শরণার্থী ঠেকাতে ইংলিশ চ্যানেলে বিমান পাহারার উদ্যোগ
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৩:৫৪
শরণার্থী ঠেকাতে ইংলিশ চ্যানেলে বিমান পাহারার উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সকে বিভক্তকারী ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবিতে সম্প্রতি ২৭ শরণার্থীর প্রাণহানি হয়েছে।গত বুধবারের সেই ঘটনায় প্রাণ হারানো শরণার্থীদের ১৭ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং তিন জন শিশু। শরণার্থী মৃত্যু নিয়ে এরপরই ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের মধ্যে পত্রযুদ্ধ শুরু হয়।এছাড়া জরুরি বৈঠকে ইংলিশ চ্যানেলে টহলদারি বিমানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্রনটেক্স বিমান দিন-রাত সেখানে টহল দেবে। ডয়চে ভেলে।


গত বুধবারের নৌকাডুবির ওই ঘটনার আগে ইংলিশ চ্যানেলে এতো বড় দুর্ঘটনা আগে হয়নি। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনার ডাক দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনের কথা জানায়।


রবিবারের বৈঠকে জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলেরও যোগ দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাজ্য বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করে। এর মূল কারণ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে লেখা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের খোলা চিঠি।


চিঠিতে এই দুর্ঘটনার জন্য কার্যত ফ্রান্সকেই এককভাবে দোষী করেছেন বরিস। দুইপাতার চিঠিতে ইংলিশ চ্যানেলে শরণার্থীদের যাতায়াত নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। বরিস জনসনের খোলা চিঠি পেয়ে স্বভাবতই প্রত্যাঘাত করেছে ফ্রান্স। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর মন্তব্য, ‘বরিস সিরিয়াস নন।’


এরপরেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়। ফলশ্রুতিতে প্রীতি প্যাটেল ওই বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করেন।


রবিবারের বৈঠকে ফ্রান্স ছাড়াও উপস্থিত ছিল জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো। সকলেই একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন, যেভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে শরণার্থীরা ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিচ্ছেন, তা বন্ধ করতে হবে। ওই অঞ্চলে গড়ে ওঠা পাচারকারী সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি চালাতে হবে। দেখতে হবে, যাতে একটিও নৌকা চ্যানেলে নামানো না হয়। এর জন্যই ফ্রনটেক্সকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের বিমান দিনরাত ইংলিশ চ্যানেলের ওপর টহল দেবে বলে ঠিক হয়েছে।


বৈঠকে বলা হয়েছে, প্রাণের দায়, পেটের দায়ে শরণার্থীরা ইউরোপে ঢুকতে চাইছেন। আফগান, ইরাকি, সিরিয়ান, সুদানের শরণার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ইংলিশ চ্যানেলে আর প্রাণহানি হতে দেয়া যাবে না। ফলে যারা শরণার্থীদের ছোট ছোট নৌকায় তুলে দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি চালাতে হবে। অবৈধভাবে ইউরোপে আর শরণার্থী ঢোকানো যাবে না।


বিবার্তা/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com