দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু
আর কোনো গ্রাম অন্ধকারে থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৫৮
আর কোনো গ্রাম অন্ধকারে থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের যেসকল অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেই সেখানে আলো পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আর কোনো গ্রাম অন্ধকারে থাকবে না।


বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৮টি জিআইএস উপকেন্দ্র ও ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিয়েছি। ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা সেখান থেকে আর এগিয়ে নিতে পারেননি। কেননা, সন্ত্রাস আর দুর্নীতিই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য।


এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল রাঙামাটির কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র।


তিনি বলেন, সেখান থেকে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি আমরা। বিএনপি-জামায়াত জোটের লক্ষ্যই ছিল দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ সময় তিনি ক্ষমতার লোভে দেশের সম্পদ বিক্রির ষড়যন্ত্রে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির ভূমিকার নিন্দা জানান।


দেশ ও জনগণকে পিছিয়ে রাখাই বিএনপি-জামায়াত জোটের চরিত্র ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বলেই জনগণের উন্নয়ন না করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে।


পরিবার, যুবসমাজ ও পরিবেশ ধ্বংসকারী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।


দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সম্পদের অপব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে বিএনপি-জামায়াত জোট।


এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ৯৩ শতাংশ বাড়িতে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।


তিনি বলেন, ২০০১ সালে সরকারে আসতে না পারলেও তার আগে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র রেখে যাই। আমরা যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিলাম, বিএনপি সেগুলো শেষ করলেও জনগণ স্বস্তি পেত। যেসব প্রকল্প শেষের দিকে ছিল, সেগুলো সম্পন্ন করেই তারা তৃপ্তি পেয়েছে।


বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে যে চার হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ রেখে গিয়েছিল, সেটি বিএনপি তখন তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে এনেছিল।


বিএনপি নেতাদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস বিক্রির জন্য আমার ওপর বিদেশি চাপ ছিল ২০০১ সালে। আমরা বলেছিলাম- ৫০ বছরের রিজার্ভ রেখে তার পর আমরা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু বিএনপি রাজি হয়ে গিয়েছিল। নেবে যুক্তরাষ্ট্র, কিনবে ভারত। যেজন্য ক্ষমতায় আসতে পারিনি।


আমাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস নেই এবং এলএনজি এনে চাহিদা মেটানো হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


প্রসঙ্গত,২০২০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৯ জুলাই কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।


বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। এ প্রকল্পের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ টাকা ৪৮ পয়সা।


চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেটটি কর্পোরেশন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। ২৪০১২টি প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেলটি স্থাপন করা হয়েছে। এই ইউনিট থেকে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।


এ প্রকল্প থেকে আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়া যাবে।


শেখ হাসিনা বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামে দেশের উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারে লক্ষ্য।


তিনি বলেন, আমরা পরমাণু বিদ্যুৎ নির্মাণে কাজ করছি। জলবিদ্যুৎ নির্মাণে ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে আলোচনা করছি। প্রতিটি উপজেলায় যাতে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত হয়, আমরা সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।


বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী কমিউনিটি ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনসহ পুলিশ ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/শারমিন/শাহনাজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com