বঙ্গবন্ধুকন্যার একক সাহসিকতার ফসল পদ্মা সেতু
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২২, ১৯:৩২
বঙ্গবন্ধুকন্যার একক সাহসিকতার ফসল পদ্মা সেতু
ডা. মুরাদ হাসান
প্রিন্ট অ-অ+

“...ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!”


বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর কবিতার বক্তব্যের মতো চির বিস্ময় নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের স্বপ্নের সেতু 'পদ্মা সেতু'। ইস্পাত নির্মিত কাঠামোটি তার কঠিন অবয়বকে অতিক্রম করে হয়ে উঠেছে ১৮ কোটি মানুষের আবেগ।


আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই উদ্বোধন হবে বহুল প্রত্যাশিতে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু শব্দটার সাথে যে নামটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যে নামটা না বললেই নয়, তিনি হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্যকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু আর শেখ হাসিনা এক সূত্রে গাঁথা। পদ্মা সেতু তৈরীর সামগ্রিক ঘটনাবলী পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণ করলে এর সত্যতা মেলে। দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যেভাবে সাহসিকতার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু’র কন্যা বলেই তা সম্ভব হয়েছিল। দাতা সংস্থাগুলো যেভাবে দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্থনৈতিক সহায়তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেসময় মনে হয়েছিল পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বপ্ন অধরাই রয়ে যাবে। কিন্তু সেইসময় দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, তিনি বলেছিলেন 'আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করব'। শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তাই দাতা সংস্থাগুলো তুলে নেয়নি, সমগ্র জাতির ওপর মিথ্যা অপবাদের বোঝাও চাপিয়ে দিয়েছিল। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুধুমাত্র আমাদের আর্থিক সক্ষমতাই প্রমাণ করে নাই, এর সাথে প্রমাণিত হয়েছে আমাদের সততা, নিষ্ঠা, দৃঢ়চেতা, সাহসিকতা ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাবেরও। বিশ্বের বুকে জাতি হিসেবে আমরা শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম জাতিই নই, সেই সাথে আমরা সাহসী সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আর এই সকল কিছুর অগ্রসৈনিক যিনি, যিনি সাহসী সেনাপতির মতো একক নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।


আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী শেষ করলাম মাত্র কিছুদিন আগে। ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন দেশের অবয়ব আর ৫০ বছর পরের আজকের বাংলাদেশের অবয়ব দেখে বিস্মিত হই। যদিও অন্যান্য দেশ বা উন্নত বিশ্বের তুলনায় আমাদের সময় একটু বেশিই লেগেছে। সময় বেশি লাগার পিছনে রয়েছে আরেকটি ঘৃণিত-কাপুরুষোচিত বর্বরতার ইতিহাস। ‘৭৫ সালে সপরিবারে জাতির পিতাকে হারানোর পর মুখ থুবড়ে পড়ে সমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। দেশ চলে যায় স্বার্থান্ধ, লোভীদের দখলে। ব্যক্তিস্বার্থ আর মোহের কাছে পরাজিত হয় দেশপ্রেম। সমগ্র দেশ জুড়ে চলে লুটপাটের মহোৎসব। ১৯৭৫ সাল পরবর্তী সময়ে জাতিকে পাড়ি দিতে হয়েছিল এক দীর্ঘ বঞ্চনার পথ। আমাদের জীবনে যদি ‘৭৫ সালের কালো অধ্যায় না থাকত, আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে না হারাতাম- তাহলে স্বাধীনতার পর ৫০ বছর লাগত না আমাদের আজকের এই অবস্থানে আসতে। মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে জাতির পিতা যেভাবে গুছিয়ে নিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে বিশ বছরেই আমরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতাম। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পাদন করা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর রক্তের উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র কাঁধে।


বঙ্গবন্ধুকন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশজুড়ে এখন শতসহস্র পাকা সেতু, হাজার হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক ও বৃহৎ স্থাপনা। পৃথিবীর সর্বোচ্চ খরস্রোতা নদীর তালিকায় আমাজনের পরেই পদ্মা নদীর অবস্থান। সেই পদ্মা নদীর উপরে সেতু নির্মাণ ছিল অনেকটাই রূপকথার গল্পের মতো। সেই সেতু এখন আর রূপকথা না, বাস্তব এবং এই সেতু এখন আমাদের অহংকারের জায়গায় অধিষ্ঠিত। স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছরে যে কয়েকটি বিষয় আমাদের গৌরব ও অহংকারের, তার মধ্যে পদ্মা সেতু অন্যতম। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের প্রাণের দাবী ছিলো এই পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের জনপদে লাগবে নতুন প্রাণের ছোঁয়া। এই ২১ জেলার মানুষের আয়-রোজগার ও জীবনমান উন্নত হবে এবং এর প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে।


জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল এই দেশের মানুষের জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র আর পতাকা। জীবনপণ সংগ্রাম করে তিনি ‘৭১ সালে সেই স্বপ্নপূরণ করেন। স্বাধীনতার স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী সময়ে তিনি সবসময় বলতেন 'আমার স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ না খেয়ে থাকে।' জাতির পিতার স্বপ্ন পূর্ণ করেছেন তাঁর কন্যা। ক্ষুধার্ত শব্দটির জায়গা হয়েছে অভিধানে, মঙ্গা শব্দটি চলে গেছে জাদুঘরে। জাতির পিতার সুযোগ্যকন্যার হাত ধরে বিশ্বের বুকে আজ আমাদের নাম উচ্চারিত হয় সম্মানের সাথে। আমাদেরকে বলা হয় ‘উন্নয়ন বিস্ময়’, বিশ্বের বুকে এখন আমরা ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত। আজকে আমাদের যে প্রাপ্তি ও সম্মান এর সবকিছু অর্জন সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।


৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন 'কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না', জাতির পিতার সেই কথাই আজ তাঁর কন্যার সুদৃঢ়-বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা এখন অপ্রতিরোধ্য, দুর্দমনীয়-অদম্য। বিশ্বের যেকোন দেশের সাথেই তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে আমরা সক্ষম। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বিশ্বের বুকে আমাদের সেই সক্ষমতাকেই প্রমাণ করে।


পরিশেষে বলব, এই বাংলাদেশের সকল অর্জন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আমাদের প্রধানমন্ত্রী’কে 'ভিশনারি লিডার' হিসেবে অভিহিত করা হয়। নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে দক্ষতা, যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি যে গুণগুলো থাকা আবশ্যক সেগুলো হলো সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতা। উল্লেখিত গুণগুলোর সাথে যোগ হয়েছে অসাধারণ এক মানবিক গুণ মানবতার মিশেলে অনন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে আমরা সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে নিষ্ঠার সাথে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করব, এই হোক আমাদের প্রত্যয়।


ডা. মুরাদ হাসান
সংসদ সদস্য
১৪১, জামালপুর


বিবার্তা/রোমেল/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com