সংসদে অধ্যাপক আরেফিনকে নিয়ে মিথ্যাচার, বইছে প্রতিবাদের ঝড়!
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২২, ২১:৫৪
সংসদে অধ্যাপক আরেফিনকে নিয়ে মিথ্যাচার, বইছে প্রতিবাদের ঝড়!
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

সম্প্রতি মহান জাতীয় সংসদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের একজন সদস্য। তার এ প্রশ্নকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে প্রতিবাদের ঝড়। সেইসাথে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে করা মন্তব্য প্রত্যাহারসহ মন্তব্যকারীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিও উঠেছে।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) মহান জাতীয় সংসদে দেয়া জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের বক্তব্যকে ঘিরে এই সমালোচনার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি দেশব্যাপী শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরেফিন সিদ্দিকের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। আর সেখানেই বাধে বিপত্তি!


বক্তব্যে তিনি বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হচ্ছে? এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘ডাক্তার-প্রকৌশলী বানাচ্ছি, কিন্তু মানুষ বানাচ্ছি কতগুলো?’ দায়িত্ব তো উনিও এড়াতে পারেন না। উনি তো ঢাবির ভিসি ছিলেন। তার কোনো গবেষণা ছিল না, ডক্টরেট ডিগ্রি নেই! পরে তার এ মন্তব্য ভাইরাল হয়। যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। কারণ অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের ডক্টরেট ডিগ্রিসহ একাধিক গবেষণাও রয়েছে।


আবু আহসান মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন সিদ্দিক ( আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক) ১৯৭৫ সালে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার পর ১৯৮৬ সালে ভারতের মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সাউদার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক এই উপাচার্য।


১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৪ ও ২০০৫ সালে ঐ সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তিনি ১৫ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই তাকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।


বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদের বর্ণাঢ্য অ্যাকাডেমিক ও প্রোফেশনাল ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে ডক্টরেট ডিগ্রি ও গবেষণা না থাকার অভিযোগ। তবে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন, মিথ্যা আখ্যা দিয়ে শুরু হয়েছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।



২ জুলাই (শনিবার) অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কাজী ফিরোজ রশিদের অসত্য এবং মানহানিকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জার্নালিজম স্টুডেন্ট কাউন্সিল (বিজেএসসি)। এদিন বিজেএসসির সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তাওসিফ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই প্রতিবাদ জানায়।


এরআগে শুক্রবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বপন কুমার দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে ঘিরে মন্তব্যের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ জুন মহান জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ ডিইউএমসিজেএএ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অসত্য, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। আমরা তার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কোনো ডক্টরেট ডিগ্রি নেই। এই অভিযোগটির ন্যূনতম কোনো সত্যতা নেই।


বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ ধরণের বিদ্বেষপ্রসৃত অসত্য এবং মানহানিকর বক্তব্যে প্রত্যাহার এবং মহান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদানের জন্য কাজী ফিরোজ রশিদকে দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে, আমরা তার এই বক্তব্যের অংশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রহণের অনুরোধ জানাই।


এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগটির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী বিবার্তাকে বলেন, জাতীয় সংসদ এমন একটি জায়গা, যেখানে বক্তব্য দেয়ার আগে কিংবা মন্তব্য করার আগে পুরো ব্যাপারটাকে ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। তথ্য প্রমাণ ছাড়া বিনা কারণে এখানে মন্তব্য করা অনুচিত। যিনি মন্তব্য করেছেন তিনি একজন রাজনীতিবিদ৷ এদিকে আরেফিন সিদ্দিক স্যার শিক্ষাবিদ। দুইজন দুই দিকের মানুষ। তারপরেও কেন তিনি স্যারের কথা টেনে এনে এই ধরণের মন্তব্য করলেন, অসত্য বক্তব্য দিলেন, জাতীয় সংসদের মতো জায়গায়। সেটা আসলেই আমরা কেউ বুঝে উঠতে পারছি না।


তিনি বলেন, আজকে অনেক কিছু হচ্ছে। শিক্ষকদের সাথে ক্রমাগত ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে। জুতোর মালা পড়ানো হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে, আরো কত কী! আরেফিন সিদ্দিক স্যারকে ঘিরে এই ঘটনা শিক্ষক লাঞ্ছনার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। আর এ বিষয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হওয়া দরকার।


