অতিরিক্ত চাপ নয়! কীভাবে সৃজনশীল করে তুলবেন সন্তানকে?
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৮:৫৪
অতিরিক্ত চাপ নয়! কীভাবে সৃজনশীল করে তুলবেন সন্তানকে?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

শিশুদের বেড়ে ওঠার নিজস্ব ছন্দ থাকে। সবার ক্ষেত্রে তা সমান নয়। অনেক সময় বাবা-মা অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ফেলেন সন্তানকে। তাতে শৈশবের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। আবার বাড়ির শিশুটি যদি নিজেই সব সময় হাতে রং-পেন্সিল নিয়ে ঘোরে? কিংবা খেলনা গিটার নিয়ে টুং-টাং চালায়? তবে সে দিক থেকেও মুখ ফিরিয়ে রাখা ঠিক নয়। ছোট থেকেই তাদের চারপাশে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে সেই সব গুণের বীজ পরিপূর্ণ বৃক্ষ হয়ে উঠতে পারে। আর তার জন্য বাবা-মা হিসেবে কিছু বিষয় সকলেরই মাথায় রাখা উচিত।


১। সৃজনশীলতায় আপত্তি নয়


ছবি আঁকা থেকে গান গাওয়া, সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন সন্তানকে। সন্তান কোনও ছবি আঁকলে কী ভাবে ছবিটি আরও ভাল হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করুন। গান ভালবাসলে আরও ভাল ভাল গান শোনার ব্যবস্থা করে দিন। সংগীতচর্চার সুযোগ করে দিন। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, কোনও কিছুই যেন লাগামছাড়া না হয়। নিজের ইচ্ছে সন্তানের উপর না চাপিয়ে দেওয়াই ভাল।


২। ছক ভাঙতে ভয় পাবেন না


কোনও একটি বিষয়ে সন্তানকে বেঁধে দেবেন না। যদি কয়েক দিন গান শেখার পর তার মনে হয় অন্য কিছু চেষ্টা করে দেখবে, তা হলে তা-ই করতে দিন। নতুন আগ্রহে বাধা দেবেন না। অন্য শিশুরা কী করছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সন্তানের প্রতি ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন না। সন্তানকে তার মনের মতো কাজ করতে দিন।


৩। সঙ্গ দিন


সন্তানকে কেবল নতুন নতুন জিনিস কিনে দিয়ে কিংবা প্রশিক্ষকের হাতে ছেড়ে দিলেই হবে না, সঙ্গ দেওয়াও জরুরি। অনেকেই এখন ছোটদের হাতে ল্যাপটপ বা ফোন দিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কাজের চাপে কখনও কখনও এমন হতেই পারে, কিন্তু রোজ যেন এমন না হয়। যেটুকু সময় সন্তানের সঙ্গে কাটাবেন, সেটুকুতে যেন কোনও ঘাটতি না থাকে।


৪। বাইরের পৃথিবীর ঝলক


চার দেওয়ালের মধ্যে শিশুকে আটকে রাখবেন না। বাইরের দুনিয়া না দেখলে তাদের কল্পনাশক্তির বিকাশ হবে না। সন্তানকে সৃজনশীল করে তুলতে মাঝেমাঝে ঘুরতে যান। ভ্রমণ মানেই পাহাড় বা সমুদ্র না-ও হতে পারে। পাড়ার মাঠে নিয়ে গিয়ে পাখি দেখানোর মতো সাধারণ কাজেও রঙিন হয় খুদেদের মন।


৫। শিশুর আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুন


জীবনে আনন্দ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সফল না হওয়ার পেছনে অন্যতম বাধা হলো, আমরা জীবনে আনন্দদায়ক মুহূর্ত তৈরি করার পেছনে খুব বেশি সময় দিই না। প্রতিদিন অন্তত তিনটি আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করুন। আপনি যখন অখুশি থাকেন, আপনার সৃজনশীলতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। সৃজনশীল ভাবনাগুলো আপনার ভেতরেই শেষ হয়ে যায়। আনন্দই আপনার ভেতরের সব সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।


৬। শিশুর সহজাত প্রবৃত্তির ওপর আস্থা রাখুন


আপনার শিশুর সহজাত গুণগুলোই তাকে সৃজনশীলতার পথ দেখাবে। তার ওপর বিশ্বাস রাখুন। নির্ভয়ে তার উদ্ভাবনী ভাবনাকে অনুসরণ করুন। তবেই সে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য আর অর্থ খুঁজে পাবে।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com