‘সংকটময় মুহূর্তে অদম্য সাহসী নেতা শেখ হাসিনা’
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০৩
‘সংকটময় মুহূর্তে অদম্য সাহসী নেতা শেখ হাসিনা’
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঘাতকের বুলেটে সপরিবার নিহত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার। কিন্তু একরাতেই থমকে যায় দেশের সকল উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা। সেদিন দেশ না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।


বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা ক্ষমতা দখল করে হত্যা করে হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে। কারাবন্দি হন লাখ লাখ নেতা-কর্মী। শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র। ১৯৮১ সালে বাঙালি জাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরেন শেখ হাসিনা। দ্বন্দ্ব-কলহে জর্জরিত আওয়ামী লীগকে করেন ঐক্যবদ্ধ। আন্দোলন-সংগ্রামের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে নিয়ে আসেন রাষ্ট্রক্ষমতায়। ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও নবম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের বিজয় নিয়ে আবারও ক্ষমতায় আসেন। সেই থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রপরিচালনায় আছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা।


টানা চার দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০০৯ সালের পর থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনা চরম দারিদ্রের বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে এসেছেন। ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে কাজ করছেন। চলতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর ৭৬ বছরে পা দিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং সামনের পথচলায় কি কি চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে? সেইসব বিষয়ে নিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলেছে বিবার্তা। তার চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-


জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশ আবার স্বাধীনতা যুদ্ধপূর্ব পাকিস্তানিদের হাতে চলে গিয়েছিল। আমরা অন্ধকার থেকে অন্ধকারে চলে গেলাম। সেই অন্ধকার থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে অনেক কষ্টের সাগর পাড়ি দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বাঙালিকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন।



তিনি বলেনে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। টানা তৃতীয়বারের মতো তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশকে অভাবনীয় উন্নয়ন উপহার দিয়েছেন।


শেখ হাসিনা ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। এই পথচলায় চ্যালেঞ্জ কি হবে জানতে চাইলে আব্দুর রহমান বলেন,
চ্যালেঞ্জ হবে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসা। যে সমস্ত অসমাপ্ত কাজ আছে সেসব সম্পন্ন করা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া।


আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বিবার্তাকে বলেন, শেখ হাসিনা যে সময়ে দেশে এসেছিলেন তখন সংগঠন কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিল। আওয়ামী লীগের নাম নেয়াই কঠিন ছিল। ৭ মার্চের ভাষণ, রণাঙ্গনের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ নিষিদ্ধ ছিল। তখন আওয়ামী লীগ করাটাই পাপ বা অপরাধের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।



তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলা, নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সেই অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগকে ভাঙাচোরা অবস্থা থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন। আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে।


মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলো মোকাবেলা করেই শেখ হাসিনার পথচলা। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। যদি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় তখন উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি করার চেষ্টা করেছে, বারবার সহিংসতা করেছে। ফলে তখন উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকে স্থিতিশীলত ছিল, ফলে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বিএনপি-জামায়াত উন্নয়ন চায় না। যার ফলে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা চক্রান্ত করে যাচ্ছে, সেটাকে মোকাবেলা করা বড় চ্যালেঞ্জ।


আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিবার্তাকে বলেন, শেখ হাসিনা একজন অসম সাহসী, দূরদর্শী ও দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো রাষ্ট্রনায়ক। তিনি নিজের মতকে নয় বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার জায়গা থেকে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন। যা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদে-পদে প্রতিফলিত হচ্ছে। দেখা যায় অনেক সময় নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে এইসব যারা করেছে তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সঠিক এবং তাঁর চিন্তাধারাও সঠিক। সময়ের পরীক্ষায় এটা প্রমাণিত হয়েছে। এটাই হলো শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্বের তাৎপর্যপূর্ণ দিক।



তিনি বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওনার যে অদম্য আকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সেই কাজ করে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। যারা গণতান্ত্রিক উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন বাধাগ্রস্থ করার জন্য অপরাজনীতি করে। তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার অগ্রসরমান বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে বাস্তবসম্মত পথ সেই পথে কাঁটা হিসেবে বাধা প্রদান করছে।


বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনাকে বাধা দেয়া সেই সকল অপশক্তিকে মোকাবেলা করে দেশকে শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়াই হলো শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে সাহসিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে অদম্য সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ওনার নির্দেশিত পথে চললে বাঙালি জাতি কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।


বিবার্তা/সোহেল/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com