আরজে উদয় চৌধুরীর উঠে আসার গল্প
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩৮
আরজে উদয় চৌধুরীর উঠে আসার গল্প
আরজে উদয় চৌধুরী
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

তখন কলেজে পড়ি। এফএম রেডিওর শো নিয়মিত শুনতাম। আমার সহপাঠী বন্ধুরাও শুনত। শোয়ের গল্পগুলো তখন আড্ডার সময় ও চায়ের টেবিলে আলোচনার ঝড় তুলত। টেলিভিশনের নাটক বা সিনেমার গল্প নিয়ে তখন এত আলোচনা হত না। ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লাগত।


বন্ধু-বান্ধবদের সাথে দেখা হলে বলত, জানিস গতকাল ভূতের গল্পটা না সেই ভয়ংকর ছিল। শুনতে গিয়ে তো আমার গায়ের লোমগুলো দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। আরেকজন বলত, দোস্ত লাভ গুরুর ভালোবাসার গল্পটা তো সেই জোস ছিল। আমি এসএমএস করেছিলাম। লাভ গুরু সেটা পড়েছে। কী যে একটা অদ্ভুত ভালোলাগার অনুভূতি হয়েছিল মনে। তোকে বলে বুঝাতে পারব না।


এভাবেই এফএম রেডিওর প্রতি ভালোবাসার স্মৃতিচারণ করছিলেন জনপ্রিয় আরজে (রেডিও জকি) উদয় চৌধুরী। বর্তমানে তিনি এফএম রেডিও স্টেশন ‘জাগো এফএম ৯৪.৪’-এর হেড অব অপারেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একাধারে সফল আরজে, উপস্থাপক, প্রোগ্রাম ডিজাইনার, ডিরেক্টর ও অভিনেতাসহ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী।



রেডিওর শো শুনেই আরজে হবার স্বপ্ন জাগে


এফএম রেডিওর উপস্থাপকদের কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে প্রথমে উপস্থাপনার প্রতি ভালোলাগা শুরু হয় তার তরুণ মনে। সময়টা ছিল ২০০৮ সাল। তখন দেশে বেসরকারিভাবে তিনটা এফএম রেডিও স্টেশন চালু ছিল। রেডিও আমার, রেডিও টুডে ও রেডিও ফূর্তি। কলেজের রঙিন দিনগুলিতে সুযোগ পেলেই এসব স্টেশনের বিশেষ প্রোগ্রাম নিয়মিত মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। এক বছর শোনার পর উপস্থাপনার প্রেমে জড়ান কলেজ পড়ুয়া উদয়। সে প্রেমের টানেই অজান্তে মনের মধ্যে আরজে হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। কিন্তু কোথায় গেলে, কীভাবে আরজে হওয়া যাবে, সে পথ জানা ছিল না তার।


উদয় বলেন, একদিন রেডিওর উপস্থাপনার প্রতি ভালোলাগার বিষয়টা শেয়ার করতে আমার এক বন্ধু বলল, কলেজ পড়ুয়ার স্টুডেন্টদের এফএম রেডিওতে আরজে হিসেবে পার্টটাইম জব করার সুযোগ রয়েছে। যখন চাকরির সার্কুলার দেবে তুমি সিভি ড্রপ কর। অডিশনে টিকলে তুমি আরজে হতে পারবা। পরে ২০০৯ সালের নভেম্বরে রেডিও আমার স্টেশনে নতুনদের আরজে হিসেবে চাকরির সুযোগ দেয়ার খবরে আমি সিভি জমা দেই। পরে আর কোন খোঁজ-খবর নেই। ধরে নিলাম আমার বয়স কম। কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাই হয়তো আমাকে ডাকবে না।


মন থেকে আরজে হওয়ার আশা ছেড়ে দেন উদয়। পড়েন এআইইউবি ভার্সিটির প্রথম সেমিস্টারে। পড়ায় মন দেন। এক মাসপর হঠাৎ টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে একটা ফোনে তাকে অডিশনের জন্য ডাকা হয়। নির্দিষ্ট তারিখে রেডিও আমার স্টেশনে গিয়ে রীতিমতো অবাক হন তিনি। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষের লম্বা লাইন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবুও অডিশনের সিরিয়াল আসে না। দুপুর ২টার পর তাকে ডাকা হলো। জীবনের প্রথম অডিশন। কীভাবে দিবেন, কী বলবেন কিছুই জানতেন না তিনি।