তীব্র খরার কবলে ইউরোপের ১৫ শতাংশ এলাকা, রেড অ্যালার্ট জারি
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২২, ১৭:১২
তীব্র খরার কবলে ইউরোপের ১৫ শতাংশ এলাকা, রেড অ্যালার্ট জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

তীব্র খরার কবলে পড়েছে ইউরোপ। ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে বাড়িঘর, কারখানা, কৃষক এবং মালামাল পরিবহনের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি পানির ঘাটতি ‘স্বাভাবিক এক পরিস্থিতি’ হয়ে উঠবে, এই জন্য সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।


জানা গেছে, ইউরোপের ৪৫ শতাংশ অঞ্চল জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই খরার সতর্কতার অধীনে ছিল। ১৫ শতাংশ এলাকায় ইতিমধ্যেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন একাধিক অঞ্চলে ‘সংকটজনক’ পরিস্থিতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।


তীব্রতম খরার কবলে পড়েছে ফ্রান্স। দেশটি ১৯৫৮ সালে রেকর্ড উষ্ণতার পর এমন খরা এই প্রথম প্রত্যক্ষ করলো। ১০০টিরও বেশি ফরাসি পৌরসভায় লাইনে পানির সরবরাহ নেই। ট্রাক দ্বারা বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের এই ধরনের পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত হতে হবে। এটি এখন একটি বাধ্যবাধকতা বলা চলে।


স্পেনও এমন সংকটের মুখে। দেশটিতে ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ অঞ্চলে ব্যক্তিগতভাবে পানি সংগ্রহের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। সরকারিভাবে যা যোগান দেয়া হচ্ছে তা জনগণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েছে লোকজন। কৃষকরা সেচের পানি না পাওয়ায় ফসল মারা যাচ্ছে। কিংবা ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।


একই অবস্থা জার্মানিতেও, সেখানে পানির মজুত সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পানির জন্য ৪০ শতাংশ বর্ধিত খরচ করতে হচ্ছে তাদের। সেখানে বাষ্পীভবন সপ্তাহে দেড় শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের মতে, এটি গত ৬০ সালের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক পরিস্থিতি। দেশটি গত ৩ মাস ধরে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের অর্ধেকেরও কম পেয়েছে।


আর্জেন্টিনায় মহামারি পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু অনেক শহরে প্রয়োজনের ১০ শতাংশ পানিও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি শীঘ্রই বৃষ্টিপাত না হয় এবং কোনো পূর্বাভাস না থাকে তবে আরো বড় ধরনের খারাপ পরিস্হিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে তাদের।


এই বছরটি ইতালির আবহাওয়াও রেকর্ড উষ্ণ হয়ে উঠবে। ইতালীয় আবহাওয়া সমিতির সভাপতি লুকা মেরকালি এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, গত ২৩০ বছরের কোনো অনুরূপ তথ্যের সঙ্গে আমরা এই বছর যে খরা এবং তাপ অনুভব করছি তার সঙ্গে তুলনা হয় না। তীব্র খরায় ভুগছে যুক্তরাজ্যও। সেখানেও কৃষিকাজ মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডে খরার কারণে দুগ্ধ শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রাইবার্গ, জুরা এবং নিউচ্যাটেলের কর্তৃপক্ষকে উপত্যকার তৃণভূমি খুলতে হয়েছে যা সাধারণত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোচারণে ব্যবহূত হয় না। কারণ পাহাড়ে ওপরে চারণভূমি খুব শুষ্ক থাকে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


বিবার্তা/এসএফ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com