মোবাইল সেবার মান উন্নয়নে বিটিআরসির নজরদারি বাড়াতে হবে
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২২, ২১:৩৫
মোবাইল সেবার মান উন্নয়নে বিটিআরসির নজরদারি বাড়াতে হবে
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

রংপুর অঞ্চলে রবির গ্রাহক বেশি। সেখানে অন্য অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যা কম। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বিনিয়োগ অনুপাতে লাভ কম হয়। তাই সেখানে তারা নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে ইকুইপমেন্ট বসাতে আগ্রহী নয়। এর জন্যই নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। যে অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা বেশি তার সাথে অন্য অপারেটররা নেটওয়ার্ক ও টাওয়ার শেয়ারিং করলে ওই অঞ্চলের সব অপারেটরের গ্রাহকরা মানসম্মত সেবা পেতে পারেন।


বিবার্তা২৪ডটনেটের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন গ্রাহকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সারাদেশে গ্রাহকদের মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা দিতে গেলে অপারেটরদের একসাথে কাজ করতে হবে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের ভালোমানের ফোরজি সেবা দেয়া সম্ভব না।


২৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার বিবার্তার কার্যালয়ে টেলিকম সেক্টরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মহিউদ্দিন আহমেদ। আলাপে উঠে আসে টেলিযোগাযোগ খাতে মোবাইল অপারেটরদের অব্যবস্থাপনা, সেবার মান উন্নয়নে দিক-নির্দেশনাসহ বিভিন্ন দিক। আলাপের কিছু অংশ বিবার্তা২৪-এর পাঠকদের জন্য ‍তুলে ধরা হলো।



বিবার্তা: মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান উন্নত হচ্ছে না কেন?


মহিউদ্দিন আহমেদ: বিষয়টা আমি এভাবে দেখি, সেটি হলো প্রথমত, গ্রাহক অনুপাতে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গের অভাব। দ্বিতীয়ত, ফাইবার নেটওয়ার্কের অপর্যাপ্ত ব্যবহার। তৃতীয়ত, ট্রাফিক অনুপাতে যে বিটিএস টাওয়ার আছে, সেখানেও ঘাটতি রয়েছে। তারসাথে তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়িক কারসাজি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাতো আছেই।


বিবার্তা: মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্কসহ নানা গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যার কী কোন সমাধান নেই?


মহিউদ্দিন আহমেদ: অবশ্যই আছে। এই সমস্যার সমাধান করতে আমরা সাংগঠনিকভাবে ২০১৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টে একটা রিটপিটিশন দাখিল করি। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দিতে এবং গ্রাহককে ২৪ ঘণ্টা মেসেজ না দিতে অপারেটরদেরকে নির্দেশ দেয়। পরে অপরারেটররা সাময়িক কিছু গ্রাহকদের কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দেয়। বর্তমানে অপারেটররা গ্রাহকদের কলড্রপের কোন ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। কলড্রপের কারণও গ্রাহককে জানায় না। অন্যদিকে, নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে আমরা ২০২১ সালে মহামান্য হাইকোর্টে আরেকটি রিটপিটিশন দাখিল করি। এর জবাবে অপারেটররা তরঙ্গ স্বল্পতার বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে বিটিআরসি চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি তরঙ্গ নিলাম করে। দীর্ঘ ৬ মাস পার হলেও এখনও নেটওয়ার্কের কোন মান উন্নয়ন হয়নি। দুর্বল নেটওয়ার্ক, কলড্রপ ও গ্রাহক ভোগান্তি দিন দিন সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। যার প্রেক্ষিতেই গত ২৬ জুন গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে নতুন সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।



বিবার্তা: প্রায়ই শোনা যায় মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেট প্যাকেজের নামে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে। এসব ভোগান্তির শেষ কোথায়?