তিনি আরো বলেন, আরেফিন সিদ্দিক স্যার স্বল্পভাষী ও স্বচ্ছ একজন মানুষ। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব থাকাকালে অনেকে অ্যাগ্রেসিভ আচরণ করলেও স্যার ছিলেন একেবারেই ব্যতিক্রম। কখনো তাকে কটুকথা বলতে দেখিনি। আর কাউকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার প্রশ্নই আসে না। কাজেই এতো মৃদুভাষী একজন মানুষকে হঠাৎই টেনে এনে কেন এই মন্তব্য করা হলো, সেটাই প্রশ্ন।


অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রসঙ্গ টেনে সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী বলেন, স্যার দীর্ঘ দশবছর উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন। কাজেই এতো সময় কেউ দায়িত্ব থাকলে তার যোগ্যতার বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকে না। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পদোন্নতি পেতে হয়। স্যারও একই প্রক্রিয়ায় তার ডিগ্রি দেখিয়ে পদোন্নতি পেয়েছেন। এমনকি বিভাগের চেয়ারম্যান হয়েছেন। তাছাড়া তিনি সফলতার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি স্যারের উপাচার্যের দায়িত্ব থাকাকালে ১০ বছরে একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বা পরীক্ষা। তার হাত ধরে দূর হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেশনজট।



তিনি বলেন, একজন মানুষ সফলতার সাথে তার দায়িত্ব শেষ করেছেন। এরপরে অবসরে গেলেন। তারও অনেক পরে হঠাৎ করে এই মানুষকে ঘিরে মন্তব্য করা বিস্ময়কর, লজ্জ্বাজনক এবং একইসাথে ধিক্কারজনক। অবিলম্বে তার এই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার জায়গা নেই।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, অপ্রাসঙ্গিক ও অযাচিতভাবে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে এই মন্তব্য মহান জাতীয় সংসদে করা হয়েছে। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।


তিনি বলেন, আরেফিন সিদ্দিক স্যারের যে অ্যাকাডেমিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা- সেই হিসেবে এই অসত্য তথ্য উপস্থাপন ব্যক্তিগতভাবে স্যারের কিছু আসে যায় না। তবে সমাজের জন্য প্রতিবাদ হওয়া উচিত। কারণ, এই ধরণের মিথ্যাচার আরেক মিথ্যাচারের জন্ম দিবে।


তিনি আরো বলেন, আরেফিন সিদ্দিক স্যার যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, সেহেতু উনার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও জড়িত। উনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন এবং উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অতএব, সামগ্রিক বিচারে এই বিষয়টি একটি নিন্দনীয় কাজ। যেহেতু অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেহেতু এটা প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত। একই সাথে মহান জাতীয় সংসদ থেকে এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা উচিত।


জাতীয় সংসদে মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিবার্তাকে বলেন, এই বিষয়গুলোকে আমি গুরুত্ব দেই না। একজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বললেন, সেই কথাগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য তো আমি জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলাম না।


তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য যখন সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলেন- সেটা যদি সঠিক কথা না হয়, তাহলে সেটার দ্বারা সারা দেশবাসী ক্ষতিগ্রস্থ হন। একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে কথা বলবেন, সেটাই আমরা প্রত্যাশা করি। তিনি যে কথাগুলো বলেছেন, তার যৌক্তিকতা তাকে তুলে ধরতে হবে।


তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি- একজন সংসদ সদস্যের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে তার মন্তব্য তুলে ধরার- কিন্তু সেটা যেন সত্যনিষ্ঠ হয়, দেশের উপকারে আসে এবং শিক্ষার স্বার্থে কাজে লাগে। তিনি যে কথাগুলো বলেছেন অর্থাৎ শিক্ষক নির্যাতনের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেখানে আমিও দায় এড়াতে পারি না। বিভিন্ন টকশোতে কথা বলেছি। কোথাও আমি নিজের দায় এড়ায়নি।


ঢাবির সাবেক এই উপাচার্য বলেন, শিক্ষকদের উপর যে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে, সেটা বিস্ময়কর! আমরা শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দিতে পারি নাই। তাদেরকে সঠিক ও মানবিক শিক্ষা দিতে পারলে হয়তো এতোগুলা ঘটনা ঘটতো না। বঙ্গবন্ধু যে মানবিক শিক্ষার কথা বলেছেন, সোনার মানুষের কথা বলেছেন, সেখান থেকে আমরা বহুদূর সরে এসেছি। সেই কারণে শুধু সংসদ সদস্য নয়, বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে মানবিকতার চরম অবক্ষয় দেখতে পাচ্ছি।


অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিককে নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়ে জানতে জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদকে ফোন করা হলে তিনি বিবার্তাকে বলেন, আমি বাহিরে আছি। পরে ফোন দেন।


বিবার্তা/রাসেল/রোমেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com