বয়স অনুযায়ী কতটা ঘুমালে কমতে পারে হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি?
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৪০
বয়স অনুযায়ী কতটা ঘুমালে কমতে পারে হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি?
অনামিকা রায়
প্রিন্ট অ-অ+

পর্যাপ্ত ও যথাযথ ঘুম যে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এটি শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যকেও ঠিক রাখে। তবে ঘুমের ধরন ও সময় যদি ঠিক থাকে, তা হলে কমতে পারে হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকিও। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।


বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে কয়েক মিলিয়ন মানুষ হার্ট ফেলিওরের শিকার হন প্রতি বছর। ঘুমের সমস্যাকেই হার্ট ফেলিওরের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। ঠিকঠাক ঘুমের ধরন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি এমনটাই সমীক্ষার দাবি।


প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো হলো স্বাস্থ্যকর ঘুমের ধরন, সকালে যথাসময়ে ওঠা, ইনসমনিয়া বা ঘুমের অভাবে না ভোগা। নাক ডাকা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমোনোর অভ্যাস মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।


সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে সমীক্ষাটি। ঘুমের সঙ্গে হার্ট ফেলিওরের এই সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে প্রায় ব্রিটেনের বায়ো ব্যাঙ্কের ৪,০৮,৮০২ জনের উপরে দীর্ঘ সমীক্ষা চলে। এদের বয়সসীমা ৩৭-৭৩ বছর। এর পাশাপাশি হার্ট ফেলিওরের ঘটনাগুলিকেও খতিয়ে দেখা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১০ বছর সময়কালের মধ্যে ৫,২২১ হার্ট ফেলিওরের কেস নজরে আসে।


এ বার স্বাস্থ্যকর ঘুমের অন্যতম প্যারামিটার অর্থাৎ সারাদিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো, সকালে যথাসময়ে ওঠা, ইনসমনিয়া বা ঘুমের অভাবে না ভোগা, নাক ডাকা, কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমোনোর অভ্যাসের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়।


ঘুমের সময়কাল অনুযায়ী সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মোট তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলি হলো ঘুমোনোর পর্যাপ্ত সময় অর্থাৎ ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমোনো লোকজন, দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমোনো লোকজন, দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমোনো লোকজন।


সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যারা পর্যাপ্ত সময় ঘুমোচ্ছেন এবং যাদের সামগ্রিক ঘুমের ধরন যথাযথ, তাদের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি। বিস্তারিত ভাবে মূল্যায়ণ করে দেখা যায়, যারা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি।


যারা ৭-৮ ঘণ্টা করে ঘুমোচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি। এদের মধ্যে যারা দিনে ঘুমোন না এবং নাক ডাকা বা ইনসমনিয়া ভোগেন না, তাদের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি।


বিবার্তা/অনামিকা/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com