ভেঙে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট?
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২২, ১১:০৪
ভেঙে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট?
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ভোটে অংশ নেয় বিএনপি। ওই নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর থেকেই দলটি আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে পারেনি। সেই থেকে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচলে রয়েছে বিএনপি। তাই ঐক্যফ্রন্টের এই করুণ দশা। গত প্রায় সাড়ে তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে ফ্রন্টের কোন কার্যক্রম নেই। এমন কি ঐক্যফ্রন্টের কোন বৈঠকও হয় না। এরমধ্যে ফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপি রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে।


এই সংলাপ প্রক্রিয়ার কারণে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কি ভেঙে যাচ্ছে? তবে বিএনপি এবিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটি বলছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থাকবে কি থাকবে না- তা সংলাপের মধ্যে দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর ফ্রন্ট ভাঙার আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বলছেন যে, বিএনপি হয়তো ফ্রন্টকে ভেঙে না দিয়ে এর পরিধি আরো বৃদ্ধি করবে।


জাতীয় ঐক্য ভেঙে দেয়া এবং রাখার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংলাপের মধ্যে দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি।


তবে জাতীয় ঐক্যফন্ট নিয়ে এখনো হাল ছাড়েননি গণফোরামের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রুত চৌধুরী। তিনি বিবার্তাকে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখনো আছে। আর ঐক্যফ্রন্টকে হয়তো ভাঙা হবে না। এটার পরিধি আরো বাড়িয়ে কিছু একটা হবে। বিষয়টি বিএনপির জাতীয় ঐক্যের সংলাপের মধ্যে দিয়েই হয়তো করা হবে।


যে আশা এবং প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল- সেই ফ্রন্টকে নিয়েই দলটির কেনো এত অবিশ্বাস তৈরী হয়েছে- এমন প্রশ্ন রেখেছেন ঐক্যফ্রন্টের শরীক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বিবার্তাকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি, এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বেরিয়ে গেলেন, ফ্রন্ট ও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেন। এসব বিষয় তো আছেই- এর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বলেছেন, ভোটের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট করা ভুল ছিল। একারণে বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের ওপরে আস্থা রাখতে পারছে না। আর দলটি আরো দেখছে যে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন সফলতা নেই।


জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বেরিয়ে যাওয়ায় এবং ফ্রন্ট ও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করায় জোটের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে মানছেন শীর্ষ নেতারা। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন সফলতা নেই- একথা ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা মানছেন না।


তারা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট জনগণকে দেখিয়ে দিয়েছে, বর্তমান সরকারের অধিনে কোন দিন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আর আজকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে জনগণ দেখতে পারছেন না, এটাও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বড় একটা সাফল্য।


জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বিবার্তাকে বলেন, নির্বাচনে বিজয়ই যদি সফলতা হয় তাহলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন সফলতা নেই। কিন্তু আমি তো মনে করি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সফল। কারণ আজকে এই সরকারের দুর্নীতি ও অপকর্মগুলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। এটা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বড় একটা সফলতা বলে আমি মনে করি। আর একারণে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে এদেশের মানুষ আর পছন্দ করে না।


জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঐক্যফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিবার্তাকে বলেন, বিএনপি কার সঙ্গে জোট করবে- এটা তাদের বিষয়। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাখবে কি রাখবে না- ঐক্যফ্রন্টের বড় দল হিসেবে এই সিদ্ধান্তটাও বিএনপিই নেবে।


২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে সরকারবিরোধী নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু তাদের এই দাবি ও লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। বলতে গেলে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঐক্যফ্রন্টর সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাটাই বেশি ভারী। এসব বিবেচনায় নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দেয়ার পক্ষে।


এবিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বিবার্তাকে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল দল বিএনপি। কিন্তু এটা এখন থেকেও নাই। কারণ ড. কামাল হোসেনের বয়স হয়েছে। একারণে উনি কাজ করতে পারেন না। বিএনপি এখন জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে। দেখা যাক কি হয়।


বিবার্তা/কিরণ/রোমেল/কেআর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com