অভয়ারণ্য হাজারিখিল
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২২, ১১:১৯
অভয়ারণ্য হাজারিখিল
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১১৭৭.৫৩ হেক্টর জমি নিয়ে এই বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যটি গঠিত। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চল। হাজারিখিল অভয়ারণ্য সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারিখিল বন্য প্রাণীর এক অভয়ারণ্য।


এ বনাঞ্চলের মধ্যেই রয়েছে বিচিত্র সব বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হাজারিখিল, যেখানে আছে ১২৩ প্রজাতির পাখি। রঙ-বেরঙের এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বিপন্ন প্রায় কাঠময়ূর ও মথুরা। আছে কাউ ধনেশ ও হুতুম পেঁচাও। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ থাকার কারণে চিরসবুজ এই বনে এমন কিছু প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে, যা অন্য কোনো বনে সচরাচর দেখা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে হুদহুদ, চোখ গেল, নীলকান্ত, বেঘবৌ, আবাবিল। এসব পাখির আকার-আকৃতি, বর্ণ ও স্বভাবে বৈচিত্র্যময়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এক গবেষণায় পাখির এসব প্রজাতির সন্ধান পায় গবেষক দল।


শান্ত, নিরিবিলি, পরিষ্কার পরিচ্ছন একটা পরিবেশের মধ্যে বনে ক্যাম্পিং করতে যারা চান তাদের জন্য সেরা এক জায়গা হলো এই হাজারিখিল অভয়ারণ্য। ইউএসএআইডি ও বন বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হয় এই বন! ক্যাম্পিংয়ের জন্যে যা যা লাগে সবকিছু সেখানেই পাবেন।


আপনি যদি ক্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি ঘুরতেও চান সেক্ষেত্রে ঘুরার জন্য বন-জঙ্গল ও চা বাগান আছে! ৭-৮ কিলোমিটারের ভয়ংকর এই হাজারিখিল ট্রেইল! ট্রেইলটা শেষ হয় ‘কালাপানি’ ঝরনাতে। অসাধারণ এই হাজারিখিল ট্রেইল।


হাজারিখিল ট্রেইলে ঢুকলে আপনি ঝিরিপথ, ক্যাসকেডর মধ্য দিয়ে আবেগী হয়ে সামনে হাঁটতেই থাকবেন খালি। ঝিরিপথ, ক্যাসকেডের একেকটি মোড় পার হয়ে যতই সামনে এগিয়ে যাবেন ততই অবাক হবেন কারণ পুরো ট্রেইলটাই অসাধারণ সুন্দর।


হাজারিখিল অভয়ারণ্যে প্রায় ২৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি, প্রায় ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৮ প্রজাতির উভচর আছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণী আছে। যেগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ বা প্রাণী হিসিবে চিহ্নিত করে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।


বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর মধ্যে আছে হিমালিয়ান সেরু ও ঢেলু। এদেরকে বন ছাগল ও বন কুকুর বলা হয়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে আছে মায়া হরিণ, মুখপোড়ো হনুমান, কাঁকড়াভুক বেজি, মেছোবাঘ, বড় অজগর ইত্যাদি।


