পাঙ্গাস মাছ থেকে বার্গারসহ ১১টি পণ্য উদ্ভাবনে বাকৃবির সাফল্য
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২২, ১৮:৩৬
পাঙ্গাস মাছ থেকে বার্গারসহ ১১টি পণ্য উদ্ভাবনে বাকৃবির সাফল্য
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশে চাষকৃত মাছের মধ্যে পাঙ্গাশ মাছ অন্যতম। পাঙ্গাশ মাছ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় পাঙ্গাশ মাছের সরবরাহ বেশি। ফলে পাঙ্গাশ মাছের দাম কমে যাওয়ায় মাছ চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কিন্তু গন্ধের কারণে পাঙ্গাশ মাছ অনেকের কাছেই অপছন্দেরও বিষয়। এছাড়াও সঠিক সময়ে সরবরাহ ও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে হাজার হাজার টন পাঙ্গাশ মাছ। যার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হন মাছ চাষীরা।


সবার কাছে মাছের পুষ্টি এবং মাছ চাষীদের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পাঙ্গাশ মাছের অব্যবহৃত অংশ থেকে মূল্য সংযোজিত ১১টি পণ্য উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের একদল গবেষক। গবেষণা দলের প্রধান ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা এবং অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। গবেষণার সাথে একই বিভাগের ১৪ জন স্নাকোত্তর শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ২ বছরের গবেষণাটি শেষ হয় ২০২২ সালে।


শুক্রবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় উদ্ভাবিত পণ্য সম্পর্কে সাংবাদকিদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন গবেষক দলের প্রধান ড. ফাতেমা হক শিখা।


গবেষক ড. ফাতেমা হক শিখা বলেন, পাঙাশ থেকে উদ্ভাবিত ১১ টি পণ্য হলো ফিশ বার্গার, ফিশ আঁচার, ফিশ চাটনি, ফিশ কাটলেট, ফিশ সসেজ, ফিশ পাপড়, ফিশ ফ্লেক, ফিশ চিপস, ফিশ ম্যাকারনী-পাস্তা, ফিশ জিলাটিন, ফিশ গ্লু/আঠা এসব মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা হয়। পরে এসব মূল্য সংযোজিত পণ্যের প্যানেল টেস্টের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া এসব পণ্য সংরক্ষণ অবস্থায় খাবার উপযুক্ততার বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা হয়।


ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, পণ্যগুলোর মধ্যে ফিশ বার্গারে ২০ দশমিক ৯৮, ফিশ আচারে ২২ দশমিক ৫০, ফিশ চাটনিতে ৬ দশমিক ৬৮, ফিশ কাটলেটে ১৮ দশমিক ৩৮, ফিশ সসেজে ১২ দশমিক ৫৪, ফিশ পাপড়ে ২৩ দশমিক ৯২, ফিশ ফ্লেকে ২৪ দশমিক ৫৬, ফিশ চিপসে ২৪ দশমিক ৮৭ এবং ফিশ ম্যাকরনী-পাস্তায় ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে।


ড. শিখা আরো বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মাছ খেতে পছন্দ করেনা। তাই মাছের বিভিন্ন খাদ্য পণ্য তৈরির মাধ্যমে মাছের পুষ্টি তাদের কাছে পৌঁছানো আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে উদ্ভাবিত পণ্যগুলো শিশুদের কাছে খুব প্রিয়। তারা সহজেই এসব পণ্য গ্রহণের মাধ্যমে মাছের পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।


উদ্ভাবিত পণ্য সংরক্ষণ সম্পর্কে গবেষক ড. শিখা জানান, পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায় ফিশ পণ্যগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বায়ু শূন্য পলিথিনের ব্যাগে ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। অন্যদিকে ভেজা খাবারগুলো ফ্রিজে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া ফিশ আচার এবং চাটনি প্রায় ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।


বিবার্তা/রাকিবুল/এমএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com