যেভাবে কাগুজে মুদ্রার প্রচলন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২০
যেভাবে কাগুজে মুদ্রার প্রচলন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মানুষ নতুন নতুন বস্তু উদ্ভাবন করে আসছে। এমনই একটি চমকপ্রদ উদ্ভাবন হল কাগুজে মুদ্রা। একসময় টাকা বলতে বোঝাতো সোনা, রুপা, তামা ইত্যাদি। তারও আগে কড়ি, ট্যালি স্টিক (কাঠের মুদ্রা), লবণ ইত্যাদিকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হতো।


তবে মধ্যযুগের পরবর্তীতে ইউরোপে সর্ববহুল ব্যাবহৃত মুদ্রা হয়ে যায় সোনা।
সোনার একটি সমস্যা হচ্ছে এটি ঘরে সংগ্রহ করে রাখা অনিরাপদ। এই সমস্যা এড়াতে আগের যুগের মানুষ স্বর্ণকারের সিন্দুকে সোনা জমা দিয়ে আসতো। বর্তমানে আমরা যেমন ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে রিসিড নিয়ে বাড়ি ফিরি, ঠিক তেমনি সেই যুগের মানুষ সিন্দুকে স্বর্ণ জমা দিয়ে তার বিপরীতে একটি কাগজ নিয়ে বাড়ি ফিরত। কাগজে লেখা থাকবে এই ব্যাক্তি সিন্দুকের ১০০ স্বর্ণমুদ্রার মালিক।


এভাবে কিছুদিন যাবার পরে মানুষ ভাবতে শুরু করল সিন্দুকে গিয়ে সোনা না তুলে বিক্রেতার হাতে কাগজ তুলে দিলেই তো হয়। বিক্রেতা চাইলে স্বর্ণকারের থেকে সোনা তুলে আনতে পারবে। এই চিন্তা থেকেই নামবিহীন রিসিট আসা শুরু করে অর্থাৎ, রিসিট যার হাতে থাকবে সেই হবে সোনার মালিক। এভাবে বড় কেনা কাটায় রিসিট ব্যবহার চলতে থাকলো এবং মানুষজন কাগজ গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হয়ে গেল।


এভাবে ধীরে ধীরে স্বর্ণ না তুলে সবাই বরং কাগজ হাতবদল করেই অন্যান্য কেনা কটাও শুরু করল এবং ছোট বড় বিভিন্ন রকম নোট বের হতে থাকল। এর নাম দেওয়া হল ব্যাংক নোট বা টাকা। এভাবেই প্রবর্তন হয় কাগুজে মুদ্রার।


(লেখক ও অর্থনীতিবিদ মোহাইমিন পাটোয়ারীর ফেইসবুক থেকে)


বিবার্তা/জামাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com