‘ফ্রিল্যান্সিংয়ে রয়েছে অসীম সম্ভাবনা’
প্রকাশ : ২০ মে ২০২২, ০৮:০০
‘ফ্রিল্যান্সিংয়ে রয়েছে অসীম সম্ভাবনা’
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

মো. ইকরাম। অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে হাতেখড়ি ২০০৪ সালে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর। চাকরির আশায় না ঘুরে নিজ উদ্যোগে কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই শুরু করেছিলেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার। দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের প্রশিক্ষণ কাজে যুক্ত আছেন ২০১২ সাল থেকে।


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পরিচালিত ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের বই সম্পর্কিত অন্যতম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বইবাজার.কম-এর প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশীয় ই-কমার্স সেক্টরের শিখরে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার অনলাইনে এসইও-এর প্রধান, ক্রিয়েটিভ আইটির প্রজেক্ট ম্যানেজার, বিলিভ আইটির সিনিয়র ম্যানেজার এবং বিআইজেইএম-এর আইটি অ্যাডমিনেস্টেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার নিয়ে লিখেছেন পাঁচখানা বই। তিনি বাংলাদেশের একজন সফল আইটি ব্লগার এবং অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল মার্কেটার। সারাদেশে বহু সফল ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে ভূমিকা রাখায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩০ হাজারের বেশি ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে তার ভূমিকা রয়েছে, যার জন্য ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটিতে তাকে ‘ফ্রিল্যান্সিং গুরু’ সম্বোধন করা হয়। বর্তমানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে নিজ উদ্যোগে ‘কনটেন্ট কিং’ নামে বিশেষ ট্রেনিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন। তাছাড়া ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দেশের বাইরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন।


সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের সাথে কথা বলেন দেশের শীর্ষ এই ডিজিটাল মার্কেটার ও সফল ফ্রিল্যান্সার মো. ইকরাম। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সাথে। আলাপের চুম্বক অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হল।


বিবার্তা: ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কতদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ?


মো. ইকরাম: দেখুন, আজ থেকে ১৫ বছর আগে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টাই অনেকে বুঝতেন না। আমরা যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছি, তখন এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা ছিল না বলে অনেকে এটা নিয়ে হাসিঠাট্টা করতেন। যদি বলতাম ফ্রিল্যান্সিং করি, তখন বলতেন- আর কি কর? মানে ঘরে বসে ইন্টারনেট ও ল্যাপটপে কাজ করে টাকা কামানো যায় এবং এটা দিয়ে অন্য পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যায়, এটা বুঝতে চাইতেন না মানুষ। তখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি নেতিবাচক ধারণা ছিল। সময়ের সাথে সাথে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কারণে মানুষের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ফ্রিল্যান্সিং করার প্রতি উৎসাহিত করেন। সারাদেশে সরকারি উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পর দেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এখানে অনেকে ভাল ইনকাম করছেন। যারা ভালো ইনকাম করছেন তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতিও দেয়া হচ্ছে। দেশের টপরেটেড ফ্রিল্যান্সারদের আয় অনেক বেশি। এই আয়ের ফলে দেশের রেভিনিউও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায় ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর অনেক দূর এগিয়েছে।


বিবার্তা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো কি কি?


মো. ইকরাম: বাংলাদেশের অনেকগুলো ইতিবাচক দিক রয়েছে। প্রথমত, টাইম জোনের দিক থেকে বাংলাদেশ ভৌগলিকগত ভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেসব দেশ তাদের কাজ করানোর জন্য অন্যান্য দেশের উপর নির্ভর করে তাদের অন্যতম আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান। এসব দেশের কাজগুলো সাধারণত বাংলাদেশের মতো দেশগুলো দিয়ে করিয়ে নেয়। কেননা বাংলাদেশে কম টাকায় বেশি কাজ করানো যায়। আমেরিকা সাথে বাংলাদেশের সময়ে পার্থক্য ১২ ঘণ্টা। আমেরিকাতে যখন সকাল, বাংলাদেশে রাত। ওই দেশের ক্লায়েন্টরা আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে রাতে কাজ করিয়ে নেয়। তাই ফ্রিল্যান্সাররা সারারাত কাজ করে চাইলে দিনেও কাজ করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের উন্নত দেশের তুলনায় এখানে শ্রমের মূল্য কম। আমেরিকায় এক ঘণ্টার একটা কাজ করাতে যেখানে ৫০ ডলার দিতে হয়, সেখানে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১০-২০ ডলারে কাজটা করিয়ে নিতে পারে। তৃতীয়ত, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের চালিকা শক্তি তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি শিক্ষিত বেকার তরুণ রয়েছে। তাদের মধ্যে যারা বিচক্ষণ তাদের কিছু অংশ চাকরির জন্য না ঘুরে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। চতুর্থত, আশার কথা হলো, সরকার এই খাতকে ধীরে ধীরে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে আর সেগুলো বাস্তবায়নও করছে।



বিবার্তা: ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?


