কাঁশফুল দেখতে ছুটছেন ভ্রমণ পিপাসুরা
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৬
কাঁশফুল দেখতে ছুটছেন ভ্রমণ পিপাসুরা
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বালু চরে ছেয়ে গেছে কাঁশফুল। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য গড়ে উঠেছে অস্থায়ী পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন জেলা-উপজেলা থেকে এসব কাঁশফুল দেখতে আসেন শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ। এর মধ্যে অনেকেই আসেন নিজের প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে। অনেক নবদম্পতিই এই কাঁশফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসেন।


শরৎকালেই এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে তেমনি এসেছেন মাইদুল ইসলাম ও আফসানা মিম দম্পতি। তারা বলেন, শরৎকাল মানেই সাদা রঙের খেলা। নীল আকাশে সাদা মেঘ আর নদীর বুকে জেগে উঠা চরে দোল খাওয়া কাঁশবন মনে জাগায় এক অন্য রকম অনুভূতি।


এই দম্পতি আরো বলেন, কুয়াকাটা বা কক্সবাজার যাওয়ার জন্য ব্যয় হয় তা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য, তাই আমরা কোথাও ঘুরতে গেলে অবশ্যই ব্রহ্মপুত্রের বুকে ভেসে ওটা ছোট ছোট দ্বীপগুলোতে চলে আসি। বিশেষ করে শরৎকালে এই ছোট দ্বীপচরগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কাঁশবন আর কাঁশফুলগুলো নয়ানাভিরাম। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানু্ুষেরা কাঁশফুল পছন্দ করে। স্বল্প খরচে এমন দৃশ্য উপভোগ করতে না পারা যেন প্রকৃতিকে অস্বীকার করা। যারা ব্রহ্মপুত্রের দ্বীপচরগুলোতে কখনো আসেননি তাদের এই দৃশ্য দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।



সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চিলমারী ও নয়ারহাট ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদীর শাখাহাতির, ডাটিয়ারচর এলাকা সহ বিভিন্ন চরে দোল খাচ্ছে কাঁশ বন। এই কাঁশবনগুলো শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেনি, কাঁশগাছ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই।


কোন প্রকার খরচ ছাড়াই এক বিঘা জমির কাশ বন বিক্রি করে ১৪-১৫ হাজার টাকা আয় করা যায়। অনাবাদী বালু চরে বন্যার পরে এসব কাঁশ গাছ জন্মে। ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে গাছগুলো বড় হয়ে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে। কাঁশবন বিক্রি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।


চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি চরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার দুই বিঘা জমিতে কাঁশ বন আছে। পাঁচ থেকে ছয় মাস পর কাশ গাছের ফুল পড়ে গেলে গাছগুলো কেঁটে আঁটি বাঁধি। প্রতি হাজার আঁটি ৪ থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।


ব্রহ্মপুত্র নদের নয়ারহাট ইউনিয়নের ডাটিয়ার চর এলাকার মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমার ৩ একর জমিতে কাশিয়ার (কাঁশ) আবাদ হয়েছে। প্রতিবছর বন্যার পর এমনিতেই জমিতে জন্ম নেয়। আর মাত্র এক থেকে দেড় মাস পর জমির কাশিয়া বিক্রি করতে পারবো। আশা করছি এই টাকা দিয়েই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও সংসারে খরচ চালাতে পারবো।



কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদ বীদ মির্জা নাসির উদ্দীন বলেন, ঋতুপরিক্রমায় এখন শরৎকাল। আর সেই শরৎকালের বৈশিষ্ট্য কাশফুল। কাশফুলের আদিনিবাস সুদূর রোমানিয়ায়। এটি বাংলাদেশেরও একটি পরিচিতি উদ্ভিদ। আমাদের কুড়িগ্রামে এটি অতিপরিচিত। যেহেতু কুড়িগ্রামে ৪২০টিরও বেশি চরাঞ্চলে রয়েছে। এসব চরে এখন কাশফুলের সমারোহ। কাশফুলের ইংরেজি নাম ক্যাটকিন। কাশফুলে রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। কাঁশ সাধারণত গোখাদ্যর খর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


তিনি আরো বলেন, কাঁশ দিয়ে গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাউনি, বেড়া নির্মাণ করা হয়ে থাকে। আমাদের অর্থনৈতিক ফসল পানগাছের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে কাঁশ। আমরা জানি কাঁশে অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। পিত্তথলিতে পাথর হলে কাঁশের মূল পিশিয়ে খাওয়ানো হয়। ব্যথা বা ফোঁড়া হলে কাশের মূলের রস উপশম করে। তা ছাড়া পরিবেশ দূষণ, বিশেষ করে যেখানে শিল্প-কারখানার ছাই থাকে, সেখানে কাঁশ জন্ম নিলে পরিবেশ পরিশোধিত হয়।


বিবার্তা/রাফি/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com