‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা এগিয়ে যাবে’
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২২, ১৩:৪৯
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা এগিয়ে যাবে’
মো. তাওহিদুল ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

বঙ্গবন্ধুর চাওয়া এবং প্রত্যাশাই ছিলো প্রকৃত বাঙালির চাওয়া। এই উপলব্ধি থেকেই কিন্তু দেশের মানুষ জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসীন করেছেন। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যাই পারেন তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে। নেত্রীর নির্দেশে আমরাও সেই অভিষ্ট লক্ষ্যে ধাবমান। কথাগুলো বলেছেন রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক।


সাখাওয়াত হোসেন শফিকের রাজনীতির হাতেখড়ি বগুড়া আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের হাত ধরে। ছিলেন বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। এরপর ভর্তি হন রাজশাহী বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে রাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৭ সালে কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।


বিএনপি-জামাত জোট আমলে রাবি ক্যাম্পাসে শিবিরের হাতে একাধিকবার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। ঢাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। দুইবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও একবার সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন।


আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে তাকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। দেড় বছর তিনি সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রংপুর বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন।


রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বিবার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক মো. তাওহিদুল ইসলাম।



বিবার্তা: আপনাকে রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়ার পর কার্যক্রম কেমন চলছে?


সাখাওয়াত হোসেন শফিক: আমি প্রথমেই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ আওয়ামী লীগের বিগত কাউন্সিলে নেত্রী আমাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য আবারো বিশেষভাবে নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার প্রতি যে আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে নেত্রী আমাকে যে পদ দিয়েছেন, আমি তাঁর আস্থা এবং বিশ্বাস অক্ষুন্ন রেখে কাজ করে যাচ্ছি।


রংপুর বিভাগের কার্যক্রম ইনশাল্লাহ বেশ ভালোই চলছে। আমরা চেষ্টা করতেছি করোনায় আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিলো তা কাটিয়ে ওঠার। নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে মাননীয় নেত্রীর নির্দেশনায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির পুনঃগঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটা জেলা এবং উপজেলার সফল সম্মেলন করেছি। আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত সম্মেলন বলতে আমরা বুঝি একটি উৎসবমুখর আনন্দমেলা, নেতা-কর্মীদের একটি মহা-মিলনমেলা। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই আওয়ামী লীগের মূল চালিকা শক্তি। তাদের মনের কথা, অভিযোগ, দাবি আমরা ধৈর্য ধরে শুনে সেগুলা সমাধানের চেষ্টা করি, সম্মেলনের মাধ্যমে।



বিবার্তা: রংপুর বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?


সাখাওয়াত হোসেন শফিক: যেকোনো কাজ করতে গেলেই কিছু না কিছু সমস্যা প্রতিবন্ধকতা আসবেই। কিন্তু বিষয়টা হলো আমরা প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে উঠতে পারব নাকি থমকে দাঁড়াবো। দায়িত্ব পাওয়ার এক বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু করোনার প্রকোপ মোকাবেলা করতে গিয়ে আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছিলো। আমরা তখন মাননীয় নেত্রীর নির্দেশনায় রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিকল্প হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। করোনার সময় আমাদের মূল কর্মসূচিই ছিলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। করোনা পরিস্থিতি আমরা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছি। আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম এখন চলমান আছে। রমজানের পরে পুরোদমে শুরু হবে আবার।


বিভিন্ন কারণে রংপুর বিভাগ বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যন্ত অবহেলিত জনপদ হিসেবে এক সময় চিহ্নিত ছিলো। বিশেষ করে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বেশ কিছু উপজেলা আছে যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জনপদ হিসেবে চিহ্নিত ছিলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্যের সমবন্টনের সরকার পরিচালনার মিশন এবং ভিশনে রংপুর অবহেলিত জনপদ এখন অনেকটাই সমৃদ্ধ। এটা আওয়ামী লীগ সরকারের যেমন সফলতা তেমনি রাজনৈতিকভাবেও মাননীয় নেত্রী সফলতার রাস্তায় আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। আমরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি, তাই আওয়ামী লীগ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আগের মতো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নেই। একইভাবে সারাদেশে নেতা কর্মীদের মতো রংপুর বিভাগের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও প্রযুক্তির কারণে তারাও এখন সার্বক্ষণিক কেন্দ্রে আমাদের সাথে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।



বিবার্তা: রংপুর বিভাগের সমস্যা উত্তরণের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?


সাখাওয়াত হোসেন শফিক: করোনার প্রকোপ কমার পরে আমরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাননীয় নেত্রীর নির্দেশে অনেকটাই স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের যেসব এলাকার কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছিলো, সেসব এলাকায় আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমিটি পুনঃগঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলার কাউন্সিল সম্পন্ন করে আমরা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি করে ফেলেছি। গাইবান্ধা জেলার চারটি উপজেলার সম্মেলন আমরা গত মাসে শেষ করেছি। আরো চারটি উপজেলা রয়েছে যার সম্মেলনের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছিলো। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১০দিনব্যাপী ‘হৃদয়ে পিতৃভূমি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংঠনসহ সেখানে আমরা অতিথি থাকার কারণে সম্মেলনের তারিখ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি। রোজার পরেই সম্মেলনের কাজ শুরু করবো।


বিবার্তা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দলের পরিকল্পনা এবং আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?


