সেবা ও ছাত্ররাজনীতির নির্মোহ পথিক সাদ বিন কাদের
প্রকাশ : ১০ মে ২০২২, ১০:৫৮
সেবা ও ছাত্ররাজনীতির নির্মোহ পথিক সাদ বিন কাদের
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

ছোটবেলায় যখন চিন্তা করতাম বড় হয়ে কী করবো, তখন তেমন কিছু মাথায় আসত না। যখন ভাল-মন্দ বুঝতে শুরু করলাম; তখন ইচ্ছে হত বাবা-নানা যেভাবে রাজনীতি করেন, আমিও বড় হয়ে তাদের মতো হব। মানুষের জন্য কিছু করব। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ, সততা ও সাহস আমার কিশোর মনে অনুপ্রেরণা যোগাত। আমাকে মুগ্ধ করতে। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখেছি বড় হয়ে রাজনীতি করব। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সে ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। এখন আমি ছাত্ররাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত। এভাবে ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। কেননা আমার রক্তেই আছে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান।


শৈশবের স্বপ্নের কথাগুলো এভাবেই বর্ননা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিনামূল্যে ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’-এর প্রধান উদ্যোক্তা সাদ বিন কাদের চৌধুরী।


সাদ বিন কাদের চৌধুরীর স্বপ্ন, স্বপ্নপূরণ এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে এই পর্যন্ত আসার পেছনে রয়েছে আরো নানান ঘটনা। ওই ঘটনার কিছু আছে তার জন্মেরও অনেক আগের। তাহলে কী সেই ঘটনা? চলুন জেনে নেয়া যাক।


ফেনীর পরশুরাম উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে সাদ বিন কাদের চৌধুরীর জন্ম। বাবা ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সাদ সবার ছোট। সবাই পেশাগতভাবে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।


কথায় কথায় জানা গেলো, পারিবারিক সূত্রেই সাদের রক্তে বইছে রাজনীতির ধারা। বাবা নুর কাদের চৌধুরী (সেলিম চৌধুরী) ১৯৯৬ সালে পরশুরাম উপজেলার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০৩ সালে বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ১ং সহ-সভাপতি হিসেবে টানা ৩বার দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। অন্যদিকে নানার পরিবারের সবাই সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।


সাদ বিন কাদের বলেন, ১৯৭৩ সালে আমার নানা আমিনুল করিম মজুমদার খোকা মিয়া মহাকুমা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ছিলেন। মহকুমা থেকে ফেনী জেলা হলে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৯৪ সালে যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। শুনেছি তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে আদর করে কোলে নিয়েছিলেন।



নিজ এলাকায় চান গাজী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং নটরডেম কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাস করেন সাদ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে এমফিল-এ ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয় হিসেবে নিতে চান, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও দর্শন’।


ছাত্ররাজনীতিতে জড়ালেন কীভাবে? জবাবে সাদ জানান, আমার বাবা ব্যবসা করতেন। আমার তিন চাচাও ব্যবসায়ী। ছোটবেলায় খেয়াল করতাম পরিবারে মা-বাবা, চাচা, মামা-খালা, নানা মিলে যখন গল্প করতেন, তখন সবাই রাজনীতি নিয়ে কথা বলতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন, তাঁর কাজ, নীতি নিয়ে আলোচনা করতেন। এসব আলোচনা আমার কিশোর মনে দোলা দিত। এসএসসি পাস করার পর পরিবারের সবাই ঢাকায় চলে আসেন। আমি নটরডেম কলেজে ভর্তি হই। নটরডেম কলেজে ছাত্ররাজনীতির কোনো সুযোগ নেই। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে উঠি। ক্যাম্পাসে ঢুকেই ঢাবিতে যারা রাজনীতি করতেন তাদের সাথে মিশতাম, আড্ডা দিতাম। সিনিয়রদের কাছে রাজনীতি করার আগ্রহের কথা জানালে কার্যক্রমে যুক্ত হতে বলেন। এভাবে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির পথচলা। পরে আমাকে ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই দায়িত্ব খুব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছি।


আন্তরিক ব্যবহার, দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক কাজের দক্ষতা ও নেতৃত্বের কৌশলের গুণে অল্পসময়ের মধ্যে সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তরুণ এই ছাত্রনেতা। ফলে তাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সাদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।