ইচ্ছে থেকেই হুরাইরা শিশিরের স্বপ্ন পূরণ
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২২, ১০:৩২
ইচ্ছে থেকেই হুরাইরা শিশিরের স্বপ্ন পূরণ
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

প্রায় সব নারীর জীবনেই একটা স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে ভাল মতো পড়াশোনা করে একটা সম্মানজনক চাকরি করার। ফুলের মতো সুন্দর একটা জীবন গড়ার। আবার কেউ চাকরি করে সুন্দর করে জীবন সাজানোর পর সমাজে নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করে নিতে চায়। সেটা করতে যতো বাধাই আসুক না কেনো, সবকিছুকে মোকাবেলা করার জন্য মনকে প্রস্তুত করেন। স্বপ্ন পূরণে পরিকল্পনা করেন। সে অনুসারে কাজ করেন। একটা সময় সে স্বপ্ন পূরণও করেন। এমনই একজন আত্মপ্রত্যয়ী নারী ‍উদ্যোক্তা হলেন হুরাইরা শিশির।


হুরাইরা শিশির এজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা। নিজের উদ্যোগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার বাংলাদেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল প্লাটফর্ম ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’। তার এই উদ্যোক্তা হয়ে ‍ওঠার পেছনে রয়েছে অনেক কথা। আজকে আমরা শুনবো শিশিরের সফল উদ্যোক্তা হওয়ার আদ্যোপান্ত।


তরুণ উদ্যোক্তা হুরাইরা শিশিরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকাতেই। আদমজী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইডেন মহিলা কলেজে। সেখান থেকে গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন। ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এমবিএ পাস করেন। পরে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে প্রফেশনাল কোর্স এসিবিএ করেন। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ওপরে পড়াশোনা করছেন। আর স্টাডির বিষয়বস্তু হলো- সমাজে বসবাসকারী মানুষ, মানবতা, মানবিক মূল্যবোধ, মানুষের সাথে মানুষের সামাজিক ও আত্মিক সম্পর্ক, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ, সমাজের অবস্থা এবং সমাজের মানবতাসহ এসব বিষয় নিয়ে।



কথায় কথায় জানা গেলো শিশিরের ক্যারিয়ার জীবনের আরো নানান কথা। দেশের বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন কোম্পানিতে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চাকরি করে আসছিলেন শিশির। এরপর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন এক বছর।


বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিতে চাকরি করে নিজের ‍ওপরে আত্মবিশ্বাসা গড়ে ওঠে শিশিরের। প্রাতিষ্ঠানিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং উচ্চশিক্ষার বিষয়বস্তু নিয়ে নিজে থেকে কিছু একটা করে সমাজে আলাদা পরিচয় তৈরি করার মনে তাগিদ অনুভব করেন তিনি। কী উদ্যোগ নিবেন? ভাবতে থাকেন তিনি। নিজের পড়ার বিষয়বস্তু সমাজবদ্ধ মানুষের সামাজিক সম্পর্ক বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে অনলাইনে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা করেন। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেন অনলাইনে পাত্র-পাত্রী খোঁজার প্লাটফর্ম তৈরি করার। পরে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা এবং সেই সাথে পড়াশোনার জ্ঞান ও দক্ষতাকে পুঁজি করে মানুষের কল্যাণে ব্যতিক্রমী এই প্লাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করেন। ২০১৮ সালে সে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেন। নাম দেন ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’।



কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে অনলাইন প্লাটফর্মে কাউন্সিলিংয়ের মতো মানবসেবাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেয়ার কারণ কী? শিশির জানান, বিয়ে প্রত্যেক মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সবার জীবনেই বিয়ে খুব আবেগময় আর স্মৃতিময় একটা ঘটনা। যার রেশ থেকে যায় সারাজীবন। এই দিনের অনুভূতি অন্যসব দিনের চেয়ে আলাদা। ব্যক্তি জীবনকে পরিপূর্ণ করার জন্য প্রত্যেকজন মানুষের বিয়ে করার প্রয়োজন আছে।