মো. ইকরাম: আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি সবার আগ্রহ রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে আগ্রহী হন, তাহলে তাকে আলাদাভাবে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। দেশে ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য যেসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই মানসম্পন্ন নয়। প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু দক্ষ প্রশিক্ষক নেই। হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশির ভাগেরই সরকারি অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন কোন কোর্স কারিকুলাম নেই। থিউরিটিক্যাল ক্লাসের পর প্রাকটিক্যালের জন্য সুযোগ-সুবিধা থাকে না। শিক্ষার্থীদের কোনরকমে কোর্স করিয়ে, সার্টিফিকেট দিয়েই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শেষ। একজন তরুণ ফ্রিল্যান্সারকে অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাদের ওইসব সমস্যার সমাধানে মেন্টর পাওয়া যায় না। কোন স্বপ্নবাজ তরুণ যাতে এইসব পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, তাই প্রত্যোকটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে হতে হবে প্রফেশনাল। সেসাথে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ইনকামের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থী যাতে সহযোগিতা পায়, প্রতিষ্ঠানকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। একটা ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো ফ্রিল্যান্সার বের হবে, এটাই স্বাভাবিক।


বিবার্তা: উন্নত বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন?


মো. ইকরাম: ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের হিসেব অনুযায়ী আমরা ভালো অবস্থানেই আছি। সারাবিশ্বে আমাদের অবস্থান অনেকটা এগিয়ে। আমাদের দেশে এখন অনেক এপ্লাস+ গ্রেটের ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশের মানুষের ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা বদলেছে।


তবে একটা বিষয় আমার চোখে পড়েছে সেটা হলো, আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা ছোট ছোট কাজগুলোতে দক্ষ হওয়াকেই টার্গেট করছে। বায়াররাও আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সারদের ছোট কাজগুলোতেই হায়ার করছে। ফলে বড় কাজগুলোও যে বাংলাদেশে করা সম্ভব, সেটা তাদেরকে বুঝাতে কষ্ট হয়ে যায়। তবে এটা বলব, দিন দিন আমরা উন্নতি করছি ।


বিবার্তা: বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা কত?


মো. ইকরাম: এটার সঠিক সংখ্যা আসলে বলা মুশকিল। সরকারি হিসেব মতে সাড়ে ৬ লাখ। এটা আসল ফিগার না। কারণ, এ সংখ্যাটা বলা হচ্ছে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশীদের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দেখে। অনেকেই অ্যাকাউন্ট খুলছে। তার মধ্যে হয়ত ২৫% কাজ পাচ্ছে। আর নিয়মিত কাজ করছে এ সংখ্যাটা ১৫% এর বেশি হওয়ার কথা না। আবার অনেকে মার্কেটপ্লেসের বাইরে গিয়ে প্রচুর কাজ করছে, যাদের হিসেবটা কারও কাছে নাই।



বিবার্তা: আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিংকে এখনও পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি কেন?


মো. ইকরাম : আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আগের স্টেজ হচ্ছে যারা ফ্রিল্যান্সিং করছে, তাদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টার পরিব্যাপ্তি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিতে হবে। অনেকেই আছে ৪-৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে চাকরি করছেন। তারা এ চাকরির জন্য কিন্তু মার্কেটপ্লেসের দ্বারস্থ হননি। জব সাইট, কোনো ফোরাম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর সহযোগিতা নিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। সেই ছেলেটি যে মাস শেষে নিশ্চিতভাবে স্যালারি পাচ্ছেন, ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সেই পরিবারের কোনো সমস্যা নাই। আমরা কাজ খোঁজার গণ্ডিটাকে অনেক ছোট করে ফেলেছি। সেজন্য সব সময় হাতে কাজ থাকছে না। তখন বেকার থাকতে হচ্ছে। তাই এটা পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি এখনো।


বিবার্তা: একজন তরুণ ফ্রিল্যান্সিংকে কেন বেছে নেবেন?


মো. ইকরাম : বড় কথা হলো- যুগের চাহিদা। যুগের চাহিদায় আপনি যোগাযোগ করছেন মোবাইলে কিংবা স্কাইপের মাধ্যমে। এটাই যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। এ সহজ মাধ্যমটা আসার পর প্রশ্ন হবে, চিঠি দিয়ে আপনি কেন যোগাযোগ করবেন। ঠিক একইভাবে, সারাবিশ্বে এত এত জব রয়েছে অনলাইনে। তার জন্য বিদেশ যেতে হচ্ছে না, পরিবার ছাড়তে হচ্ছে না। প্রযুক্তির কারণে এত সুন্দর সুযোগ তৈরি হওয়ার পরও কেন আপনি বেকার থাকবেন, কেন পরিবার ছেড়ে দূরে গিয়ে চাকরি করবেন?