মহিউদ্দিন আহমেদ: বিষয়টা আসলেই দুঃখজনক। বিষয়গুলো আমারও নজরে এসেছে। বেশ কিছু গ্রাহক আমাকে এসব বিষয়ে অভিযোগও করেছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সমস্যার সমাধানে বিটিআরসির কাছে একটা লিখিত পরামর্শ দিয়েছি। সেটি হলো, সুনির্দিষ্ট কিছু মোবাইল ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজ অনুমোদন দেয়া। সেই প্যাকেজ সম্পর্কে গ্রাহককে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো। যেমন, একজন ফিচার ফোন ব্যবহারকারী যখন রিচার্জ করেন, তাকে যে রিচার্জটা দেয়া হয়, তার সাথে ডাটা এবং টক টাইম যুক্ত করে দেয়া হয়। ফলে ওই গ্রাহক ৫/১০ মিনিট কথা বলার পর দেখা যায় তার ব্যালেন্স শেষ। গ্রাহক জানেনই না যে, তাকে ডাটা দেয়া হয়েছে। ফলে ওই গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ করেন। কিন্তু যদি তাকে এই প্যাকেজ সম্পর্কে আগে থেকে জানানো হতো, তাহলে সে প্রতারিত হতেন না। আমাদের দাবি ছিল, গ্রাহকের কেনা অব্যবহৃত ডাটা ফেরত দেয়ার। মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও বিটিআরসি বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে অব্যবহৃত ডাটা ফেরত দেয়ার নির্দেশ করেছিলেন। দেখা গেল এক্ষেত্রেও প্যাকেজের মারপ্যাচে গ্রাহকরা অব্যবহৃত ডাটা ফেরত পাচ্ছেন না।



আমার মতে, বর্তমান মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস চার্জ কমিয়ে এক অংকে নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ ভ্যাট-ট্যাক্স খরচসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে হাজারে ৯ টাকা চার্জ ধার্য করতে হবে। বর্তমান কর হার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আন্ত লেনদেনের চার্জ শূন্যে (০) নামাতে হবে। সেইসাথে সেন্ড মানি চার্জ সকল অপারেটরকে শূন্য (০) টাকায় নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ সেন্ড মানি ফ্রি। দৈনিক লেনদেনের পরেও অপারেটরদের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সঞ্চিত থাকে। এই টাকা অপারেটরেরা কলমানি মার্কেটে বিনিয়োগ করলেও সেই বিনিয়োগের লভ্যাংশ গ্রাহকেরা পায় না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থের ওপর লাভ দিতে হবে। তবে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান কিঞ্চিৎ পরিমাণ লাভ গ্রাহকে দিয়ে থাকে। ভ্যাটসহ কোন সেবার চার্জ কত টাকা কাটা হয়েছে, তা প্রতি লেনদেনের সাথে সাথে গ্রাহককে জানানোর কথা থাকলেও দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে তা জানায় না।



বিবার্তা: প্রান্তিক পর্যায়ে এবং দুর্গম অঞ্চলে মোবাইল সেবার মান বৃদ্ধিতে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?


মহিউদ্দিন আহমেদ: প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাহক কম থাকায় অপারেটররা বিনিয়োগ করতে খুব একটা আগ্রহী না। যদি নেটওয়ার্ক ও টাওয়ার শেয়ারিং অনুমোদন দেয়া হয়, তাহলে খুব দ্রুতই প্রান্তিক পর্যায়ে মানসম্পন্ন সেবা দেয়া সম্ভব। যেমন, রংপুর অঞ্চলে রবির গ্রাহক বেশি। সেখানে অন্য অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যা কম। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগ যেহেতু লাভজনক নয়, তাই অন্য অপারেটররা রংপুর অঞ্চলে তাদের নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে ইকুইপমেন্ট বসাতে আগ্রহী নয়। এর জন্যই প্রয়োজন নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের অনুমোদন। যে অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা বেশি তার সাথে অন্য অপারেটররা নেটওয়ার্ক ও টাওয়ার শেয়ারিং করলে ওই অঞ্চলের সব অপারেটরের গ্রাহকরা মানসম্মত সেবা পেতে পারেন। মোবাইল সেবার মান উন্নয়নে বিটিআরসির নজরদারি বাড়াতে হবে।



বিবার্তা: সারাদেশে ‘একদেশ এক রেটে’ ইন্টারনেট সেবা ঘোষণা করা হয়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম নিয়ে আপনার মতামত কী?


মহিউদ্দিন আহমেদ: এটা মূলত, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট শেয়ারিং সেবা পদ্ধতি। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সবচেয়ে নিম্নমানের গতি হলো ১০ এমবিপিএস। অন্যদিকে, একদেশ এক রেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে সর্বনিম্ন ৫ এমবিপিএস প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। যা সাংঘর্ষিক, কারণ ৫ এমবিপিএস হচ্ছে ন্যারো ব্যান্ড। আইএসপি অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম বিল আদায় করে। ফলে মানসম্পন্ন সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করলে উল্টো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। বিটিআরসির কোনো মনিটরিং সেল না থাকায় এবং স্থানীয় মান্তান ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ীরা এই ব্যবসায় যুক্ত থাকায় গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবার বদলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লাঞ্ছিত হয়। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে নেটওয়ার্ক শেয়ারিং ব্যবসা বাদ দিয়ে গ্রাহককের ডাটার সাথে গতি বাড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি মাস্তানদের নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ আইএসপি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে বিটিআরসির তদারকি বাড়াতে হবে।


বিবার্তা: মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের (এমএফএস) সেবার মান কেমন?