বিয়ের আগে প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিই। সবাই মোটামুটি কম-বেশি পড়াশোনা করি। কিন্তু বিয়ে নিয়ে কারোর কোনো প্রস্তুতি নেই। তবে বিয়ের আগে অবশ্যই মানসিক প্রস্তুতি রাখা উচিত। আমি একটি নতুন পরিবারে যাবো বা অন্য একটি মানুষ আমার পরিবারে নতুন সদস্য হয়ে আসবে। তার সঙ্গে নিজেকে কেমন করে মানিয়ে নিবো, সেগুলো আগে থেকেই চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। একটা মানুষকে কিভাবে আমার জীবনে স্বাগত জানাবো, তা আগেই ঠিক করে রাখা ভালো। সমাজে বিভিন্ন পেশার, নানা মতের, নানা রকমের মানুষ আছে। যাদের পছন্দ নানা রকমের হয়ে থাকে। সবার পছন্দ এক নয়। সবার মাঝেই ভিন্নতা থাকে। আর আমরা মূলত তাদের পছন্দের মিল বন্ধনের মাধ্যমেই তাদের মনের মত মানুষটি খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য সাহায্য করে থাকি।



কথায় কথায় উদ্যোগের নাম ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’ এবং লগোর প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘ফ্রিডম অ্যান্ড ট্রুথ’ রাখার কারণ জানালেন শিশির। তিনি বলেন, ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’ নামটি আমার নিজের পছন্দেই দেয়া। গ্রামাঞ্চলে একটা কথা প্রচলিত আছে, ‘গায়ে যদি প্রজাপতি বসে, তাহলে তাড়াতাড়ি নাকি বিয়ে হয়।’ প্রজাপতি দেখতে খুবই সুন্দর। প্রজাপতি গায়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণীয় রং। এক কথায় বলতে গেলে অসাধারণ। আমরা প্রায়ই দেখি বিয়ের সময় যাদের মিসম্যাচিং বিয়ে হয়, ওইসব বর-কনকে তাদের বাকি জীবন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাদের জীবনে অশান্তি যেনো পিছু ছাড়ে না। অনেক সময় দেখা যায় দুই পরিবারের মানসম্মানের কথা ভেবে তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। একটা সময় দেখা যায় ওই পরিবার আর টিকে থাকে না। শেষ হয় ডিভোর্স লেটারের মাধ্যমে।


এসবই হয় শুধু ভুল জীবনসঙ্গী নির্বাচনের কারণে। আমাদের দেশে লাখো নারী পুরুষ রয়েছে যারা সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজছে। তারা যেনো সঠিক পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে খুঁজে পেতে পারেন। সেই সাথে পারিবারিক জীবনে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। সব প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা দিতে, সংসারী মানুষের জীবনকে প্রজাপতির মতো রাঙিয়ে তুলতে মূলত সেই চিন্তা থেকেই এই নামটি দেয়া। আর লগোর প্রতিপাদ্য হিসেবে প্রাকৃতিক বিশ্বস্ততা আর স্বাধীনতার প্রতীক বা ‘ফ্রিডম অ্যান্ড ট্রুথ’ রাখার কারণ হলো- একটা ‍সুস্থ ও ভালো সম্পর্কের বড় মানদণ্ড হলো বিশ্বস্ততা। দুজন স্বাধীন ব্যক্তি। একে অন্যকে চেনা-জানার মধ্যে দিয়ে বিশ্বাস নামক অদৃশ্য সুতোয় গড়ে ওঠে বিয়ের মতো পবিত্র একটা বন্ধন। স্বাধীনতার মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠে এই বিশ্বাসের অদৃশ্য বন্ধনটি। আর এটা চলে যুগ যুগ ধরে।



নিজের কষ্টার্জিত জমানো টাকা দিয়ে ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’ প্লাটফর্ম তৈরি করেন শিশির। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কেউ কোনো আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করেননি। নিজের টাকায় দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে এক হাতে ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’ অনলাইন প্লাটফর্মটি গড়ে তুলেছেন। এখন একদল তরুণ দক্ষকর্মী নিয়ে নিজের হাতে সব কাজ পরিচালনা করছেন আত্মপ্রত্যয়ী এই উদ্যোক্তা।


ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা উৎস কে? শিশির বলেন, আমার মা ছাড়া আমার আর কোনো অস্তিত্ব নাই। আমার মেয়ে ছাড়া আমার বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। আমার মা-ই আমার সব। সকল কাজের উৎস ও অনুপ্রেরণা তিনি।


‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’ প্লাটফর্মে বিভিন্ন সম্মানজনক পেশার যেমন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি কর্মকর্তা, কর্পোরেট, শিক্ষক, ব্যাংকারসহ দেশে-বিদেশে অবস্থানরত পাত্র বা পাত্রীর সন্ধান দেয়া হয়। যারা আগ্রহী তারা প্লাটফর্মটিতে যোগাযোগ করতে পারেন। আবার যারা একান্ত নিজের মতো করে খুঁজে নিতে চান। যাদের হাতে অফুরন্ত সময় আছে বা নিজের কোনো সীমাবদ্ধতা বা পরিকল্পনা আছে তাদের জন্য গুগল প্লে-স্টোরে রয়েছে মোবাইল অ্যাপের ব্যবস্থা। অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোরে গিয়ে ফ্রিতে রেজিস্ট্রেশন করে ডাউনলোড করা যাবে। অ্যাপে নিজের মতো করে পছন্দের পাত্র-পাত্রী নিবার্চনের সুযোগ রয়েছে।



তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একজন পাত্র বা পাত্রী অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করার সময় যেসব তথ্য দিবে এর নিরাপত্তা কতটুকু রয়েছে? জবাবে শিশির বলেন, আমরা প্রত্যেকজন পাত্র বা পাত্রীর পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টা মাথায় রাখি। কেননা তারা আমার কাছে অনেক সম্মানের। তাদের তথ্যকে সুরক্ষা ও নিরাপদ করার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগই নিয়েছি। আশা করছি, সবার তথ্যই সব সময় সুরক্ষিত ও নিরাপদে থাকবে।


বিয়ের জন্য পাত্রপাত্রি খোঁজার প্লাটফর্ম। এখানে কাজ করতে গিয়ে পরিবারের বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা? শিশির বলেন, কাজ করতে গেলে প্রতিনিয়ত বাঁধা আসবেই। আর সেই বাধাকে পেছনে ফেলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের কাজ করতে গেলে সমস্যা একটু বেশিই হয়। তাছাড়া আর্থিক সমস্যা এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমাদের কাজটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে নতুন হওয়ায় একদম শুরু থেকেই সবকিছু নিজের হাতে করতে হয়েছে। যার জন্য সময়টাও অন্যান্য কিছু থেকে বেশি লেগেছে। পরিবার থেকে বাধা আসা খুবই সাধারণ বিষয়। কারণ ভালোবাসা আর ভয় দুটোই বেশি। নতুন কাজে নিত্য-নতুন বাঁধা আসবে সব মিলিয়ে এটাই স্বাভাবিক।



শুধু নিজের পড়াশোনা, উদ্যোগ নিয়েই বিজি থাকেন না শিশির। অনলাইনে প্রোগ্রামও করেন নিয়মিত। গত করোনা মহামারির সময় অন্যন্যাতে অনলাইনে ‘দীপশিখা’ ও ‘আয়না’ নামের নিয়মিত দুটি প্রোগ্রাম করেছেন শিশির। এই প্রোগ্রামে সম্পর্ক ও সম্পর্কের সমস্যা, সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই প্রোগ্রাম ডিজাইন করা, উপস্থাপনা করা, গেস্ট সংগ্রহ করা সবই নিজের হাতে করেছেন তিনি।


প্রত্যেকজন উদ্যোক্তার জীবনেই নানান ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। আপনার চ্যালেঞ্জগুলো কেমন ছিলো? শিশিরের ভাষ্য, একজন উদ্যোক্তাকে তার উদ্যোগের শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যে বিষয়ে কাজ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়, সে ব্যবসার বিষয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারাণা থাকতে হবে। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি টেকনিক্যাল বিষয়ে জ্ঞানের জন্য প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এরপর উদ্যোগের পরিকল্পনা করা, সে পরিকল্পনা অনুসারে সব কিছু ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা। এরজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। শূন্য থেকে যেকোনো বিষয় শুরু বা প্রতিষ্ঠা করা অনেক কঠিন কাজ। উদ্যোগের স্ট্যাটেজি প্লান করা। সে অনুসারে বাস্তবায়ন এ যাত্রাটা পুরোটাই চ্যালেঞ্জের। যেমন- আর্থিক সাপোর্ট, যে প্লাটফর্মে সেবা দেয়া হবে সেটা গুণগতমানসম্পন্ন ও ব্যবহারবান্ধব হিসেবে তৈরি করা। দক্ষ কর্মীর মাধ্যমে সেটা পরিচালনা করা। কাজ জানা না থাকার কারণে বিভিন্ন মানুষ নানাভাবে ঠকানোর চেষ্টা করে প্রতিনিয়ত। এছাড়াও কিছু মানুষের ভ্রান্ত প্রত্যাশা একজন উদ্যোক্তাকে নাজেহাল করতে পারে। টাকা পয়সার সঠিক হিসেব রাখা এবং এর জন্য উপযুক্ত বাজেট তৈরি অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া ব্যর্থ হওয়ার ভয় তো আছেই। এসবগুলোই একজন অনলাই উদ্যোক্তার জন্য চ্যালেঞ্জের। আমি এসবের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।



