র‌্যাপ গানে লাখো হৃদয়ের মণিকোঠায় ঢাবির তবীব
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০০
র‌্যাপ গানে লাখো হৃদয়ের মণিকোঠায় ঢাবির তবীব
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

পড়ছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখি তার নেশা। বর্তমান সময়ের সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি, সামাজিক সচেতনতামূলক বিষয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে কবিতা লেখেন তিনি। ইংরেজি, বাংলা ও আরবিতে এসব কবিতা লেখেন। আর সেগুলো ভিডিওতে ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। সেই সাথে নিজের লেখা কবিতার সুর করে দেশে র‌্যাপ গানের এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন তিনি। তিন বছর ধরে এ গান করে লাখো ভক্তের প্রশংসা কুড়িয়ে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই তরুণ শিল্পী।


এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি হলেন বাংলা র‌্যাপ সংগীতের প্রতিবাদী এক কণ্ঠস্বর, তরুণ কবি মাহমুদ হাসান তবীব। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সামাজিক সচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গান করে প্রশংসা কুড়িয়ে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।


তবীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি সাহিত্যে পড়ছেন। তবুও বাংলা ভাষায় প্রতিবাদী কবিতা লিখে, সুর করে নিজের কণ্ঠে গান করে লাখো ভক্তের হৃদয়ের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। সেই সাথে জয় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হৃদয়। এর পেছনে রয়েছে আরো অনেক কাহিনী। সে গল্প জানতে যেতে হবে আরো অনেক পেছনে।


মাহমুদ হাসান তবীবের জন্ম মানিকগঞ্জ জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। বাবা পেশায় সরকারি শিক্ষক। মা গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তাবীব দ্বিতীয়।


তাবীবের শৈশব ও কৈশোরের স্বর্ণালী দিনগুলো কাটে নিজের এলাকায়। মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করে নিজেকে শিক্ষায় যোগ্য করে তুলতে ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি সাহিত্য বিভাগে।


পড়ার বিষয় হিসেবে আরবিকে বেছে নেয়ার কারণ জানালেন তাবীব। তার ভাষ্য, বাবা ঢাবি থেকে একই বিভাগে একই বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স পাস করেছেন। বাবাই আমার অনুপ্রেরণা। তাছাড়া, আরবি সাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডার থেকে বাংলা ভাষার ভাণ্ডারকে যাতে আরো সমৃদ্ধ করতে এবং উভয়ের সংমিশ্রণ ঘটাতে পারি তার জন্য পড়াশুনা করছি। আমাদের দেশের অনেক লেখক ইংরেজি সাহিত্য থেকে সংগ্রহ করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে আরবি সাহিত্য থেকে বাংলায় কাজ খুব কম রয়েছে।


লেখালেখির প্রতি তার নেশা ছোটবেলা থেকেই। সময়ের পালাবদলে ভার্সিটিতে এসে তাতে যোগ হয় নতুন পালক। চলমান সময়ের সমাজব্যবস্থার অসঙ্গতি, অন্যায়, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের দুঃখ-কষ্ট তাকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তোলে। কলমের যাদুতে সেগুলি তুলে ধরতে থাকেন কবিতার ভাষায়। আবার কখনো বা তুলে ধরে নিজে স্ক্রিপ্ট লিখে ডকুমেন্টরি তৈরির মাধ্যমে। সেগুলো ইউটিউবে প্রকাশ করতে থাকেন। এভাবে প্রতিবাদের ভাষা ছড়িয়ে দিতে থাকেন ভার্চুয়াল দুনিয়ার সব শ্রেণির মানুষের কাছে।


কবিতা লিখে নিজে আবৃত্তি করে সেগুলো ইউটিউবে দিয়ে এবং নিজের ডকুমেন্টারির মাধ্যমে তেমন একটা মানুষের নজর কাড়তে পারছিলেন না তবীব। তবে লেখালেখি থামাননি। লিখে যেতে থাকেন। আর নতুন করে ভাবতে থাকেন কী নিয়ে কাজ করলে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নেয়া যায়। মাথায় আসে এই শহরের অলি-গলি, ফুটপাথে থাকা অসহায় ছেলেদের জীবনের হাজারো আবদার, চাওয়া, না পাওয়া, দুঃখ, কষ্ট, বঞ্চনার কাহিনী নিয়ে গান করলে কেমন হয়। নিশ্চয় মন্দ হবে না। তখন মনে মনে খুঁজতে থাকেন পথশিশুদের।