‘অর্থনৈতিক অগ্রদূত শেখ হাসিনা’
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৩:৩৪
‘অর্থনৈতিক অগ্রদূত শেখ হাসিনা’
এস এম রিয়াদ রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও সংগ্রামের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশের শাসনভার গ্রহন করেন- যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বলতে কিছুই ছিল না। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করা শুরু করতেই ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে। এরপর নানা প্রতিকূলতায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়েছে। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এগিয়েছে বহুগুণ। ১৩ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের নানা ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রভূত উন্নতি হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং সাহসী নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে শূন্য হাতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থয়নে পদ্মা সেতু, স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে দেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর করেন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখান।


২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা 'দিনবদলের রূপকল্প- ২০২১' নিয়ে অঙ্গীকার করে করেছিলেন, যে রূপকল্পে উল্লেখ ছিল বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নতি করার অঙ্গীকার। লক্ষ্যের অনেক আগেই ২০১৮ সালেই বাংলাদেশ 'স্বল্পোন্নত' দেশ থেকে 'উন্নয়নশীল' দেশে উন্নীত হয়েছে।


বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন। পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পরপর আরও দুবার নির্বাচনে জয়লাভ করে চতুর্থ মেয়াদে (টানা তৃতীয় মেয়াদে) শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর হাত ধরে ১৩ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের নানা ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছে।


বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নয়নশীল প্রথম পাঁচটি দেশের একটি। আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থান ও অগ্রযাত্রা এখন সারা বিশ্বে স্বীকৃত। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন 'দি ইকোনমিস্ট'-এর ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বের ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম।



ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা 'সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ' তাদের 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল- ২০২১'-এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক অগ্রগতি এভাবে চলতে থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫টি বড় অর্থনীতির একটি হবে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্ভাবাস অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। উন্নয়ন গবেষকরা আজকের বাংলাদেশকে 'উন্নয়নের রোল মডেল', 'এমার্জিং টাইগার', দক্ষিণ এশিয়ার 'তেজি ষাঁড়', প্রভৃতি অভিধায় ভূষিত করেছেন।



গত ৫০ বছরে দেশে বাংলাদেশের কৃষিতে ঘটেছে বিপ্লব। সবচেয়ে সফলতা এসেছে গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে।বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। ধান, গম ও ভুট্টার উৎপাদন বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শীর্ষ খাদ্য উৎপাদনকারী ১১ দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। ফলে কৃষিতে অন্তত ৯টি ফসল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। কৃষিতে বাংলাদেশের এই সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহারণ হিসেবে প্রচার করছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে ২০০৯ সালে যেখানে দানাদার খাদ্যশস্যে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে ২০২১ সালে উৎপাদন হয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে ফল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৩ লাখ টন, সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ লাখ টন বেড়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টন উৎপাদিত হয়েছে।


২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে- অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিগত ১৩ বছরে গড় অর্জন, এর আগের যেকোনো সময়ের থেকে বেশি হয়েছে। ২০০১-২০০৬ সাল যেখানে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, সেখানে ২০০৯-২০২১ সালে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়। মাথাপিছু আয় ২০২১ সালে এসে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৫৪ ডলার। ১৯৭৫ থেকে এ পর্যন্ত মাথাপিছু আয়ের যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তার ৭৩ শতাংশই ঘটেছে গত ১৩ বছরে।


১৯৭২-৭৩ সালে যেখানে জিডিপির আকার ছিল ৮ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২১ সালে মোট জিডিপি ৪০৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল, ২০০৫ সালেও দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়। চরম দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ২৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২০১৯ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে।


বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির ফলে পোশাক, খাদ্যশস্য, পানীয়, তামাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, ভোজ্যতেল, রাবার ও প্লাস্টিক পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, হালকা ইন্জিনিয়ারিং দ্রব্যাদি, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল প্রভৃতির উৎপাদন বেড়েছে। যার ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো ও রপ্তানি উভয়ই সম্ভব হচ্ছে।


বাংলাদেশে ইতিহাসে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ২৬ লাখ ৬৬ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। যা এর আগের বছরের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। প্রায় দুই দশক ধরে রপ্তানি আয়ের ৮০-৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।


বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় সাফল্য দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে। রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, উড়াল সেতু, রেলপথ, স্কুল-কলেজ, গ্রোথ সেন্টার, হাট-বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, সাইক্লোন শেল্টারসহ নানামুখী উন্নয়ণ করে শহর ও গ্রামীণ জনগণের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করে জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য এনেছেন।



নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর রচিত একটি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নানা সামাজিক সূচকে যেমন গড় আয়ু, শিক্ষার হার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমানো, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তির শতকরা হার, টীকাকরণ প্রভৃতিতে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে আরও কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের অর্জন তুলনা করা যেতে পারে।



