বর্ষায় পোশাক সচেতনতা
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২৪
বর্ষায় পোশাক সচেতনতা
মডেল: আমির পারভেজ ও জাকিয়া ইমি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বর্ষা-প্রকৃতি উপভোগ করার খুব আয়োজন যে নগরে পাওয়া যায় তা নয়। তবে বৃষ্টির দিনে ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ নাকে এলে বা ধোয়া সবুজ পাতায় চোখ পড়লে মনটা তো একটু কেমন যেন করেই ওঠে। সারাদিনই আকাশজুড়ে ধূসর মেঘের আনাগোনা আর তার মাঝে প্রকৃতির এই যে বিচিত্র রঙের খেলা এটাই তো বর্ষা ঋতুর বৈচিত্র্য। আষাঢ়ের শেষ। শ্রাবণ আসি আসি করছে। রোদ যতো থাকুক, বৃষ্টি তো আসবেই। আর সময় যেহেতু বর্ষাকাল, আগাম কোনো জানান না দিয়েই দেখা দেবে বৃষ্টি। প্রকৃতির এই রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে আমাদের সাজ পোশাকের ধরন।


দিন দিন ফ্যাশনেবল পোশাক যেমন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে তেমনি মৌসুমিভেদে কাপড় ও পোশাকও বেশ সচেতনতা নিয়েই পরতে দেখা যাচ্ছে ব্যবহারকারীদের। কখন, কোন আবহাওয়ায় কোন পোশাক পড়া হবে তা নিয়ে এখন ফ্যাশনবিষয়ক অনুষ্ঠান, ম্যাগাজিন, লেখালেখি, বই ইত্যাদি কোনোটির জনপ্রিয়তাতেই কমতি নেই। পোশাকের ধরন, স্টাইল, হালচাল, সময়ের ব্যবধান এই বিষয়গুলো নজর রাখা এবং নিজের পোশাক নির্বাচনে সচেতন তরুণ প্রজন্ম। পোশাকের ক্ষেত্রে অনেকেই রঙকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই আমাদের হাল ফ্যাশনে কি ধরণের পোশাক পরছেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পোশাকের রঙ।


বর্ষাকালের কোন কোন দিন চলে সারাদিন বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে কাপড় ভিজে গেলে বা কাপড়ে কাদা লাগলে শুকানোর সমস্যা দেখা দেয়। কিছু কাপড় তুলনামূলক কম সময়ে শুকিয়ে যায়। যে পোশাকই পরুন না কেন তা যেন শুকানোর ঝামেলা কমায় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। তাই এই আবহাওয়ায় সুতি, সিফন, ডেনিম, সিল্ক, মলমল, জর্জেট, বেক্সি ভয়েল ইত্যাদি কাপড় পরা যায়।


যখন তখন নেমে পড়ছে গুড়ি গুড়ি বা মুশলধারে বৃষ্টি। ঘরে থাকি বা বাইরে বের হই, গুমোট আদ্র পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হয়। এই আবহাওয়াতে পোশাক-আশাক পরা এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে আমাদের একটু সচেতন থাকাই উচিৎ।


বর্ষার বড় একটা সমস্যা হলো রাস্তাঘাটে পানি জমে যাওয়া আর কাদায় ডুবে যাওয়া। এই অবস্থায় পথ মাড়িয়ে চলা বেশ ঝামেলার। এমনকি কাদাপানি ছিটে পোশাকটা পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। তাই একটু উচু স্যান্ডেল পরুন। তবে রাস্তায় পিছলায় না পড়তে হয় এমন স্যান্ডেলই পরুন।


যারা মোটামুটি ফ্যাশন সচেতন তারা পোশাকের রঙের দিকেও খেয়াল রাখেন। বর্ষায় সবারই প্রিয় রঙ নীল হয় বোধহয়। তবে এটা আপনার রূচি আর পছন্দের ওপরেই নির্ভর কবে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে উজ্জ্বল রঙই বেশি ভালো লাগবে। এই যেমন চোখে ভালো লাগার মতো ম্যাজেন্টা, বেগুনি, গাঢ় সবুজ বা কলাপাতা সবুজ, লাল, হলুদ রঙগুলো ভালো লাগবে। বর্ষায় মেঘলা প্রকৃতির সঙ্গে উজ্জ্বল রং বেশি মানায়।


সুতি কাপড়ের পোশাক


যেকোন আবহাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হল সুতি। বর্ষাকালে মেঘলা আকাশে গুমোট গরমে সুতির পোশাক পরলে যেমন গরম লাগে না, তেমনই ভিজে গেলে তাড়াতাড়ি শুকিয়েও যায়। হাওয়া চলাচল করার কারণে সুতির পোশাক খুবই আরামদায়ক। সুতির পোশাক অফিসে পরার জন্যও বেশ ভালো।


