মন্ত্রী মহোদয় দুঃখ প্রকাশ করলে, টিটি চাকরিটা ফিরে পাবে!
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২২, ২০:৫৫
মন্ত্রী মহোদয় দুঃখ প্রকাশ করলে, টিটি চাকরিটা ফিরে পাবে!
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

টিটি সাহেব হয়তো চাকরিটা ফিরে পাবেন। মন্ত্রী মহোদয় হয়তো দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিছু হাসিমুখের ফটোসেশানও হতে পারে। এটা ভুল বোঝাবুঝির অবসান হিসেবে মিডিয়ায় আসবে। আমরাও অনেকে ভুলে যাবো।


কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে অনেক। দায়িত্ব আর ক্ষমতার কনসেপ্টটাই মনে হয় যেন পরিস্কার হচ্ছে না আমাদের মস্তিস্কে। এটা আমাদের জাতিগত সমস্যা কি-না কে জানে।


পাঁচ বছর সাংবিধানিক পদে থেকে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ হয়েছে। আমার অফিসিয়াল গাড়িতে বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের পতাকা উড়তো। কিছুদিন পর লক্ষ্য করলাম আমার গাড়িতে একটা সাইরেন টাইপের বিরক্তিকর হর্ন আছে। ড্রাইভার যত্রতত্র যখন তখন সেটা বাজিয়ে গাড়ি চালাতে একধরণের পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করে। ওকে অনেক কষ্টে নিবৃত্ত করতে পেরেছিলাম, এর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।


যথেষ্ট সময় নিয়েই আমি রাস্তায় বের হই যাতে গন্তব্যে ঠিক সময়ে পৌঁছে যেতে পারি। ড্রাইভারের আমার কথা পছন্দ হয়নি। বর্তমান অফিসিয়াল দায়িত্বটি সাংবিধানিক নয়, এতে গাড়িতে প্রতিষ্ঠানের পতাকা ওড়ানোর সুযোগই নেই। কিন্তু ড্রাইভার মরিয়া। পতাকা, সাইরেন হর্ন এবং লাল-নীল ভিআইপি লাইট নাকি লাগাতেই হবে। এতে নাকি রাস্তায় চলাচলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।


আমি বললাম, আমার প্রয়োজন নেই। দেশের সব মানুষের সাথেই থাকতে চাই আমি। এই ড্রাইভারও মনে মনে অসন্তুষ্ট। স্যারের কারণে ভিআইপি ড্রাইভার হওয়ার সাধ মিটলো না তার।


গত পাঁচ-ছয় বছর যাবত লক্ষ্য করছি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা গণহারে পতাকা ব্যবহার করছেন। অথচ কোথাও কোনো প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পতাকা ব্যবহারকে অবারিত করা হয়নি। ট্রাফিক সার্জেন্টদের কাছে তাই এধরণের গণ পতাকাবাহী গাড়িগুলোর কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই এখন আর।


আরেকটি বিষয় হলো- রাস্তায় অনেক সময়ই দেখি গাড়িতে ম্যাডাম বা ছেলে-মেয়ে বেড়াতে যাচ্ছেন এবং সেই গাড়িটাকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য অন্যসব দিকের গাড়ি থামিয়ে রাখা হচ্ছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়িগুলোও হয়তো তখন দাঁড়িয়ে থাকছে। অথচ হবার কথা ছিলো উল্টোটাই।


আমার এপার্টমেন্টের এক সিকিউরিটি গার্ডকে একদিন দেখলাম একজন ভিজিটরকে গেইটে থামিয়ে জিজ্ঞেস করছে কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন। ভদ্রভাবেই জিজ্ঞেস করে ছিলো সে। কিন্তু ভদ্রলোক ভিজিটর ভীষণ চটে গেলো অভদ্র গার্ডের উপর- তুমি আমাকে চেনো?!! হায় খোদা, বেচারা গার্ড সব ভিজিটরকে কী করে চিনবে? তার কী চেনার কথা। সে তো তার দায়িত্বই পালন করতে চেষ্টা করছিলো মাত্র!


(বুয়েটের প্রো-ভিসি ড. আব্দুল জব্বার খাঁন- এর ফেসবুক থেকে)


বিবার্তা/এসএফ



সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com