কুয়েট ছাত্রলীগ কি বলির পাঁঠা?
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:১৫
কুয়েট ছাত্রলীগ কি বলির পাঁঠা?
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্ববিদ্যালয়ের ​ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট)।


মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) অধ্যাপক সেলিম হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অভিযোগ উঠেছে, সেদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঞ্ছনা ও অপদস্থের শিকার হওয়ার পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।


শিক্ষকের স্বজনদের ভাষ্য, বাসায় ফেরার পর ড. সেলিম বাথরুমে যান। বেলা আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন, দীর্ঘ সময় হলেও সেলিম হোসেন বের হচ্ছেন না। দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে কয়েক দিন ধরে ছাত্রলীগ নেতারা প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর জেরেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


তবে শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান বলেন, শিক্ষক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ‘কুচক্রী মহল’ নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে। ওই শিক্ষকের মৃত্যুকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।


শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সঙ্গে জড়িত কারা, এমন প্রশ্নের জবাবে সাদমান নাহিয়ান বলেন, প্রথমত এখানে অনেকগুলো সংগঠনই তাদের মতো করে রাজনীতি করছে। শিক্ষকদের একটা অংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের একটা অংশ ও শিক্ষার্থীদের একটা অংশ আছে। প্রত্যেকে ব্যক্তিগত কিছু স্বার্থের জায়গা থেকে এগুলো করছে। সামনে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, কর্মকর্তাদের সংগঠনের নির্বাচন। এ জন্য তারা সবাই সবার জায়গা থেকে এটাকে ইস্যু বানিয়ে কথা বলছে। একই সঙ্গে আমাদের সংগঠনের অন্য অংশের কিছু নেতা-কর্মী এবং ভিন্ন মতাদর্শের কিছু শিক্ষার্থীও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেনের অকালমৃত্যুতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে শোকাহত।


কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান ওই দিন অধ্যাপক সেলিম হোসেনের সঙ্গে দেখা করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিতি হওয়া এবং হলের নানা কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানানোর জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় প্রাধ্যক্ষ নিজ কার্যালয়ে একটি মিটিং নির্ধারণ করেন। ক্লাস শেষ করে পূর্বনির্ধারিত মিটিংয়ে যোগ দিতে শিক্ষার্থীদের আনুমানিক ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়। পরে পথে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা হয় এবং তাকে বিলম্বের কারণ জানানো হয়। তখন তিনি আমাদের তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। এরপর প্রাধ্যক্ষ তার কার্যালয়ে তালা খুললে শিক্ষার্থীরা তার অনুমতি সাপেক্ষে ভেতরে প্রবেশ করে।


সব শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন সিনিয়রদের ভেতরে বসতে এবং জুনিয়রদের কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। সিনিয়রদের সঙ্গে তার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি বাইরে অপেক্ষমাণ ছাত্রদের ডেকে ভেতরে আনেন। এ সময় তিনি তাদের বলেন, আমার তো আড়াইটায় ল্যাবে কাজ আছে। আমি সন্ধ্যায় হলে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে পরিচিত হব। এরপর তিনি বিদায় নিয়ে বের হন।


সাদমান নাহিয়ান বলেন, আমরা জানি না শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী। তবে মৃত্যুসনদ অনুসারে জেনেছি, তিনি স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি হলের অভিভাবক। হলসংক্রান্ত কথাগুলোতে তার কাছে পেশ করার জন্যই তো আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের এই দেখা করাটাকেই কেন্দ্র করে একটা পক্ষ আমাদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে, তারা আমাদের বলির পাঠা বানাতে চাচ্ছে। তারা শুধু অপরাধী বানানোর চেষ্টাই করছে না, বিবৃতি পর্যন্ত দিচ্ছে। উপাচার্য বরাবর দাবি জানাচ্ছি দেখা করার ফুটেজ দেখেই আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।


এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুয়েট শিক্ষক সমিতি। শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছাত্রদের বহিষ্কারসহ শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষক একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।


এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।


তবে এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি বিবার্তাকে বলেন, কুয়েটের ঘটনায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অবগত আছেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ঘটনায় যদি ছাত্রলীগের কারো জড়িত থাকার প্রমাণ মিলে তাহলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বিবার্তা/রাসেল/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com