“আজ মহান স্বাধীনতা দিবস”
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২২, ১০:৫৭
“আজ মহান স্বাধীনতা দিবস”
কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
প্রিন্ট অ-অ+

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। সকল বাঙালিদের কাছে গৌরবময় আনন্দের দিন। দীর্ঘ ২৪ বছরের পরাধীনতার গ্লানি থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বাঙালি জাতি পায় নিজেদের একটি ঠিকানা, একটি দেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা পরবর্তী কয়েকদিন সারাদেশে বিভিন্ন ব্যক্তি দ্বারা পঠিত হয়।


১৯৪৭ সালে দেশভাগের ফলে জন্ম নেয় একটি নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান। ১২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুটি অঞ্চলকে একটি দেশ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। যে দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যভ্যাস কোনো কিছুতেই মিল ছিলো না। অবসম্ভাবী ছিলো এই দুটি অঞ্চলের আলাদা হয়ে যাওয়া। পাকিস্তানের জন্ম লাভের শুরুতেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা প্রথম আঘাত হানে আমাদের ভাষার উপর। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলা হবার পরেও ওরা উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। শুরু হয় আন্দোলন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের পর একে একে আসে ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ৬৬’র ঐতিহাসিক ৬ দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচনের ঐতিহাসিক জয় ও সর্বশেষ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।


পাকিস্তানি শাসকেরা বাঙালিদের উপর বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকভাবে বাঙালিদের দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আমাদের অঞ্চলে উৎপাদিত ফসল হতে আগত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে ওদের অঞ্চলে কলকারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হতো। সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের সংখ্যা ছিলো মাত্র ৩ শতাংশ। এই বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে বাঙালিদের কাছে স্বাধীনতার বিকল্প ছিলো না।


সেই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখান তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ার “খোকা”। বাঙালিদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। তিনিই বাঙালিদের মুক্তির সনদ ৬ দফা প্রস্তাবনা রাখেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয় লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকেরা ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তালবাহানা শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন- “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রা”। সেখানেই তিনি সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেন। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে লড়াই করার আহ্বান জানান।


পাকিস্তানি বাহিনী বুঝে গিয়েছিলো বাঙালিদের আর দাবিয়ে রাখা যাবে না। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদারেরা নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’। বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হবেন এটা সম্ভাব্যই ছিলো। তিনি গ্রেফতার হবার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। যে নেতা তাঁর জাতির জন্য দীর্ঘ ১৪ টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন তার আহবানে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালিরা। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিবাহিনীরা। লাভ করে স্বাধীনতা। কিন্তু বিনিময়ে দিতে হয় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত।


তাই ২৬ মার্চ আমাদের জীবনে এক অনন্যসাধারণ দিন। এদিন আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই। আমাদের এই অর্জনকে অর্থবহ করে তুলতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা এখনো তৎপর আমাদের অর্জনকে মুছে দিতে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে বাঙালি জাতি তাদের স্বাধীনতার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবে। তবেই স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারবে সবাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। এখনো অনেকটা পথ বাকি। তবে সবাই একসাথে চেষ্টা করলে যত বাধাই আসুক আমরা সফলতা অর্জন করবোই।


জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ যুব-মহিলা লীগ।


বিবার্তা/আশিক

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com