ৯৩৪ জনকে ১ কোটি ৫২ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।
৬) নারীর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার নারীকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বর্তমান সরকার।
৭) আট হাজার দুস্থ ও অসহায় নারীকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য এককালীন ১৫ হাজার টাকা অনুদানসহ প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার৷ মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের জাতীয় মহিলা প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার নারীকে দক্ষতা উন্নয়ন
প্রশিক্ষণ এবং আবাসিক ও অনাবাসিক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণসহ অধিদপ্তরের অধীন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নেতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দিয়েছে।



এ ছাড়া অনগ্রসর, বেকার নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই ও এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক, চামড়াজাত শিল্প এবং খাদ্য প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি বিষয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫২ হাজার ১০৩ জন নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।


প্রান্তিক পর্যায় ছাড়াও সামগ্রিকভাবে নারীর উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বেড়েছে নারীর অংশগ্রহণ। গত বছরের মার্চের একটি হিসাব অনুযায়ী, দেশে তখন সচিব ও সচিব পদমর্যাদার ৭৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে নারী ছিলেন ১০ জন, ৫১১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে নারী ৮৩ জন, ৬৩৬ জন যুগ্ম


সচিবের মধ্যে নারী ৮১ জন, ৬৯৫ উপসচিবের মধ্যে নারী ৩৪৯ জন, ১ হাজার ৫৪৯ জন সিনিয়র সহকারী সচিবের মধ্যে নারী ৪৫৪ জন এবং ১ হাজার ৫২৮ জন সহকারী সচিবের মধ্যে নারী ছিলেন ৪৭২ জন। দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসক পদে ছিলেন ১০ নারী।


যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোয় গত বছর 'উইমেনস ক্লাইমেট লিডারশিপ ইভেন্ট- কপ২৬: উইমেন অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান ভুক্তভোগী হিসেবে নারীরা এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বর্ধিত অংশীদারত্বের দাবিদার এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য, বিশেষ করে স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়নে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।'


নারীর চূড়ান্ত স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়নে আমাদের এখনও অনেক পথ যেতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সামনে যে রূপকল্প উপহার দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের হারার কোনো সুযোগ নেই৷ অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তির পাশাপাশি আমরা নারীমুক্তি; সর্বোপরি মানবমুক্তি ঘটানোর লড়াইয়ের জন্য এখন পুরোপুরি তৈরি৷


লেখক: এ্যাড. কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, সহ-সভাপতি,
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ.

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com