১০ দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সাড়ে ২৩শর বেশি মানুষ
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ১৩:৫১
১০ দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সাড়ে ২৩শর বেশি মানুষ
আকরাম হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। অতীতের যে কোনো বছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের জুনে হঠাৎ এ রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত প্রতিদিনই ডেঙ্গু প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।


গত জুলাই মাসে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিন হাজার ৯৬০ জন রোগী। আর গত ১০ দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন ২ হাজার ৩৫৭ জন। প্রতিদিন গড়ে ২৩৫ জনের বেশি মানুষ নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ড. আয়শা আক্তার বিবার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


প্রতিষ্ঠানটির তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীতে ১ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে বেশি ভর্তি রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে ৩৬৯ জন ভর্তি আছেন। এরপর রয়েছে মিডফোর্ড হাসপাতাল। সেখানে ভর্তি আছেন ১৭৩ জন রোগী।



তাছাড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১১১, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১১০, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৫০, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০, বারডেম হাসপাতালে ৩১, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৩০, স্কয়ার হাসপাতালে ৩৭, সেন্ট্রাল হাসপাতাল (ধানমন্ডি) ৮১, ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল ৬৫, গ্রীন লাইফ মেডিকেল হাসপাতালে ৩৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সরকারি তথ্যের ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সাবরিনা জানান, মৃত্যু পর্যালোচনা কমিটি এ পর্যন্ত নয়টি মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে পাঁচটি মৃত্যু হয়েছে। আরো মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা বাকি আছে।


ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস হলেও এরই মধ্যে এ বছর আক্রান্ত্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৯১ ছাড়িয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আগে বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাস থেকে। এ ভাইরাসবাহিত এডিশ ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় মানুষ। জীবাণুবাহী এডিশ মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে তিনি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এবার এ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিশ মশা কামড়ালে সে মশাটিও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।



এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে ওষুধে মশা মরছে না। যে কারণে গত ১৪ জুলাই মশা মারার ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টসকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।


এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু জ্বর ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা পক্ষ পালন করছে। এর অংশ হিসেবে ৬৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা একটি কল সেন্টার চালু করেছে। ০৯৬১১০০০৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেইকর্মীরা পরামর্শের পাশাপাশি বাসায় গিয়েও সেবা দিচ্ছেন।


এর আগে ২০০০ সালে দেশে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। সরকারি হিসাবে, ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর মারা যান ৯৩ জন। এরপর ডেঙ্গু জ্বরে মৃতের সংখ্যা কমে আসে। গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ১৪৮ জন ছাড়িয়ে যায়। মারা যান ২৬ জন।


বিবার্তা/আকরাম/উজ্জ্বল/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com