কীভাবে যত্ন নিলে বছরের পর বছর সুরক্ষিত রাখা যাবে বই?
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২২, ১০:২০
কীভাবে যত্ন নিলে বছরের পর বছর সুরক্ষিত রাখা যাবে বই?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

দীর্ঘদিন পর তাক থেকে কোন বই নামিয়ে মন খারাপ হয়ে যেতে পারে। ব্যক্তিগত বই ঠিকমত সংরক্ষণ করতে কিংবা ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়ে তুলতে কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো।


ঘরের যে কোন জায়গায় বই রাখা গেলেও নিরিবিলি এবং শান্ত পরিবেশ রয়েছে এমন স্থান নির্বাচনের চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় পাঠাগারের জন্য আলাদা এটি কক্ষের ব্যবস্থা করতে পারলে। সেখানে যাতে বসে পড়ার ব্যবস্থা থাকে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।


বই রাখতে আলমারি বা বুক শেলফ তো লাগবেই। বড় তাকে ছোট বই রাখলে জায়গার অনেক অপচয় হয় তাই বইয়ের ধরন বুঝে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বুক শেলফের ব্যবস্থা করতে হবে। সরাসরি সূর্যের আলো বা তীব্র আলো ব্লিচিং বা বিরঞ্জন ক্রিয়ার জন্য দায়ী। কাজেই বইয়ে সংগ্রহশালাটি উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে রাখতে হবে।


ধূলাবালি এড়ানোর জন্য বেশি খোলামেলা কক্ষ পরিহার করা দরকার। প্রয়োজনে আলো ও ধূলাবালি এড়ানোর জন্য জানালা বন্ধ রাখতে হবে। পোকামাকড় এড়ানোর জন্য নিমপাতা, ন্যাপথালিনসহ অন্য কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে আঙ্গুলে লালা লাগিয়ে পাতা উল্টানো যাবে না।


বই পাগল পাঠকদের বই সাজাতে হয় না। বই যত বিশৃঙ্খলভাবেই থাকুক না কেন কোন বইটি কোথায় সেটা ঠিকমত জানা থাকে তার। তবু বই সাজিয়ে রাখলে ভালো। বিশেষ করে অন্যদের সুবিধা। বই বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো যেতে পারে। আবার সংগ্রহের সময় বা লেখকের নামানুসারে সাজানো যেতে পারে। বইয়ে সংগ্রহটা বড় হয়ে গেলে ক্যাটালগিং পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। ক্যাটালগিং এর সফটওয়্যার ছাড়াও কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে এ ধরনের সেবা বিনে পয়সায় পাওয়া যায়।


আমাদের অনেকেরই বইয়ের পাতা মোড়ানো বা ভাঁজ করার অভ্যাস আছে, এটা ক্ষতিকর। বাজারে আঠাযুক্ত বুকমার্ক কিনতে পাওয়া যায়, এগুলো কিংবা কাগজের টুকরো ব্যবহার করা যেতে পারে। বিছানায় শুয়ে বা আধা শোয়া অবস্থায় বই পড়লে যাতে বাঁধাই এর কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।


আরো কিছু টিপস জেনে নিবো যেভাবে যত্ন নিলে বছরের পর বছর সুরক্ষিত রাখা যাবে বই,


১) যদি বই রাখার কোনও তাক আলাদা ভাবে কিনে থাকেন, তবে তা রাখুন এমন জায়গায় যেখানে বাতাস খেলে। কিন্তু তা জানলার ধারে নয়। বরং চার দেওয়ালে ঘেরা কোনও এলাকায়। বইয়ের গায়ে সরাসরি সূর্যের তাপ যেন না পড়ে সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন।


২) এখন নানা ধরনের বইয়ের তাক হয়। তবে চেষ্টা করুন এমন কোনও তাক কিনতে, যেখানে পর পর সমান ভাবে সাজিয়ে রাখা যাবে সব বই। যত পরিচ্ছন্ন ভাবে সাজাবেন, ততই ভাল থাকে বইয়ের বাঁধন।


৩) অনেক বইয়ের উপরের দিকে একটা আলগা মলাট থাকে। জ্যাকেটের মতো। তা সরিয়ে রাখার প্রবণতা থাকে অনেকের। কিন্তু সেটি পরিয়ে রাখা ভাল। তাতে ধুলো-ময়লার থেকে খানিক রক্ষা পায় বইটি।


৪) সাজানোর সময়ে ভারী এবং বড়সড় দেখতে বইগুলিকে একেবারে নীচের তাকে রাখা ভাল। তার সঙ্গে খেয়াল রাখা জরুরি, ভিতরের কোনও পাতা মুড়ে গেল কি না।


৫) অনেক বই পোকামাকড়ের জ্বালায় নষ্ট হয়ে যায়। সাধের বইগুলি পোকামাড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বইয়ের পাতার ভাঁজে নিমপাতা রাখতে পারেন।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com