যারা নতুন সংসার জীবন শুরুর কথা ভাবছেন তাদের প্রতি শিশিরের পরামর্শ হলো- জীবন একটাই। এটা খুব সুন্দর। এটাকে অবহেলায় ফুরিয়ে যেতে দেবেন না। নিজের মতো করে পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজে নিন। তবে খোঁজার সময় শুধু ইমোশনাল বা রেশনাল না হয়ে, বরং নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে খুঁজে নিন। এতে তাড়াহুড়া করার কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা এটা জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। সময় নিন, আলোচনা করুন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কাউকে খুব নিজের পছন্দ মতো খুঁজে নিতে পারাও একটা কঠিন পরীক্ষা। ঠকে যাবার ভয় যেমন আছে, তেমনি জিতে যাবার আনন্দ উপভোগ করতে চাইলে ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে মনের মানুষটি সঠিক পদ্ধতিতে খুঁজে নিতে হবে। মন থেকে চাইলে আর সঠিক মাধ্যমে সততা ও সম্মানের সাথে খুঁজলে সঠিক জীবনসাথী পাওয়া কঠিন বিষয় না। দেখবেন পেয়ে গেছেন।


আপনি তো ই-কমার্স সেক্টরের সাথে আছেন দীর্ঘ দিন থেকে। উদোক্তাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতাও অনেক রয়েছে। তরুণ উদোক্তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন? শিশির বলেন, বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের দিকে তাকালে একটা জিনিস খুবই লক্ষণীয় যে, তারা অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং একই সাথে সৃজনশীল। শিক্ষা এবং তারুণ্যের সমন্বয় আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে করে তুলেছে আত্মপ্রত্যয়ী এবং অপ্রতিরোধ্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যে পরিমাণ তারুণ্যের শক্তিতে বলীয়ান, পৃথিবীর বেশির ভাগ উন্নত রাষ্ট্র তা এখনো পায়নি। এ দিকটি থেকে বিবেচনা করলে বাংলাদেশ যে একদিন তার লক্ষ্য পূরণে উদ্যোগী তরুণদের নেতৃত্বে পৃথিবীতে নিজের অবস্থানকে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করবে এই ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায়। নিত্যনতুন চিন্তা নিয়ে এই তরুণ সমাজ হয়ে উঠছে এক একজন সাহসী এবং সফল উদ্যোক্তা।



তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী? তার ভাষ্য, উদ্যোক্তা হতে হলে অনেক ধৈর্য থাকতে হবে। হুট করেই স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করে দেয়া উচিত নয়। প্রথমেই কিছু কাজ করে নেয়া উচিত। কেননা যেকোনো স্টার্টআপ বিজনেস কমিউনিকেশনটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। তাছাড়া পূর্ব অভিজ্ঞতারও একটা ব্যাপার রয়েছে। অভিজ্ঞতা সময়ের সাথে সাথে হয়ে যায়। যেকোনো স্টার্টআপে টিমওয়ার্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সঠিকভাবে টিমওয়ার্ক না করতে পারলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।


শিশির স্বপ্ন দেখেন একদিন ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’ অনলাইন প্লাটফর্মটি অনেক বড় হবে। এখানে কাজ করবে অসংখ্য মানুষ। প্রযুক্তির যুগে দেশসহ সারাবিশ্বের ব্যস্ত মানুষের সঠিক জীবন সঙ্গী খুঁজে দিবে এই প্লাটফর্ম। মানুষের জীবনকে করে তুলবে প্রজাপতির মতো রঙিন। নতুন জীবনে দুটি মানুষ একে অন্যকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসে সুখের পরিবার গড়বে। সবাই সুখে ও শান্তিতে বসবাস করবে। নতুন করে বাঁচতে শিখাবে হতাশাগ্রস্ত মানুষেরা। এভাবে প্রযুক্তির মাধ্যম ব্যবহার করে আস্তে আস্তে মানুষের সেবা করে যেতে চান শিশির।


বিবার্তা/গমেজ/আশিক

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com