জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:০৬
জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

নিরীহ পাটকলশ্রমিক জাহালমকে এক মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা দিতে ব্র্যাক ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এফ আর নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।


এর আগে মঙ্গলবার বিষয়টি রায় ঘোষণার জন্য কার্যতালিকায় ছিল। ওই দিন আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিচারপতি এফ আর নাজমুল আহসান জানতে চান, আসল আসামি আবু সালেক এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন?


দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান তখন বলেন, আশা করি সে ধরাছোঁয়ার মধ্যে আসবে। শুনেছি সে ভারতে চলে গেছে। তবে সীমান্তে জানানো আছে। ভারতেও জানানো আছে। কোভিডের কারণে কিছু দেরি হয়েছে। আশা করি ধরাছোঁয়ার মধ্যে আসবে।


দুদক এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সেটি শেষ হয়নি কেন- তাও জানতে চান বিচারক।


জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, কোভিড সিচুয়েশনের কারণে এমন হয়েছে। তবে সব প্রসিডিংস শেষের দিকে। খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, দুদকের ইতিহাসে এ রকম ঘটনা আগে ঘটেনি। আশা করি ভবিষ্যতে এ রকম আর ঘটবে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। সর্বোপরি আদালত যে রায় দেবেন সেটাই আমরা মাথা পেতে নেব।


তখন বিচারক বলেন, জাহালম যে কারাভোগ করেছেন সেটাকে যদি ফলস ইমপ্রিজনমেন্টও (মিথ্যা কারাবাস) বলি, তাহলে তো সে তার ফ্রিডম থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাহলে বলুন এক্ষেত্রে জাহালম ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন কিনা।


জবাবে খুরশীদ আলম বলেন, হ্যাঁ, জাহালম ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু সে ক্ষতিপূরণ আমাদের জন্য (দুদকের) হবে না। সেটা হবে ব্যাংকের জন্য। কারণ ব্যাংক যেসব নথি দিয়েছে, সেসব নথির সূত্র ধরে দুদক তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। তাই দায় ব্যাংককে নিতে হবে।


জাহালম ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন কিনা একই প্রশ্ন সোনালী ব্যাংকের আইনজীবীর কাছেও রাখেন বিচারক। তখন সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, দুদক আইনজীবীর বক্তব্য ‘বিভ্রান্তিকর’।


দুদক একবার বলছে, জাহালম ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন, আবার বলছেন এতে দুদকের দায় নেই, ক্ষতিপূরণ দুদক দেবে না। আবার বলছেন ব্যাংকের কথা। ব্যাংক কিন্তু জাহালমের নাম কোথাও বলেনি। দুদক আবু সালেহের পর ‘ওরফে’ দিয়ে জাহালমের নাম যুক্ত করেছে।


তখন দুদকের আইনজীবী বলেন, আমি আমার বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর কিছু উপস্থাপন করিনি। আদালতের কাছে আমাদের যুক্তি তুলে ধরেছি। এ পর্যায়ে সোনালী ব্যাংকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, তাহলে কেন সোনালী ব্যাংক তার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল? তখন আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়েছে ব্যাংকিং ক্ষেত্রে তাদের অবহেলার কারণে।


এখানে জাহালম ইস্যুতে ব্যাংকের কোনো দায় নেই। তাই ক্ষতিপূরণ সোনালী ব্যাংকের ওপর বর্তায় না। তবে আমি মনে করি জাহালম ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান এরপর বলেন, ঠিক আছে, আপনাদের বক্তব্য শুনলাম। কাল দুপুর ২টায় রায় ঘোষণা।


বিবার্তা/আবদাল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com