বুয়েটে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি চালুর অনুরোধ ছাত্রলীগের
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২২, ১৫:১৯
বুয়েটে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি চালুর অনুরোধ ছাত্রলীগের
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র রাজনীতি পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। রবিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকরের দাবিতে এক মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই অনুরোধ জানান।


আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ২০২২ সালে এসে আরেকটি নিকৃষ্ট এবং লজ্জাজনক ঘটনা ঘটিয়েছে যারা নিজেদেরকে মেধাবী বলে দাবি করে। সেই মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েটে) শনিবার আমরা দেখেছি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানে জাতির পিতা এই বাংলাদেশের জন্য কি। সুতরাং এই ঘটনা ঘটিয়েছে জামাত-শিবিরের প্রেতাত্মারা, যারা এই বাংলাদেশকে কখনো মেনে নেয়নি। আগস্ট একটি শোকের মাস। এই মাসে একটি শোক সভা করেছে বাংলাদেশের গণঅভ্যুথান থেকে শুরু করে বাংলাদেশ অর্জনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলো, সেসব সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা। সেখানে আমাদের সাবেকদের যারা এদেশের জন্য কাজ করেছে, মানুষের জন্য কাজ করেছে তাদেরকে শোক সভায় বাধা দিয়েছে। অথচ তারাও সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু জামাত-শিবিরের প্রেতাত্মারা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইদের সাথে বেয়াদবি করেছে। এ ধরনের বেয়াদবদের মাধ্যমে কখনো ভালো কিছু বয়ে আসবে না। বেয়াদবদের নিকৃষ্টতার ফল তারা পাবে। জাতির পিতা এই বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে নিয়ে যারা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাবে তাদের অবশ্যই প্রতিহত করা হবে।


তিনি বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ মাঠে নেমে তার প্রতিবাদ করেছে। আমরা কোনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেইনি। সাথে সাথে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বহিষ্কার করেছি। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং বিচারও করা হয়েছে৷ এরই মাঝে তারা কারা যারা স্লোগান দেয় 'ছাত্রলীগের ঠিকানা বুয়েট ক্যাম্পাসে হবে না' এই বলে? বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ইঞ্চিতে ছাত্রলীগের ইতিহাস রয়েছে। ছাত্রলীগকে যারা ঠিকানা মনে করেন না তাদের উদ্দেশ্য আমরা বুঝে গিয়েছি। তাদের উদ্দেশ্য হলো বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর কাঁঠাল ভেঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে অন্যায়ের প্রতি ধাবিত করা। বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে সবসময় আমরা আছি। কুচক্রীদের আপনারা প্রতিহত করবেন। বাংলাদেশের আজকের তরুণ প্রজন্ম কোনো প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস করে না। কেউ যেন ঐ দুষ্কৃতকারীদের কথা শুনে আন্দোলনে না নামে তাদের প্রতি আমরা অনুরোধ জানাবো। আর যারা ছাত্রলীগকে নিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেছে তাদের বিচার হবে৷ এজন্য প্রশাসনের প্রতি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।


বুয়েট প্রশাসনের উদ্দেশ্যে জয় বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কি বুঝাতে চান? ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কি বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করতে পারবেন? আপনাদের জন্য অশনি সংকেত, জঙ্গিচক্র প্রথমে আপনাদের হত্যা করবে। আপনাদের এখনই সচেতন হওয়া উচিত। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার এখতিয়ার কারো নেই। শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের জন্য কথা বলবে আর ছাত্ররাজনীতি চলবে, এটি আমাদের দায়িত্ব এবং এটিই মেনে নিতে হবে। আপনাদেরকে বিষয়টি নিয়ে আবারো বিবেচনা করতে বলবো। ছাত্ররাজনীতি আবারো সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নিবেন। বাংলদেশের তরুণ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপনাদের অনুরোধ করছে। বুয়েট ক্যাম্পাসে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা যারা মাথাচাড়া দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হবে৷। তাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা হবে।


এসময় তিনি বাংলাদেশের প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর শোক সভা বানচাল করার জন্য প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে তাদেরকে আপনারা খুঁজে বের করুন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হওয়া উচিত। কারণ তারা সংবিধান লঙ্ঘন করার মত কাজ করেছে৷ আজকে যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে জড়িত তাদের কেউ ভলো নেই। ঐ কুচক্রীদের অনেকে বিদেশে পালিয়ে আছে। কেউ কেউ জঘন্য মৃত্যুর সম্মুখীনও হচ্ছেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, প্রতিবারই কর্মসূচীর সময় প্রতিশ্রুতি পাই। কিন্তু তারপর আর কোন পদক্ষেপ দেখতে পাই না। গতবারের মতো এবারো আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিব। ছাত্রলীগের রাজনৈতিক অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নেপথ্যে যে খুনি জিয়া, এই তথ্য কারো অজানা নয়।


মানবাধিকারের কথা যারা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে জড়িতদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও জড়িত বলে দাবি করেন সনজিত। তিনি বলেন, আপনারা যারা এতই মানবাধিকার বুঝেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের মোড়লদের কাছে দাবি জানাই , আপনারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে দিন। আমরা জাতির কলঙ্ক থেকে দায় মুক্তি চাই।


সনজিত বলেন, শনিবার রাতে বুয়েট ক্যাম্পাসে আমরা হিজবুত তাহরীর, শিবির এবং জঙ্গিবাদীচক্রের যে তাণ্ডব দেখতে পেয়েছি সেটির প্রতি ধিক্কার জানাই। এই ঘটনায় বুয়েট প্রশাসনের নীরবতা আমাদের ভাবিয়ে তুলে। ছাত্রলীগসহ যেসব বামসংগঠন প্রগতিশীলতার রাজনীতি করে তাদের নিষিদ্ধ করে আপনারা জঙ্গিবাদী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছেন। বাংলাদেশের কোথাও পাকিস্তানি রাজনীতির চর্চা করতে দেয়া হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এটি মেনে নিবে না।


বুয়েট প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সনজিত বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখুন। আপনাদের ক্যাম্পাসে যে জঙ্গিবাদী চর্চা হচ্ছে সেটি থামানোর জন্য সচেষ্ট হোন। অন্যথায় কঠিন পরিস্থিতির ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জায়গাও থাকবে না যেখানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক চর্চা হবে না। এতে কোন বাধা-বিপত্তি আসলে সেটিকে উপড়ে ফেলতে হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর চলার পথকে আমরা কোনভাবেই কন্টকাকীর্ণ হতে দিতে পারি না।


এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় ও সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/সাইদুল/এমএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com