সাখাওয়াত হোসেন শফিক: আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছিলো। তখনই ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। সেই তলাবিহীন ঝুঁড়ি থেকে আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কাণ্ডারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় বসিয়েছেন। জনগণের ভোটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরপর তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন আছেন। এ কারণে আজ বাংলাদেশ মাদক মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত ও ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত দেশ।


আজ জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের দরবারে এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সমাদৃত। মাননীয় নেত্রীর নির্দেশনায় আওয়ামী লীগে আমরা যারা দায়িত্ব পালন করছি- আমাদের কাছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে নেত্রীর ভিশন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।


বিবার্তা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রংপুর বিভাগে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়েও অনেকে নির্বাচন করেছে। অনেকে জয়যুক্তও হয়েছেন। সেসব বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও কাজ করছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদেরে বিরুদ্ধে কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?


সাখাওয়াত হোসেন শফিক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশে প্রচীনতম এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন হওয়ার কারণে এই দলের দরজা সকলের জন্য উম্মুক্ত। যার কারণে আমাদের নেতাকর্মীদের ভীড়ের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী, সুযোগ সন্ধানীরা ঢুকতেই পারে। এটা অযৌক্তিক কিছু না। মাননীয় নেত্রী বিষয়টিকে উপলব্ধি করেছেন। আওয়ামী লীগ শুদ্ধ করার জন্য মাননীয় নেত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি।



তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত রাখার জন্যই আমরা বেশকিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করেছি। রংপুর বিভাগে ৩১ মার্চ চিহ্নিত রাজাকার পরিবারের সদস্য ফ্রিডম পার্টির নীলফামারির ডোমার উপজেলায় তৎকালীন জাতীয় সংসদে কুড়াল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছিলো নূরুন্নবী দুলাল। ফ্রিডম পার্টি বলতেই আমরা জানি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক রশীদের দল। সেই সময় নির্বাচনে ওই নূরুন্নবী দুলালের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করছিলো ডোমার উপজেলা এক ব্যক্তি। যাচাই বাছাই করতে গিয়ে থলের বিড়ল বেরিয়ে এসেছে। তখন সেখানকার স্থানীয় কারো না কারো আশ্রয়ে পরবর্তীতে সেই কুড়াল মার্কার লোক জাসদের সাথে জড়িত হয়ে এক সময় আওয়ামী লীগের নেতা বনে যায়। এমনকি সে ডোমার উপজেলার সাধারণ সম্পাদক পদেও সে আসীন হয়ে যায়। এটি হলো আমাদের জন্য চরম দুর্ভাগ্য। বিভিন্নভাবে আজকে তারা বিভিন্ন জায়গায় ঢুকে পরেত্যাগী যোগ্য নেতাকর্মীদের মধ্যে ফাটল ধরিয়ে আমাদের শিকড় কাটতে ও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বসে আছে। এটিই কিন্তু মাননীয় নেত্রী আমাদের চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যার প্রমাণ বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাননীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেকেই নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন। তারা কারা, তারা কোন সাহসে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলো। তাদের তালিকা তৈরি করতে মাননীয় নেত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।


বিবার্তা: ভবিষ্যত প্রজন্ম নিয়ে আপনার ভাবনা কী?


সাখাওয়াত হোসেন শফিক: ভবিষ্যত প্রজন্ম নিয়ে আমরা সেই বাংলাদেশেরই স্বপ্ন দেখতে চাই, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বাঙালি জাতির মহানায়ক আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আমাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘদিন এই উপমহাদেশে তৎকালীন সময়ে যে বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি যিনি অবলোকন করেছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই জাতি বা ভূখণ্ডে মুক্তির নিশানা নিয়ে যিনি আজীবন তার পরিবার পরিজনকে সময় না দিয়ে এই দেশের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। সেই জাতির পিতার স্বপ্নের মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে লাল সবুজের ভূখণ্ড রচিত হয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নিয়ে তার স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ যাতে আমরা আগামীতে সত্যিকারের বাস্তবায়ন ঘটাতে পারি। আগামী প্রজন্ম যেনো কোনো অবস্থাতেই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে পরাজিত না হয়। নতুন প্রজন্ম ঘর থেকে বের হয়ে তারা নির্ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের শিক্ষা জীবন জাতির জন্য, দেশের জন্য তাদের সর্বোচ্চ মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে এই জাতি এই দেশকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।



বিবার্তা: জাতির পিতা যে সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশ কী সেই পথেই হাঁটছে?


সাখাওয়াত হোসেন শফিক: জাতির পিতা যে সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়তে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের হারিয়েছি। অনেক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টে যখন এই বাংলার স্বাধীন সার্বভৌম ভূমিতেই যে মানুষটির মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয় তাকেই জীবন দিতে হয়। কাজেই সেই আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীরা দীর্ঘদিন তাদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাঠ্যসূচি থেকে বাংলা এবং বাঙালির প্রকৃত ইতিহাস মুছে দিয়েছিলো। ইতিহাস জানতে দেয়া হয়নি নতুন প্রজন্মক। এ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে তরুণ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছিলো। ষড়যন্ত্রের পরবর্তীতে জাতি যখন অনুধাবন করলো বঙ্গবন্ধুই তাদের প্রকৃত আদর্শিক নেতা। বঙ্গবন্ধুর চাওয়া এবং প্রত্যাশাই ছিলো প্রকৃত বাঙালির চাওয়া। এই উপলব্ধি থেকেই কিন্তু দেশের মানুষ তারই কন্যা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসীন করেছেন। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যাই পারেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। মাননীয় নেত্রীর নেতৃত্বেই জাতির পিতার স্বপ্নে বাংলা এগিয়ে যাবে। আমরাও নেত্রীর নির্দেশনায় সেই অভিষ্ট লক্ষ্যে ধাবমান।


বিবার্তা/তাওহিদ/রোমেল/আশিক

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com