শীর্ষ পদে রাখা হয়নি নারীদের
কথা রাখেনি তালেবান!
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২১
কথা রাখেনি তালেবান!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

নারীদের মূল্যায়নসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে একটা ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা বলে আসছিলো তালেবান। কিন্তু বাস্তবে সে কথা রাখেননি গোষ্ঠীটির নেতারা। গত সপ্তাহে ঘোষিত ‘কেয়ারটেকার’ সরকারের কোনো শীর্ষ পদেই নারীদের জায়গা দেয়া হয়নি। এছাড়া বাইরে রাখা হয়েছে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী হাজারাদের।


শুধু তাই নয়, সরকারের ৯০ শতাংশ মন্ত্রীই করা হয়েছে পশতু জাতিগোষ্ঠী থেকে। এভাবে আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার অনেকটা একজাতিকেন্দ্রিক সরকার হয়ে উঠেছে। ফলে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে হাজারাসহ সংখ্যালঘু অন্যান্য সম্প্রদায়। তালেবানের এই সরকার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।


মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলেছে, তালেবান সরকারে ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ আফগানিস্তান। বর্তমানে প্রায় চার কোটি মানুষের ৪৪ শতাংশই পশতু। অন্যতম জাতীয় ভাষা পশতুতে কথা বলে। গর্ব করে নিজেদের পাঠান বলে পরিচয় দেয়। প্রাচীনকাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাদের বাস। এই পশতুরা আঠারো শতক থেকেই আফগান রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তালেবানের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই জাতিতে পশতু।


দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী তাজিক। আফগান জনগণের এক-চতুর্থাংশের বেশি এরা। এদের বাস মূলত পঞ্জশির ও হেরাতসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে। কথা বলে ফারসির উপভাষা দারিতে, যা আফগানিস্তানের অন্যতম জাতীয় ভাষাও। এছাড়া হাজারা, উজবেক, তুর্কমেনসহ রয়েছে আরও প্রায় ডজনখানেক জাতিগোষ্ঠী। এসব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিটিরই অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।


আফগানিস্তানে যুগ যুগ ধরে দেশটিতে যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি, তার মূলে রয়েছে এই জাতিবৈচিত্র্য। আগের আমলেও (১৯৯৬-২০০১) যা সম্ভব হয়নি। তালেবানের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এটাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছিলেন বিশ্লেষকরা। গত মাসের মাঝামাঝি কাবুল দখলের পরই একটা ‘ঐকমত্যের সরকার’ গঠনের কথা বলে আসছিলেন তালেবান নেতারা।


অবশেষে গত সপ্তাহে সরকারের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদেই নারীদের জায়গা দেয়া হয়নি। মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি তৃতীয় বৃহত্তম জাতি হাজারা সম্প্রদায়ের কোনো নেতাকেও। ফলে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সম্প্রদায়টির মানুষ। এমনকি বিদেশে পড়াশোনা করছে এমন হাজারা শিক্ষার্থীরাও এখন দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।


নতুন সরকারকে ‘কেয়ারটেকার’ বলে অভিহিত করেছে তালেবান। গোষ্ঠীটির যুক্তি, দেশের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী ধাঁচের সরকার গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত হলে কেয়ারটেকার সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন সরকার ঘোষণা করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারে যে ঐকমত্যের অভাব এবং বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদারকি এড়াতেই ‘কেয়ারটেকার’ শব্দটা জুড়ে দেয়া হয়েছে।


বিবার্তা/ওবাইদুল্লাহ/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com