‘টাকার লোভে ওরা আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেললো’
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৫
‘টাকার লোভে ওরা আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেললো’
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আজকে ভোর ৪টায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালে PICU তে কিছু ডাক্তার নামে কসাই টাকার লোভে আমার একমাত্র সন্তান আমার মেয়েটাকে খুন করেছে। সারাটা রাত আমার মেয়েকে ডাক্তার নামে কসাইগুলো টাকার লোভে অনেক অত্যাচার করেছে। হসপিটালে আসার পর থেকে টাকার লোভে একের পর এক অত্যাচার করছে।


আমার সন্তান আর নাই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।


সবাই আমার মেয়ের জন্য দো'আ করবেন। আল্লাহ যেন আমার মেয়ে কে বেহেশতে নসিব করেন।


প্রথম দিন ডা. মনিরুল ইসলাম আমাদেরকে ক্যানোলা করায় PICU তে, তখন থেকে PICU এর ওরা আমার মেয়েকে টার্গেট করে। PICU ডা. আমার মেয়ে সমস্ত রিপোর্ট প্রথম দিনই চেয়ে নেয়। আমরা ওয়ার্ডে ছিলাম। সেখান থেকে PICU ডাক্তারদের কেউ একবার ডেকেনি, তারা নিজ থেকে এসে আমার মেয়েকে দেখে যায়। তাদের কী আগ্রহ আমার মেয়ের প্রতি!


তারা আমার মেয়েকে রোগটা না ধরে,ভুল ট্রিটমেন্ট করে। আমি আমার মেয়েকে ডা. মনিরুল ইসলামের আন্ডারে এডমিট করি। ( উনি আসলে ডা. নামে টাকার কাছে বিক্রি, টাকার লোভী)। কারণ ডা. মনিরুল ইসলামের কাছে আমার মেয়েকে গত এক বছর ধরে রেগুলার চেকাপ করাচ্ছিলাম। কিন্তু আমি যেই ডা. মনিরুল ইসলামের কাছে এডমিট করলাম, সেই ডা. মনিরুল ইসলাম শুধু মেয়েকে নামের দেখা দেখে যেতো, আমার গল্পই করে যেতো। অথচ আমি ডা. মনিরুল ইসলাম কে অন্ধের মত বিশ্বাস করতাম। আমি ডা. মনিরুল ইসলামকে বলেছিলাম, ‘আমি আপনার কাছে আমার সন্তানকে নিয়ে আসছি, আমি আল্লাহর পর দুনিয়াতে আপনাকে বিশ্বাস করি। আমি হসপিটাল দেখে নিয়ে আসিনি।’ ডাঃ মনিরুল ইসলাম আমাকে মন ভুলানো সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছিলেন।


আর সে জায়গায় সমস্ত মেডিসিন ডিশিসন সব দেয় আরেক কসাই ডা. ইসরাত জাহান লাকি। এই ডা. ইসরাত জাহান লাকি আমার মেয়ের ট্রিটমেন্টের জন্য দেখবেন তা আমাদের জানানো বা অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি তারা। এই ইসরাত জাহান লাকি একের পর এক ভুল হাই পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন পুশ করেই চলে সঠিক সমস্যা না ধরে।


আহারে, আমার এই ছোট্ট শিশু বাচ্চাটার নরমাল একটা জ্বরকে হাই পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক দিয়ে, একের পর এক হাই পাওয়ারের ভুল মেডিসিন ভুল ইঞ্জেকশন দিতেই থাকে। একে একে ভুল স্যালাইন, ইঞ্জেকশন দিয়ে আমার মেয়েটার শরীর খারাপ করে ফেলে।
তারা এমনকি আমাদের এমন বিলও করেছে, যেই টেস্ট করানোই হয় নাই। উনাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো বেশি বিল (টাকা) বানানো।
এট লাস্ট এরা জোর করে আমার মেয়েকে PICU তে নিয়ে যায়, আমাদের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া। এরপর ডা. নামে কসাইরা আমার মেয়েটার উপর আরো অত্যাচার শুরু করে। আমাদেরকে কোনোভাবে দেখতেও দিচ্ছিলো না। জোর করে দেখতে চাইলে আমাদেরকে হাজারটা নিয়ম কানুন দেখাচ্ছিল। আমার মেয়ে PICU তে রাত ১১টা থেকে ৪টা অবধি চিৎকার করে কাঁদে। যত বার কান্নাকাটির শব্দ শুনে দেখতে চেয়েছি, বলেছে আমার মেয়ে ঘুমায়। জোর করে ঢুকে দেখি হ্যা আমার মেয়ে কাঁদছে এক ফোটা পানির জন্য কাঁদছে, তাকে তারা বিভিন্নভাবে অত্যাচার করছে সে জন্য কাঁদছে। একে একে অত্যাচার করে আমার মেয়েকে শেষ অবধি ডা. নামে কসাই গুলি মেরেই ফেলে। মেরেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, তারা লাইফ সাপোর্ট দিয়ে এক সাপ্তাহ রাখার প্লান করে।


ওরা যখন আমার মেয়েকে জোর করে PICU তে নিয়ে চলেই আসে, আমি মা হয়ে ডা. নামে কসাইদের পা ধরে বলেছিলাম, আপনাদের হাজারটা পেশেন্ট থাকতে পারে, আমার ও আমার হাসবেন্ডের এই একটাই সন্তান। আমাদের এই দুনিয়াটা আমার এই সন্তান। দয়া করে আমার সন্তানটাকে সুস্থভাবে জীবিত ফেরত দিয়েন।


কিন্তু তারা আমার কোনো কান্নাই শোনেনি। তারা আমাদেরকে ব্যস্ত রাখার জন্য একবার ডাইপার লাগবে বলে, আরেক বার ব্লাড ডোনার লাগবে বলে নাটক করে। ডাইপার ওদের ফারমেসি থেকে নিতে বললে তারা আমাদের জানায় ওদের কাছে নাই, বাইরে থেকে এনে দিতে বলে! ব্লাড না নিয়ে ব্লাডের জন্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা এক্সট্রা বিল করে।


আহারে, কত কত অত্যাচার করে শেষ অবধি আমার একমাত্র মেয়েটাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলো এই ডা. নামে কসাইগুলো। আমি ও আমার হাসবেন্ড বেচে থেকেও জিন্দা লাশ হয়ে গেছি।


জোবায়দা আলম যুথীর ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/কেআর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com