ডা. তানজিন রশিদ তন্নির গল্প
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২২, ১১:২৯
ডা. তানজিন রশিদ তন্নির গল্প
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল উকিল হয়ে মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করার। আব্বুর ইচ্ছে ডাক্তার হই। তখন ডাক্তারি পেশা সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না। তার জেদের কারণে নিজের ইচ্ছেকে জলাঞ্জলি দিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হই। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় যখন রোগীদের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়, তখন রোগীরা মন খুলে সমস্যার কথা বলতেন। আমিও তাদের কথাগুলো গুরুত্ব সহকারে শুনতাম। রোগীদের মৃত্যুভয়, কষ্ট, অসহায়ত্ব আমাকে স্পর্শ করত। একজন মৃত্যু পথযাত্রী রোগী যখন সঠিক চিকিৎসায় নতুন জীবন পেতেন, তখন থেকেই ডাক্তারি পেশার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বাড়তে থাকে। ‍শুরু হয় ভালোলাগা। তারপর ভালোবাসা। এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।


অনেকটা উচ্ছ্বসিত হয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথাগুলো বললেন রিজেনারেটিভ মেডিসিন ফিজিশিয়ান ডা. তানজিন রশিদ তন্নি। তিনি রাজধানীর সোবাহানবাগ ইডব্লিউ ভিলা মেডিকা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার সেন্টারে রিজেনারেটিভ মেডিসিন বিভাগে বায়োলোজিকাল মেডিসিন কনসালটেন্ট।


ইডব্লিউ ভিলা মেডিকা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার সেন্টারে নিজ চেম্বারে বিবার্তার সাথে কথা বলেন ডা. তানজিন রশিদ তন্নি। দীর্ঘ আলাপে উঠে আসে শৈশব থেকে শুরু করে রিজেনারেটিভ মেডিসিন ফিজিশিয়ান হয়ে ওঠার গল্প।


ডা. তানজিন রশিদ তন্নি। ডাক নাম তন্নি। জন্ম ও বেড়ে ওঠা বরিশালে। বাবা মো. হারুন অর রশিদ, মা ফরিদুন্নেছা। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে তিনি। ব্যবসায়ী বাবা গত বছর না ফেরার দেশে চলে যান। মা সরকারি চাকরি করতেন। এখন আছেন অবসরে।



ছোটবেলা থেকে বাবা-মা দুজনকেই সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকতে দেখেছেন তন্নি। তিনি বলেন, বাবা ছিলেন একাধারে ব্যবসায়ী নেতা, সমাজসেবক ও সংগঠক। তিনি বাংলাদেশ সংবাদপত্র অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবা ছিলেন পরপোকারী মানুষ। তিনি বরিশালে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে সক্রিয়ভাবে সেবার কাজে কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যে কোনো বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একইভাবে মাও বাবার মতো বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে সেবামূলক কাজ করছেন।


কথায় কথায় তন্নি হারিয়ে যান শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলোতে। স্মৃতিরোমন্থন করে তিনি বলেন, স্কুলজীবনে ছাত্রী হিসেবে বেশ ভালোই ছিলাম। সহপাঠীরা বলতেন আমি নাকি শুদ্ধ বাংলায় সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলি। আমার কণ্ঠে নাকি জাদু আছে। সুরেলা কণ্ঠ। কতটা গুছিয়ে কথা বলতাম মনে নেই। তবে ওদের প্রশংসা শুনে উপস্থাপনার প্রতি আমার মনে আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করত। পরে স্কুলের প্রোগ্রামে কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা ও কালচারাল প্রোগ্রামে উপস্থাপনাও করেছি। নাচের প্রতিও ভীষণ দুর্বলতা ছিল আমার। নাচের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। স্কুল থেকে কলেজ জীবনে সব ধরনের কালচারাল প্রোগ্রামে খুব অ্যাক্টিভ ছিলাম। বরিশাল শিশু একাডেমিতে একাধিক নাচের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।


তন্নি আর পাঁচটা কিশোরীর চেয়ে একটু আলাদা ছিলেন। সবসময় একটু ভিন্নভাবে সব কিছু চিন্তা করতেন। যেমন মানুষের জীবন একটাই। এটাকে সুন্দর করে যাপন করতে হবে। সাজাতে হবে। আর এর জন্য নিজেকে যোগ্য করে তৈরি করতে হবে। তন্নি বলেন, আমার বাবা ছিলেন জীবনের আদর্শ ও মেন্টর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন। জীবনকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছেন।


বরিশাল সদর গার্লস স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক এবং বরিশাল গভর্নমেন্ট উইমেন্স কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তন্নি। শৈশবে স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে উকিল হবেন। অন্যদিকে, বাবার স্বপ্ন তাদের একমাত্র মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। মানুষের সেবা করবে।


ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়ে তন্নি বলেন, আমি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কয়েকজন ব্যারিস্টারের সাথে কথা বলি। একজন স্বনামধন্য ব্যারিস্টার আমার বাবার সাথেও কথা বলেন। বাবার জেদের কারণে আমার স্বপ্ন সাকার হয়নি। শেষে বাবার ইচ্ছেই পূরণ করি। ঢাকায় এসে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেই। পাস করে ভর্তি হই। পাঁচ বছর পর ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) ডিগ্রি লাভ করি।