বিকাশের অ্যাপস তৈরীর নামে টাকা পাচার অভিযোগ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:১৭
বিকাশের অ্যাপস তৈরীর নামে টাকা পাচার অভিযোগ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রবিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “বিকাশের অ্যাপস তৈরীর নামে ৫-৭ শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার অভিযোগ তদন্তের দাবিতে” মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মানববন্ধনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বককর সিদ্দিক, অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম (বোআফ) এর সভাপতি কবির চৌধুরী তন্ময়, মোবাইল ব্যাংক রিচার্জ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, জাতীয় কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, লোটাস জামিল সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মানববন্ধন শেষে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও ব্যাংকিং গোয়েন্দা সংস্থা’কে চিঠি দেয়া হয়।


মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও অর্থ পাচার রোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা প্রায়শই দেখতে পাচ্ছি বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো “ট্রান্সফার প্রাইসিং”এর মাধ্যমে বিদেশি শেয়ার হোল্ডিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থ পাচার করছে। এ প্রসঙ্গে, আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, জনপ্রিয় পেমেন্ট মাধ্যম “বিকাশ”বাংলাদেশের একটি বৃহৎ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যাদের গ্রাহক, ব্যবসা ও রাজস্ব আয় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে কোম্পানিটির নীট মুনাফা ছিলো ২৪ কোটি, ৩৪ কোটি, ৪৮ কোটি ও ১৯ কোটি টাকা। কোম্পানীটি হঠাৎ করেই ২০১৯ সালে ৬৩ কোটি টাকা নীট লোকসান দেখায়, যার ধারা ২০২০ সালেও বলবৎ রয়েছে। অথচ কোম্পানীটির রাজস্ব আয় ২০১৭ সালে ছিল ১৭৯৫ কোটি টাকা, ২০১৮ সালে ২১৮০ টাকা ও ২০১৯ সালে ২৪১৬ কোটি টাকা। অপরদিকে কোম্পানিটি ২০১৯ সালে প্রতি লেনদেনে ৫ টাকা হারে নতুনভাবে চার্জ আরোপ করেছে ও বিভিন্ন ধরণের বিল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ১০-২০ টাকা চার্জ আরোপ করছে ; যার ফলে তাদের শুধু সেন্ড মানি ও বিল- পে সেবা থেকেই কোম্পানিটির বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় হচ্ছে। এরূপ উত্তরোত্তর ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পরও কোম্পানিটির লোকসান দেখানো সত্যিই সন্দেহজনক।


সম্প্রতি আল জাজিরা টেলিভিশন কর্তৃক সম্প্রচারিত সরকার বিরোধী প্রচারণার সাথে ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত সাংবাদিক ও গণফোরাম এর নেতা ড. কামাল হোসেন এর জামাতা ডেভিড বার্গম্যান ও “নেত্র নিউজ”এর বাংলাদেশী সাংবাদিক তাসনিম খলিল মূল ভূমিকা পালন করেন মর্মে দেখা গেছে। একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃক ১৮/০২/২০২১ তারিখে প্রচারিত একাত্তর জার্নাল এর আলোচনায় উল্লেখ করা হয় বিকাশ সফটওয়্যার/অ্যাপস কেনার নামে ৫০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। একই রিপোর্ট দেখানো হয়েছে বিকাশ এর মূল প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান "মানি ইন মোশন" এর তিনজন স্বত্তাধিকারীর দুইজন হলেন “বিকাশ” এর সিইও কামাল কাদির এবং সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। অপরদিকে অপর ষড়যন্ত্রকারী সাংবাদিক তাসনিম খলিল এর সাথেও “বিকাশ”এর সিইও কামাল কাদির এর সম্পৃক্ততা ও অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে।


সরকার বিরোধী চক্রান্তে মদদ প্রদান করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিবর্গকে আর্থিক সুবিধাপ্রদানের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতা আইন- ২০১২ এর লঙ্ঘনের মাধ্যমে গ্রাহককে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা, মূলত গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুন্ন করার সামিল। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আমরা তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই উদ্বিগ্ন।


বিবার্তা/বিজ্ঞপ্তি/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com