বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী: ড. আরেফিন সিদ্দিক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:২৮
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী: ড. আরেফিন সিদ্দিক
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এদেশকে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তাঁরই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেই পথে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান অসামান্য। আমরা দেখেছি, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অর্থাৎ ১৯৭৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো শিক্ষানীতি ছিল না। এরপর ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে একটি শিক্ষানীতি উপহার দিয়েছে। আর সেই শিক্ষানীতি আলোকে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলেছে। কাজেই শিক্ষা ক্ষেত্রে নানামুখী ভূমিকার কারণে শেখ হাসিনাকে আমরা শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী বলতেই পারি।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে শিক্ষা নিয়ে তাঁর অবদানের কথা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবু আহসান মো. সামসুল আরেফিন সিদ্দিক বিবার্তা২৪ডটনেটকে এসব কথা বলেন। যিনি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক নামে সমধিক পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথিতযশা এই অধ্যাপক বর্তমানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর পরিচালনা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান।


শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা উল্লেখ বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্বে আসার পর থেকে শিক্ষাকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর হয়নি। বঙ্গবন্ধু শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করেছিলেন, একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিলেন প্রাথমিক পর্যায়ে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করা হয়। তারপর থেকে শিক্ষাকে নানা ভাবে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে শিক্ষা সম্প্রসারণে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটার গতিও এখন অনেক বেশি। পৃথিবী খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আর পৃথিবী যে এগিয়ে চলেছে তার পিছনে কাজ করে জ্ঞান এবং শিক্ষা। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা সরকার শিক্ষার সম্প্রসারণের সাথে সাথে মানুষের কর্মসংস্থান ‍বৃদ্ধিসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে।


ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের যে বাংলাদেশ ছিল, সেখানে তিনি যে শিক্ষাব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন সেটি ড. কুদরত-ই খুদা কমিশনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। যদিও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে ড. কুদরত-ই খুদা কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর হাতে এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। সেখানে ২৫০ এর অধিক সুপারিশ ছিল। সেই সুপারিশগুলো যদি বাস্তবায়ন তখন করা যেত, তাহলে আজকে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক উপরে চলে যেত। সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।


কারণ, আজকে যারা পৃথিবীতে উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃত, তারা আসলেই শিক্ষায় উন্নত। আর এ বিষটি ধারণ করে শেখ হাসিনা ২০১০ সালে একটি শিক্ষানীতি দিয়েছেন। সেখানে কিছু কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে। আগামী বছর থেকে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলার নিয়ে কোন বিভাজন থাকবেন না। সবাইকে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীতে তারা আবার বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলা নিয়ে অর্থাৎ বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবে। এই শিক্ষা ব্যবস্থাটা কিন্তু আধুনিক বিশ্বে মডেল।



প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন এবং বক্তৃতা করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে যারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত তাদেরকে কীভাবে শিক্ষা দেয়া যায়, সেই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ট্রান্সফরমিং এডুকেশন সামিট নামে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করেছিলেন। সেখানেও অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের শিশুদের তিনি বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা করেছেন। সেই অনুযায়ী পাঠক্রমে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হবে।



এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আয়োজিত ট্রান্সফরমেটিভ সল্যুশন্স বাই উইমেন লিডারস টু টুডেইজ ইন্টারলিংকড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ৩২টি দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬ জনকে বিশেষ ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাম পাশে বসে বক্তব্য দিয়েছেন। গণমাধ্যমের কল্যাণে এটা দেখলাম। তিনি সেখানে বলেছেন, বাংলাদেশের নারী শিক্ষার উন্নয়নে তিনি কী কাজ করেছেন আর ভবিষ্যতে নারীদের উন্নয়নে কী করণীয়, সেই বিষয়েও তিনি বিস্তারিত বলেছেন।


শিক্ষাক্ষেত্রে শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার প্রসঙ্গ টেনে ঢাবির সাবেক এই উপাচার্য বলেন, আমরা দেখেছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত যাতে পরীক্ষা না নেয়া হয়, সেই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা জানি যে, উন্নত অনেক দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা পদ্ধতি থাকে না। তাদেরকে শ্রেণি কক্ষে মূল্যায়ন করা হয় অর্থাৎ তাদের পাঠক্রমের মধ্যে মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকে। এই যে নতুন নতুন চিন্তাগুলো তিনি করছেন, সেখান থেকে নানা যুগান্তকারী কিছু বের হয়ে আসছে।


তিনি বলেন, আমাদের দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার সাথে সাথে উচ্চ শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য তিনি প্রত্যেকটি জেলায় জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনুমোদন দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে দিয়ে চলেছেন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েদের আবাসিক সুবিধার জন্য বড় বড় বাজেট বরাদ্দ করছেন, যাতে করে বড় হল কিংবা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা যায়। ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের উদ্যোগে হওয়া নানামুখী বৃত্তি পেয়ে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে নানা জায়গায় পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে।


নারী শিক্ষার অগ্রগতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ করে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব বিশাল । ১৬ কোটি মানুষের দেশে নানা সংকট আছে। এ সংকটের মাঝেও তিনি সবসময় শিক্ষাকে নিয়ে চিন্তা করেন। শুধু তাই নয়, শিক্ষার বিস্তার ও প্রসার ঘটানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মেয়েরা যে পিছিয়ে আছে, সেটা নিয়েও তিনি অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে বাংলাদেশে ছেলে ও মেয়েদের যে অনুপাত তা প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে চলে এসেছে অর্থাৎ শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েরা খুব একটা পিছিয়ে নেই। উচ্চ শিক্ষায় মেয়েরা ভালো ফলাফলও করছে। চাকরির ক্ষেত্রেও মেয়েরা অনেক দূর এগিয়েছে। এ সবই শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল।


তিনি বলেন,পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ হচ্ছেন নারী। কাজেই নারীদের উন্নয়ন ছাড়া পৃথিবী এগিয়ে যেতে পারে না। এ পৃথিবীকে শান্তি ও সমৃদ্ধ করার জন্য শিক্ষাই একমাত্র অস্ত্র। শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। এ বিষয়টি তিনি দেশবাসীকে বারবার বলেই চলেছেন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আমি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে থাকার কারণে কয়েকবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। সেখানে তিনি সবসময় বলেছেন, উচ্চতর শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি।


প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেটি সুদূরপ্রসারী । শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁকে অভিনন্দন, শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও অভিবাদন জানাই। আমি আশা করি তিনি দীর্ঘজীবী হয়ে সুস্থ সবল থেকে এ দেশের মানুষকে আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করবেন। কেউ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না, শেখ হাসিনার জন্মদিনে এটাই আমার ভাবনা ।


উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


বিবার্তা/রাসেল/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com