শিশুর বিকাশে যেসব খাবার ছোট থেকেই নিয়মিত চাই
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১৪
শিশুর বিকাশে যেসব খাবার ছোট থেকেই নিয়মিত চাই
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

অনেকেই সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য হরেক রকমের বাজারজাত পুষ্টিবর্ধক খাবার খাওয়ান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সে সবে হবে না। শিশুর বুদ্ধির বিকাশের জন্য জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস।


সাধারণত পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুর মস্তিষ্কের প্রায় সার্বিক গঠন ও বিকাশ সম্পন্ন হয়। তাই বিশেষ করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর খাদ্যযত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে যেসব খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেগুলো নিয়ে আজ আলোচনা করব। তবে, এই খাবারগুলো শিশুকে ছোট থেকেই নিয়মিত খেতে দিতে হবে।


১। ডিম ও দুধ: ডিমে থাকে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন ও অন্যান্য জরুরি পুষ্টির উপাদান। সুষম খাদ্য হিসাবেও নিয়মিত ডিম খেতে বলেন বহু পুষ্টিবিদই। বিশেষ করে ডিমে থাকে ‘কোলিন’ নামের একটি উপাদান। এই কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অন্য দিকে, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে থাকে ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে ও স্নায়ুকোষের আয়ু বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।


২। রঙিন সব্জি: টম্যাটো, রাঙা আলু, কুমড়ো কিংবা গাজরের মতো সব্জিতে ক্যারোটিনয়েড জাতীয় উপাদান থাকে। এই উপাদান একাধিক স্নায়ু ভাল রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ক্যারোটিনয়েডের জুড়ি মেলা ভার। এই সব্জিগুলি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। তা মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। খাওয়াতে পারেন বিভিন্ন ধরনের শাকও। মস্তিষ্কের বিকাশে দেশীয় ব্রাহ্মী শাক তো কার্যত কিংবদন্তি।


৩। বাদাম- রোজ অল্প করে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে শিশুকে রোজ আমন্ড খাওয়ান। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনেরাল থাকে। বাদাম খেলে শরীরে ভালো ফ্যাট যুক্ত হয়। আমন্ড খেলে স্মৃতিশক্তিও ভালো হয় আর মস্তিষ্ক ভালো কাজ করে।


৪। শিশু যদি ওভারওয়েট হয়, তা হলে তার ডায়েটে অবশ্যই ওটস রাখুন। ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন ই, জিঙ্ক ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে। এর ফলে মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে তাড়াতাড়ি। সঙ্গে হজম শক্তিও বাড়ে। একটি হেলথ ওয়েবসাইট থেকেই জানা যাচ্ছে, অন্যান্য খাবারের বদলে যে শিশুরা ছোট থেকেই ওটস খায় তারা স্কুলে পড়াশোনায় ভালো ফল করে।


৫। শিশুরা ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড ফুড খেতে ভালোবাসে। কিন্তু ডাল ভাতের মতো উপকারী কিছু নয়। পুষ্টিবিদরা ডায়েটে তাই শস্য জাতীয় অর্থাৎ ভাত, ডাল, গম, ইত্যাদি খাবার রাখতে বলছেন। এতে ফাইবার ও নানা রকমেক ভিটামিন থাকে। এতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা শিশুদের স্মৃতি শক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কে ভালো রাখে।


৬। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি, চেরি জাতীয় ফলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।


৭। স্যামন-জাতীয় তেলযুক্ত মাছ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের খুব ভালো উৎস। আমাদের ইলিশের তেলেও রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি গ্রহণ করে, তারা তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে থাকে।


৮। শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়রন শিশুকে স্কুলে মনোযোগী হতে সহায়তা করে । এ ক্ষেত্রে গরুর মাংস আয়রনের খুব ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে ।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com