খুব স্বল্প সময়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বেকারত্বের অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঘরে বসেই বিদেশে না গিয়ে ভালো ইনকাম করা যায়। অথচ বিদেশের যাওয়ার জন্য যে খরচ, সে খরচ ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য করতে হচ্ছে না। অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। পরিবারকে সময় দিয়েই কাজটা করা যায়, ঘুরতে গিয়েও কাজ করা যায়। তাই তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিংকে টার্গেট করলেই সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে সক্ষম হবেন।



বিবার্তা: একজন ফ্রিল্যান্সারের মাসিক আয় কত হতে পারে?


মো. ইকরাম: এটা আসলে নির্দিষ্ট করে বলাটা খুব কঠিন। এক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গিটাই আপনার ইনকামের পরিমাপক হতে পারে। আপনি মার্কেটপ্লেসে হয়ত লোগো ডিজাইনের কাজ করছেন। এ কাজ করেই ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম করছেন। কিন্তু যদি এ ডিজাইন স্কিল দিয়ে টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশনের কাজ করেন, সেক্ষেত্রে ইনকাম ৪-৫ লাখ কিংবা ১০-১২ লাখ টাকাও হতে পারে। আবার যারা অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েশনসহ অন্যান্য অ্যাফিলিয়েশন কিংবা সিপিএ নিয়ে কাজ করেন, তাদের ইনকাম ১ লাখ হতে ২০ লাখ বা এরও বেশি হতে পারে। তবে শুরুতে এত বড় স্বপ্ন না দেখাই ভালো। ছোট দিয়েই শুরুটা করতে হবে। প্রতিটা ধাপ দেখে দেখে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে, ২-৩ বছর পর যাতে বড় ইনকামকে টার্গেট করে কাজ করা সম্ভব হয়।


বিবার্তা: এ পেশার নিশ্চয়তা কতটুকু বলে মনে করেন?


মো. ইকরাম: অন্যান্য যে কোনো পেশার মতোই অনিশ্চয়তা এ পেশাতেও রয়েছে। যে কোনো পেশাতেই যেরকম ফ্রেশারদের জন্য খুবই অনিশ্চয়তা, একইভাবে ফ্রিল্যান্সিংয়েও শুরুর দিকে অনিশ্চয়তা। আপনি যদি নিজেকে প্রতিনিয়ত বাজার ডিমান্ড অনুযায়ি আরও আপডেট করতে থাকেন, তাহলে অবশ্যই একটা পর্যায়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। স্কিল ডেভেলপে তাই সর্বদা সময় দিতেই হবে।


বিবার্তা: জেনেছি ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যানিসং নিয়ে আপনার ৫টি বই রয়েছে। বইগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।


মো. ইকরাম: ‘ফ্রিল্যান্সিং গুরু: অনলাইন ইনকামের চাবিকাঠি’ ফ্রিল্যান্সার তৈরির জন্য আমার লেখা এ বইটি ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে। তরুণ ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য ‘ফেসবুক মার্কেটিং কম খরচে বেশি আয়ের উপায়’ বইটি লিখেছি। যারা ফেসবুক মার্কেটিং শিখে উদ্যোক্তা হিসেবে কিংবা দেশীয় কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান কিংবা ফেসবুক মার্কেটার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাদের জন্য এ বই। ‘উদ্যোক্তাপিডিয়া, স্বপ্নপূরনের সিড়ি’ উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য এ টু জেড গাইডলাইন নিয়ে এ বইটি লেখা হয়েছে। ‘১০০ গ্রেট মার্কেটিং আইডিয়া’ এটি একটি অনুবাদ বই। ‘হালাল ব্যবসা ও হালাল অর্থনীতির কথকতা’ এ বইটিতে যৌথভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শীর্ষস্থানীয়দের লেখা ও আমার নিজের লেখা নিয়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।



বিবার্তা: কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


মো. ইকরাম: আগামী ১০ বছর পর হয়ত সব অফিস আদালতের কাজ ভার্চুয়ালি হবে। উন্নত দেশের বেশির ভাগ কাজই ভার্চুয়ালি হয়। তাদের কাজও আমাদের মতো উন্নয়শীল দেশের মাধ্যমে করিয়ে নেয়। করোনা পরবর্তীতে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক যে ধ্বস চলছে, সেটি কাটিয়ে উঠতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ডেস্কের লোক কমিয়ে কম খরচে অনলাইন ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে কাজ তুলে নিচ্ছেন। তাই ফ্রিল্যান্সিং কাজের ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। আমাদের দেশের তরুণরা অনেক মেধাবি। তারা যদি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে গুরুত্ব দেন, তাহলে আমাদের দেশ বেকার মুক্ত হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি চাই সবাই মেধা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোক- দেশকে বেকার মুক্ত করুক।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com