নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন
প্রকাশ : ২০ মে ২০২২, ১৬:০০
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন
এস এম রিয়াদ রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

সারাদেশে যখন সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তখন বাজারে সয়াবিন তেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে সর্ষের তেল, সাবান, কাপড় কাচার পাউডার, আটা-ময়দা, ডাল, আদা, রসুন, এমনকি শুকনা মরিচেরও। গত এক মাসের ব্যাবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।


সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সয়াবিন কিংবা সর্ষের তেলের মত বাজারে আটা-ময়দা, সাবান, কাপড় কাঁচা পাউডার, পেস্ট, হ্যান্ডওয়াশ, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, এমনকি শুকনা মরিচের দামেও অস্থিরতা দেখা গেছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এক মাসের ব্যবধানে সব কোম্পানির প্যাকেটজাত আটা-ময়দা, সুজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়াও ডাল, পেঁয়াজ,রসুন, আদা, শুকনা মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল কিছুর দাম হু হু করে বেড়েই চলছে।


মোহাম্মদপুর টাউনহল ও শিয়া মসজিদ বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের পর প্রায় বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটার বোতলজাত সর্ষের তেলের দাম কোম্পানিভেদে ৩০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে গমের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। যা এক মাস আগেও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ছিল। আর এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।


আটার মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে ইফাদ গ্রুপের কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বিবার্তাকে বলেন, গত মাসেও আমদানি করা প্রতি কেজি গমের দাম ছিল ৩২ টাকা ৫০ পয়সা। সেই গম এখন ৪৪ টাকা কেজিদরে কিনতে হচ্ছে। গমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিতে গড়ে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।


এই সুযোগে সকল দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়েছে প্রায় সকল পণ্যের। গোসল করা সাবান প্রকারভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা, কাপর কাঁচা পাউডার প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা, অ্যংকর ও ডাবলি কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা, পেঁয়াজ, রসুন ও আদাও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা, শুকনা মরিচও প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।


অন্যদিকে তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সর্ষের দাম মণ প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। কাঁচামালের দাম বাড়ায় তেলের দামও বাড়াতে হয়েছে।


রাজধানীর মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ বাজারের বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বিবার্তাকে বলেন, এক মাসের ব্যাবধানে বাজারে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। তেলের দামের চিন্তায় মানুষ যখন দিশেহারা তখন সকল কোম্পানি এর সুযোগ নিয়েছে। সবসময় দেখেছি ঈদের আগে দাম বাড়তে, অথচ এবার ঈদের পর দাম বেড়েছে। মূলকথা, দেশে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই বাজারে এমন অস্বাভাবিক মুল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।


তিনি আরো বলেন, আগে দেশের বাইরে থাকতাম, সারাদিনে মাত্র চার ঘন্টা কাজ করে বাড়িতে টাকা দিতাম, নিজে চলতাম ও কিছু জমিয়ে দেশে এসে ব্যবসা করছি। অথচ এখন দিন-রাত পরিশ্রম করি, কিন্তু দিন চলে না, ছেলে-মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পারি না।


মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের বিক্রেতা মো.আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা হয়। তিনি বিবার্তাকে জানান, যুদ্ধের কারণে তেল সহ বিভিন্ন পণ্যের সংকট হয়েছে। তাই দেশেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। আরও দাম বাড়ার আশংকা আছে বলে মনে করেন তিনি।


তিনি আরো জানান, তবে আমাদের দেশে আবার সুযোগ সন্ধানী কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরি করে, বেশি দামে বিক্রি করে। আবার এক শ্রেণীর গ্রাহকও আছে যারা কোনো পণ্যের দাম বাড়ার কথা জানতে পারলে বেশি কিনে রাখেন। এতে বাজারে আরো বেশি সংকট দেখা দেয়, পণ্যের দাম আরো বেড়ে যায়।


রাজধানী হাউজিং সোসাইটি থেকে বাজার করতে আসা নাজনিন রহমান মিতু বিবার্তাকে বলেন, বাজারগুলোতে সয়াবিন তেলের সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে অনেকেই সর্ষের তেল কিনছে। এখম সর্ষের তেলেও আগুন। তেলের সাথে সাথে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।


এদিকে পাইকারি ব্যাবসায়ীরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে এখন টালমাটাল অবস্থা চলছে। অনেক পণ্য সরবরাহ বন্ধ আছে। যার ফলে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।


মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে কথা হয় বাজার করতে রিক্সাচালক আসা মো. আলী লাল এর সাথে। তিনি বিবার্তাতে জানান, এখন বাজারে তেলের সাথে সাথে সব জিনিসের দাম বাইড়া গেছে। অহনতো আমাগো বাঁচাই দায় হইয়া গেছে।


কথা হয় ইউনিলিভারের বিক্রয়কর্মী আজিজুল হাকিম এর সাথে। তিনি বিবার্তাকে বলেন, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খারাপ। করোনার ধাক্কা না সামলাতেই ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধ। এতে অনেক দেশে পণ্য সরবরাহ বন্ধ আছে। আবার বিভিন্ন কাঁচামালও পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও দাম অনেক বেশি। তাই দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।


বিবার্তা/রিয়াদ/রোমেল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com