আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট ভালো এবং স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে: হানিফ
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২২, ১৫:৪৪
আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট ভালো এবং স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে: হানিফ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া ও এর আগে করোনা ছিলো। এমন পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ধাক্কা খাচ্ছে। বাংলাদেশ ছোট দেশ ধাক্কা লাগাটা স্বাভাবিক। শেখ হাসিনা যথেষ্ট ভালোভাবে দেশের অথনীতি সচল রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট ভালো এবং স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে।


বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে 'আগামীর নির্বাচন, রাজনৈতিক সঙ্কট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।


আলোচনা সভার আয়োজন করে যৌথভাবে বিবার্তা২৪ডটনেট ও জাগরণ (আইপি) টিভি।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনো শ্রীলংকা হবে না। তাদের অর্থনীতির মূল শক্তি ছিলো পযটন খাত। করোনায় ধাক্কায় এ খাত থেকে আয় কমে গিয়েছিলো। দ্বিতীয়ত, তারা অর্গানিক কৃষি উৎপাদন করতে গিয়ে তাদের বড় বিপর্যয় হয়েছে। বাংলাদেশ কিন্তু সে অবস্থায় নাই। আমাদের কৃষি, পোশাক খাত বেশ ভালো অবস্থায় আছে। এই মুহূর্তে আমাদের অর্থনীতি নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সব মিলিয়ে আমরা যে অবস্থায় আছি তাতে শংকিত হওয়ার কারণ নেই।


হানিফ বলেন, বিএনপি ২০১৮ সালে অংশ নিয়েছিলো তাহলে কেনো আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে না? এমন পশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালের নিবাচনে অংশ নেয়নি। কারণ এখনকার প্রেক্ষাপট আর তখনকার প্রেক্ষাপট এক নয়। তখন তারা নির্বাচনে অংশ না নেয়ার দুটি কারণ ছিলো। প্রথমতো, তাদের শীর্ষ নেতার একজন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার দায়ে জেলে ছিলেন। আরেকজনের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক ছিলো। একটা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জেলে ছিলো এটা একটা কারণ।


দ্বিতীয়ত, বিএনপির মূল শক্তি হলো জামায়াত। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ছাত্রশিবির আর ছাত্রদল একই মায়ের দুই সন্তান। বিএনপি-জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই। একই মুদ্রার এপিট-ওপিট। এদের সৃষ্টি একই জায়গা থেকে। জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৩ সালে তাদের ফাঁসির রায় হয়। তাই তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিলো না। জামায়াত যেহেতু অংশ নিতে পারছে না, তাই বিএনপিও অংশ নেয়নি।


তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে আমরা বড় চ্যালেঞ্জে আছি। আমাদের দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ রাজনীতির সাথে জড়িত। যখন দেশের সকল মানুষ রাজনীতির সাথে সম্পর্ক হলে একটা রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। আমরা যদি এ থেকে বের হয়ে আসতে না পারি তাহলে এই সংকট থেকেই যাবে।


হানিফ বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের দিন বিএনপি নেতারা ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ হচ্ছে বলেছেন। কিন্তু পরাজয়ের পর ভোট সুষ্ঠু হয়নি বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির লজ্জাজনক পরাজয় হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা ইসি বলেতে পারবে। ভোটের দিন ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট দেয়া শেসে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, নির্বাচন, সুষ্ঠু ও অবাধ হচ্ছে। তাদের যুগ্ম মহাসচিব সকাল ১১টায় পল্টনে বলেছেন ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। রাতে যখন ভোটের ফল ঘোষণা তখন তাদের সুর পাল্টে গেলো। পরাজয়ের পর আপত্তি করা মানসিক রোগ।


তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণমূলক হবে। আমাদের দল তারা বলেছে তারা নির্বাচনে অংশ নিবে না। রাজনীতির মাঠে সুবিধা নেয়ার জন্য, দরকষাকষি করার জন্য এসব বলছে। হঠাৎ করে কেনো বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে না এখন এই প্রশ্ন আসছে কেনো? কারণ তারা সরকারের উন্নয়ন মেনে নিতে পারিনি তাই। এখন তারা নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করতে চায়।


নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী ও যথাসময় হবে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, আমরা চাই নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক হোক এবং সব দল অংশগ্রহণ করবে। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সরকারের যা যা করার প্রয়োজন সব করবে।


সংখালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই উল্লখ করে তিনি বলেন, আমরা জনবহুল দেশের সকল মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। বিপদগ্রস্থ মানুষদের রক্ষা করাটা আমাদের দায়িত্ব। এদেশের কিছু মানুষের ভিতরে অস্থিতিশীলতা আছে। যার জন্য মাঝে মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়। শেখ হাসিনার সরকার যতদিন ক্ষমতায় আছে ততোদিন দেশে সংখ্যালঘুদের শান্তিতে থাকার সুযোগ আছে এবং থাকতে পারবে।


পচাত্তারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা অনেক গভীরে চলে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা সকলকে নিয়েই বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। সকল ধমের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, সকলের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।


বিবার্তা২৪ ডটনেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসির সভাপতিত্বে ও জাগরণ টিভির প্রধান সম্পাদক এফ এম শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশ গুপ্ত প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলা জার্নালের প্রকাশক ও বিবার্তা২৪ডটনেটের বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান রোমেল এবং গৌরব ৭১’এর সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুপম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।


বিবার্তা/সোহেল/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com