মহিউদ্দিন আহমেদ: সার্বিক দিক বিবেচনা করলে এমএফএস সেবার মান ভালো। তবে সার্ভিস চার্জ নিয়ে কিছু অব্যবস্থাপনা রয়েছে। যেমন, আপারেটরদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের পাশাপাশি রিটেইলারও অতিরিক্ত অর্থ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করেন। যেমন, ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বা ১৪ টাকা ৭০ পয়সা চার্জ নেয়ার কথা থাকলেও মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউটের সময় রিটেইলার হাজারে আরো ২টাকা বেশি নিয়ে থাকেন। আবার পান বা মুদি দোকানিকে রিটেইলার নিয়োগ করায় গ্রাহকরা হয়রানি এবং নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে যায়। এর সাথে হ্যাকার, অসাধু, দুষ্কৃতকারীদের দৌরাত্ম্য- এই সেবায় গ্রাহকদেরকে চরমভাবে বিপদে ফেলছে। প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটছে।



বিবার্তা: মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে আরো গ্রাহকবান্ধব করতে করণীয় কী?


মহিউদ্দিন আহমেদ: আমার মতে, বর্তমান মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস চার্জ কমিয়ে এক অংকে নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ ভ্যাট-ট্যাক্স খরচসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে হাজারে ৯ টাকা চার্জ ধার্য করতে হবে। বর্তমান কর হার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আন্ত লেনদেনের চার্জ শূন্যে (০) নামাতে হবে। সেইসাথে সেন্ড মানি চার্জ সকল অপারেটরকে শূন্য (০) টাকায় নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ সেন্ড মানি ফ্রি। দৈনিক লেনদেনের পরেও অপারেটরদের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সঞ্চিত থাকে। এই টাকা অপারেটরেরা কলমানি মার্কেটে বিনিয়োগ করলেও সেই বিনিয়োগের লভ্যাংশ গ্রাহকেরা পায় না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থের ওপর লাভ দিতে হবে। তবে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান কিঞ্চিৎ পরিমাণ লাভ গ্রাহকে দিয়ে থাকে। ভ্যাটসহ কোন সেবার চার্জ কত টাকা কাটা হয়েছে, তা প্রতি লেনদেনের সাথে সাথে গ্রাহককে জানানোর কথা থাকলেও দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে তা জানায় না। এ ধরনের নির্দেশনার অমান্যের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দিতে হবে। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। এমএফএস সেবার পরিধি বৃদ্ধি করতে এই সেবাকে মোবাইল ওয়ালেট হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এমএফএস সেবায় এই মুহূর্তে একটি প্রতিষ্ঠানের বাজার শেয়ার ৭০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। গ্রামীণফোনের মতো ওই প্রতিষ্ঠানটিকেও সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাসম্পন্ন পরিচালনাকরী (এসএমপি অপারেটর) হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এটি হলে গ্রাহকেরা আরো বেশি উপকৃত হবে। এ বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিলেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আরো গ্রাহকবান্ধব হবে বলে আমার বিশ্বাস।


বিবার্তা: মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো জোরদার করতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?


মহিউদ্দিন আহমেদ: তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে গ্রাহকরা মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস নিতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ে থাকেন। তাই এমএফএস-এর নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া রিটেইলার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের নজরদারির আওতায় আনলে এমএফএস সেবায় প্রতারণা বন্ধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করি।



বিবার্তা: কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন?


মহিউদ্দিন আহমেদ: আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন একটা বাংলাদেশকে দেখতে চাই যেখানে থাকবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত ন্যায়পরায়ণ বিচার ব্যবস্থা এবং উন্নত সমৃদ্ধ নিরাপত্তামূলক সব ব্যবস্থা। এমন একটা ডিজিটাল স্মার্ট বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে সমতা, ন্যায্যতাসহ সকল ধর্মের সহবস্থান। বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি সফল ও রফতানিকারক দেশ। বাংলাদেশের গণতন্ত্র অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে সারা বিশ্বে। আমদানি নির্ভর না হয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি সমুন্নত রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার পরিহার করে নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে বাংলাদেশ। এমনটাই প্রত্যাশা করি।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com