লাইসেন্সবিহীন দুধ কোম্পানির তালিকা দাখিলের নির্দেশ
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৯, ১৩:১২
লাইসেন্সবিহীন দুধ কোম্পানির তালিকা দাখিলের নির্দেশ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

লাইসেন্সবিহীন কতগুলো কোম্পানি ঢাকায় দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাত করেছে তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।


আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসটিআইকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।


বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার এ নির্দেশ দেন।


আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান (মামুন) ও দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।


আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।


এর আগে ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) করা গবেষণার স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে সংস্থার প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসী ২১ মে আদালতে হাজির হয়েছিলেন।


তার ব্যাখ্যা শুনে সারাদেশের বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্য ও পশুর খাদ্যপণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক ও সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণ ও জরিপ করে একটি তালিকা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করেতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।


বিএসটিআই বলছে, মাত্র ১৮টি প্রতিষ্ঠান পাস্তুরিত দুধ বিক্রিতে তাদের লাইসেন্স নিয়েছে।


এছাড়া দুধের সীসা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান এনএফএসএল প্রধান ডা. শাহনীলা ফেরদৌসীকে প্রতিবেদন নিয়ে কোনো প্রকার বিরক্ত না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


এদিকে আদালতের নির্দেশ মতে, ৩০৫টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে দুটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্নমানের বলে প্রতিবেদন দিয়েছে বিএসটিআই। আর নমুনা সংগ্রহ করে ৫ জায়গায় পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে একমাস সময় চেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।


আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেন। আগামী ২৩ জুনের মধ্যে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


১০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গাভির দুধ ও দইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক, সিসা!’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাভির দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও।


একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভির দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এ পণ্যেও মিলেছে সীসা।


ওই প্রতিবেদন নজরে আসার পর ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল এবং তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছিল।


৮ মে কোর্টে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, তারা ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন। কোর্ট এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিতে বলেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই মামলার শুনানি হয়।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com