যেমন ১৯৭২ সালে গড় আয়ু ছিল ৪৬ দশমিক ৫ বছর, বর্তমানে ৭২ দশমিক ৮ বছর। ১৯৭২-৭৩ সালে রাজস্ব আয় ছিল ১৬৬ কোটি টাকা, বর্তমানে ২০২১-২২ সালে রাজস্ব আয় হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব বেড়েছে ১ হাজার ৫৬৬ গুণ। ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা, যা ২০২১-২০২২ সালে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজেটের আকার বেড়েছে ৭৬৮ গুণ।


বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সাথে কথা হয় বিবার্তার। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সন্তোষজনক। যার মাইলফলক আমরা অতিক্রম করেছি, নিন্ম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণিত হয়েছি। যা আমাদের দেশের জন্য একটা বড় অর্জন। সামনে এগিয়ে যাওয়ায় এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ। যাতে উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তর হওয়া যায়।


এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বিবার্তাকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা অপরিসীম। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭০ এর দশকে যদি আমরা বলি আমাদের দেশের গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছর। এখন ২০২২ সালে তা বেড়ে ৭৩-৭৪ বছরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যগত দিক থেকে অনেক ভালো আছি যে, আমরা অনেকদিন বাঁচতে পারছি। এগুলো তো স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় ধরনের অবদান। উন্নত দেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাজেটের ৫ শতাংশ ব্যয় করা হয় আর বাংলাদেশে মাত্র ১ শতাংশ ব্যয় করা হয়। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যখাতে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, যদি টারসিয়ারি হেলফ্ ফ্যাসিলিটির দিকে তাকাই, তাহলে টারসিয়ারি হেলফ্ ঢাকা মেডিক্যালে যে পরিমাণ সেনসেটিভ রোগী বহন করে, দেশের অন্যান্য বিভাগের মেডিক্যাল বা হাসপাতালে তেমন রোগী বহন করে না বা কম করে। আর থাকলেও তা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাই টারসিয়ারি হেলফ্ লেভেল যাতে বিভাগীয় ও জেলা হাসপাতালে শক্ত করতে পারি, তাহলে এর ইমপেক্ট আরো পরবে। তাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ দরকার। আমরা বলতে পারি জিডিপির ক্ষেত্রে আমাদের ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে বা ৩ শতাংশে নিই।



সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে একটি দেশ আরেকটি দেশের উপর নির্ভর করে। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগের ফলে দেশের অর্থনেতিক উন্নয়ন সাধিত হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আশেপাশের সকল দেশের থেকে ভালো আছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে আছে। বাংলাদেশের অর্জন অনেক ভালো।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সার্টিফিকেটধারী শিক্ষার্থী তৈরি করছি। অর্থাৎ আগে ইলিটারেড ছিল সেখানে এখন সে স্কুলে যায়। আমরা লিটারেসি রেড যেটা বলি সেটার মধ্যে একটা রিকফ্লেকশন হয়, এখন যে জায়গাটা আমরা বলতে পারি। তাঁর চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কোয়ালিটি এডুকেশনের উপর গুরুত্ব দেওয়া। ধরেন, একটা ছেলে মাস্টার্স পাশ করছে অথচ ক্লাস এইটের জ্ঞান নাই। কারণ আমরা তারে সেই টেস্টগুলা করি না। আইকিউ টেস্ট করে যে মেধাটা যাচাই করা হয়, আমরা সেই লেভেল অব কোয়ালিটি অর্জন করতে পারছি না। উন্নত দেশগুলো যেভাবে শিক্ষার ডাটা সংগ্রহ করে আমরা সেই ভাবে করি না। যে কারণে আমাদের ন্যাশনাল ল্যাবের সার্ভেতেও আমরা উন্নত দেশ হওয়ার চিন্তা করছি। তাই এই ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের জিডিপির পার কেপিডে ইনকামের ক্ষেত্রেও বিশাল সফলতা এসেছে। প্রতি পার কেপিডে ২৮২০ টাকা ইনকাম, যেটা সামনে এক-দুই বছরের মধ্যে আমরা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। ৩ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া মানে গত ৫০ বছরের মধ্যে একটা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সফলতা এসেছে। যা বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।



অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এই সরকারের বিশেষ অবদান হচ্ছে জিডিপির গ্রোথ। দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি আগে যেখানে ৪-৫ শতাংশ ছিল এটা এখন বেড়ে গড়ে ৬ শতাংশের বেশি হয়েছে। গত ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে ৮.১৫ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। তার মানে শেখ হাসিনার হাত ধরে এই সরকারের সময়েই সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পৃথিবীর সেরা পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এক নম্বর স্থানে অল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছেছে। আপনি যদি আপনার সম্পর্কের প্রবৃদ্ধি করেন, তার প্রভাবটা কিন্তু অন্য জায়গায় ফেলতে পারেন। অতএব সেই দিক থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। আমি বলি এটা সরকারের একটা বড় অর্জন।


বিবার্তা/রিয়াদ/রোমেল/কেআর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com