সিফন কাপড়ের পোশাক


যদি বাড়ি থেকে বেরুনোর সময়ই বৃষ্টি পড়ে বা কাদা ভেজা থাকে রাস্তা, তাহলে বাস্তব বুদ্ধি কাজে লাগান। সিফন বা নাইলন এই সব দিনে পরার জন্য সবচেয়ে ভাল। ভিজে গেলে এই সব কাপড় সবচেয়ে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। সিফন টপ, স্কার্ট, শাড়ি,সালোয়ার, কামিজ সবকিছুই পরতে পারেন। যেকোনো অনুষ্ঠানে পুরুষরাও আজকাল সিফন শার্ট পরছেন। বর্ষার দিনে যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্যও এই শার্টগুলো খুবই সুবিধাজনক।


ডেনিম কাপড়ের পোশাক


কিছু বিষয় মাথায় রেখে ডেনিম পরতে পারেন। বৃষ্টির সময় ডেনিম অনেক বেশি সুবিধাজনক। গুটিয়ে যেমন নেওয়া যায়, কাদার দাগও বিশেষ বোঝা যায় না। ডেনিম টাফ মেটিরিয়াল হওয়ার কারণে সহজে নষ্টও হয় না।


সিল্ক কাপড়ের পোশাক


বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে বোরিং আবহাওয়ায় রং যোগ করে উজ্জ্বল সিল্ক। ক্রেপ সিল্ক, আর্ট সিল্ক, সেমি-তসর সিল্ক বা কটন মিক্স সিল্ক পরতে পারেন। এই সব ব্লেন্ডেড মেটিরিয়ালগুলো খুবই আরামদায়ক। শাড়ি, কুর্তি, টপ,সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যায় এই সব কাপড়ের উপর। সিল্কের কাপড় বাতাসে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।


মলমল কাপড়ের পোশাক


বর্ষার সবচেয়ে আরামদায়ক কাপড় হল মলমল। সুতির থেকেও নরম ও হালকা হয় মলমল। কটন কাপড়ের সাথে মলমল কাপড়ের কম্বিনেশনে তৈরি পোশাক পাওয়া যায়।


পোশাকের রঙ নির্বাচন


বর্ষা মানেই সবুজ প্রকৃতি। আকাশ-জমিন সব মিলে কলাপাতা, নীল, আকাশি আর ধুসর রংয়ের প্রকৃতি। তাই এই সময়ে এসব পোশাকগুলো বেশি ভালো লাগে। কাপড়ের মধ্যে পড়তে পারেন জর্জেট, শিফন, ক্রেপের শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ। ভিজলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় বলে বর্ষায় এ ধরনের কাপড় পরার জন্য উপযোগী।


মেকআপ


বেশি ভারি মেকআপ এই আবহাওয়ায় না নেওয়াই ভালো। সাজের আগে খেয়াল রাখুন, প্রসাধনী যেন ওয়াটারপ্রুফ হয়। ফাউন্ডেশনের বেইজ হিসেবে হালকা হলদে ধরনের কমপ্যাক বা ফাউন্ডেশন বেছে নিতে পারেন। এতে স্বাভাবিক ভাবটা থাকবে। পোশাকের সঙ্গে মেকআপে মিল রেখে হালকা বাদামি, কফি রং বা নীলচে আভার আইশ্যাডো লাগিয়ে নিলে অনেক বেশি সুন্দর দেখাবে। তবে রাতের বেলার অনুষ্ঠান হলে একটু গাঢ় করেই চোখটা সাজাতে পারেন।


সেক্ষেত্রে মেরুন, কফি, সবুজ, নীলচে শেইডগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এই সময় অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা এবং পেন্সিল আইলাইনার ব্যবহার করুন। তবে দিনের সাজে চোখের নিচের পাতায় আইলাইনার অথবা মাসকারা না লাগানোই ভালো। এই সময় ম্যাট বা পাউডার, ময়েশ্চারসমৃদ্ধ গোলাপি, কোরাল, ব্রোঞ্জ বা বিভিন্ন রঙের হাল্কা লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন। আবার কোন অনুষ্ঠানে গেলে এক পাশে, কানের পিছনের একটু নিচের দিকে গেঁথে দিতে পারেন বর্ষার কোনো তাজা ফুল।


আর পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয়ে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। বাইরে থেকে ভিজে ফিরলে ভেজা কাপড় সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে ফেলুন। আর পারলে তখনই পোশাকটি ধুয়ে ফেলুন। নয়তো সেই ভেজা কাপড়ে ছত্রাকের আবরণ পড়তে পারে। বর্ষায় কাপড় ভালোভাবে শুকায় না বলে দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই রোদে ঝরঝরে করে শুকিয়ে নিন। রোদ পাওয়া না গেলে বাতাসে শুকাবেন ভালো করে।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com