চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নতুন দিগন্ত আনতে চায় রোবটযোদ্ধা জয় বড়ুয়া লাভলু
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২২, ১১:১৬
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নতুন দিগন্ত আনতে চায় রোবটযোদ্ধা জয় বড়ুয়া লাভলু
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

স্কুলে পড়ার সময় বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকরা তাকে নিউটন বলে ডাকতেন। আত্মীয়-স্বজন ও স্কুলের সহপাঠী বন্ধুদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন খুদে বিজ্ঞানী হিসেবে। কেননা ক্লাস সিক্সে পড়ার সময়ই তিনি বানিয়েছেন প্রথম রোবট। এরপর রোবটিক্স উদ্ভাবনী চিন্তা তার মাথায় ভর করতে থাকে। পড়ালেখার পাশাপাশি একের পর এক বানাতে থাকেন বিভিন্ন রোবটিক যন্ত্র। এখন তিনি অনেকগুলো রোবটিক যন্ত্রের উদ্ভাবক।


এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি হলেন চট্টগ্রামের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ইলেকট্রনিক্সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত জয় বড়ুয়া লাভলু। মানুষের নিত্যদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা এখন তার নিত্যদিনের কাজ। তবে নানান প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে তার এই উদ্ভাবনী কার্যক্রম। লাভলুর রোবটিক যন্ত্রের উদ্ভাবক হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে অনেক কথা।


বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জন্ম জয় বড়ুয়া লাভলুর। বাবা রবি বড়ুয়া পেশায় একজন আসবাব মিস্ত্রি। মা রীনা বড়ুয়া গৃহিণী। পরিবারে লাভলু দুই ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ।


বাবা নিয়মিত রেডিও শুনতেন। বাসার সে রেডিও নষ্ট হলে বাবা নিজেই খুলে ঠিক করতেন। তিনি বাবার এসব কাজ গভীর মনোযোগ সহকারে দেখতেন। শিশুমনে কৌতূহল হতো তার। সে কৌতূহল মেটাতে মাঝেমধ্যে বাসার ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্সের জিনিস খুলে আবার সেটা লাগাতেন। ছেলের আগ্রহে বাবাও সায় দিতেন। দিন দিন তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় মাথায় আসে উদ্ভাবনী চিন্তা। বানিয়ে ফেললেন প্রথম রোবট। নাম দেন হোম ক্লিনিং রোবট। ঘরদোর পরিষ্কার করতে সক্ষম সে রোবট।


রোবট বানানোর চিন্তার শুরুটা কীভাবে? জবাবে লাভলু বলেন, ছোটবেলা থেকেই পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনের খবরে বিভিন্ন সময়ে যখন উন্নত দেশগুলোর বানানো বুদ্ধিমান রোবটের চিত্র দেখতাম, তখন মাথায় কাজ করতো এটা কী করে বানানো যায়। বিষয়টা নিয়ে ইন্টারনেটে পড়াশোনা, গবেষণা করতাম। রোবট জগত নিয়ে যত জেনেছি, তত বেশি কৌতূহল ও আগ্রহটাও বেড়েছে। সে জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করে কিছু না কিছু তৈরির চেষ্টায় সবসময় খুঁটিনাটি যন্ত্রাংশ নিয়ে লেগে থাকতাম। কখনো কিছু হতো। আবার কখনো ব্যর্থ হতাম। এভাবে বিরামহীন চেষ্টা করে হোম ক্লিনিং রোবটটা বানিয়ে ফেলি।


সেই ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় থেকে তার শুরু। লাভলু এখন ইলেকট্রনিকসে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করছেন চট্টগ্রামের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি রোবটিক্স নিয়ে আছে তার অসংখ্য কাজ। এরই মধ্যে বানিয়েছেন হোম ক্লিনিং রোবট। কৃষক সহায়তায় উদ্ভাবন করেছেন উভচর রোবট, রোবটিক থার্ড হ্যান্ড, ওয়্যারলেস হ্যান্ড, ইএমজি কন্টোল রোবটিক হ্যান্ড, হেড মেসেজ ডিভাইজ, এলিন ওয়ান ফিউচার কার, রোপ ক্যামেরা, ওয়্যারলেস ক্যামেরা, কথা বলা রোবট, রোবটিক্স মুখ ইত্যাদি।


মূলত অঙ্গহীন মানুষের সুবিধার্থে স্নায়ুতন্ত্রকে ব্যবহার করে এ রোবোটিক্স অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করছেন এই উদ্ভাবক।