পাখি আছে খুদে কাঠঠোকরা, বড় বসন্তবাউড়ি, নীলকান্ত, বেঘবৌ, ছোট বসন্তবাউড়ি, তিত মাছরাঙা, সাদা বুক মাছরাঙা, মেঘ হও মাছরাঙা, সবুজ সুইচোরা, খয়েরি মাথা সুইচোরা, নীল লেজ সুইচোরা, বড় কানাকুকা, বউ কথা কও, কোকিল, সবুজ কোকিল, সুরেলা কোকিল, তোতা, টিয়া, আবাবিল, নাক কাটি, লক্ষ্মীপেঁচা, খুরলে পেঁচা, ডোরা কালি পেঁচা, কালো পেঁচা, জালালি কবুতর, তিলা ঘুঘু, রাম ঘুঘু, ধলা ঘুঘু, ছোট হরিয়াল, কমলা বুক হরিয়াল, হলুদ পা হরিয়াল, ডাহুক, বনমোরগ, জয়াড কাঠঠোকরা, বর্মি কাঠঠোকরা, সবুজ কাঠঠোকরা, সোনালি কাঠঠোকরা, মেটে টুপি কাঠঠোকরা। আরো আছে— জলপিপি, হট্টিটি, মেটে মাথা হট্টিটি, বেশরা, তিলা ঈগল, ভুবন চিল, শঙ্খ চিল, ছোট মাছ মুরাল, ছোট বাজ, পানকৌড়ি, গো-বক, সাদা বক, মাইজলা বক, কানি বক, ওয়াক, শামুক খোল, ধূসর বুক টুনি, সাধারণ বন টুনি, পাতা বুলবুল, সবুজ বুলবুল, তাত শালিক, ঝুঁটি শালিক, গোবরে শালিক, কাঠশালিক, পাতিকাক, দাঁড়কাক, কুটুম পাখি, সবুজ হাঁড়িচাছা, ফিঙ্গে, কেশরাজ, ভীমরাজ, ছোট ফিঙে, হলদে পাখি, ফটিকজল, লাটোরা, আলতাপরী, লেজ নাচানি, বাদামি কসাই, বড় কাবাশি, চামচ কসাই, মেটে পিঠ কসাই, সিপাহী বুলবুল, কালো বুলবুল, ধূসর বুলবুল, কালো মাথা বুলবুল, শ্যামা, কালোঘর রাজন, দোয়েল, ফুটফুটি চটক, নীল শিলাদামা, শিলাদামা, লাল বুক চটক, মেটে মাথা ছোট চটক, নীলকান্তমণি চটক, এশীয় খয়েরি চটক, লেজ চেরা পাখি, টুনটুনি, সাত ভায়লা, সাদা মুকুট পাঙ্গা, পাঙ্গা, কালচে ফটক, ম্যাকারিন, বেগুনি বুক মৌটুসি, নীল টুনি, মৌচাটুনি, সিঁদুরে লাল মৌটুসি, বাধা টুনি, দাগি সাঁতারে, লাল ফুলঝুরি, তিত পাখি, চড়ুই পাখি, বাবুই, মাঠ চড়াই, তিলা মুনিয়া, বন খঞ্জন, সাদা খঞ্জন, ধূসর খঞ্জন ও হলদে মাথা খঞ্জন।


সম্প্রতি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এক গবেষণায় এই অরণ্যে এমন কিছু পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে, যা অন্য কোনো বনে সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় না। সেই তালিকায় আছে হুদহুদ, নীলকান্ত, বেঘবৌ, আবাবিলসহ আরও অনেক আকার-আকৃতি, বর্ণ ও স্বভাবের বৈচিত্র্যময় পাখি।


মস্ত বড় ঠোঁট ও শিরস্ত্রাণের জন্য বিখ্যাত পাখি কাউ ধনেশও আছে। সেটিও বিপন্নপ্রায় পাখিদের মধ্যে একটি। হয়তো দেখা পেওয়া যেতে পারে পানির কাছাকাছি কোনো বড় অন্ধকার গাছে ডালপালার মধ্যে আত্মগোপন করা হুতুম পেঁচারও। আরও উল্লেখযোগ্য পাখির তালিকায় আছে হট্টিটি, বেশরা, ওয়াক, আলতাপরী, লেজ নাচনি, বাদামি কসাই, সাত ভায়লা, ম্যাকারিন, ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দল এসে এই অরণ্যকে করে তোলে পাখিদের স্বর্গরাজ্য।


এখানে প্রায় ২৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি, প্রায় ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৮ প্রজাতির উভচর রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। যেগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ বা প্রাণী হিসিবে চিহ্নিত করে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদের তালিকায় রয়েছে সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, গামারি, ছাতিয়ান, চুন্দুল, গুটগুটিয়া, ইত্যাদি। বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু বিরল প্রজাতির বৃক্ষ "বৈলাম" এখানে দেখতে পাওয়া যায়। যার উচ্চতা হয় প্রায় ১০০ মিটার। যা হাজারিখিল ছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও প্রায় নেই বললেই চলে। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর মধ্যে রয়েছে "Himalayan Serow", "Dhole". এদেরকে আমাদের ভাষায় যথাক্রমে বন ছাগল এবং বন কুকুর বলা হয়ে থাকে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে মায়া হরিণ, মুখপোড়ো হনুমান, কাঁকড়াভুক বেজী, উদবিড়াল, মেছোবাঘ, বড় অজগর ইত্যাদি।


হাজারিখিলে ঢুকলেই অনেক দূর থেকে ঝরনার পানির শব্দ শুনতে পাবেন। কাছে মনে হলেও এটি বনের অনেক গভীরে। যা সবার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। যাদের হাতে সময় কম থাকে তারা কখনো এই ঝরনায় যাওয়া উচিত নয়। কারণ ঝরনার পথ খুবই বিপজ্জনক ও দূর্গম।


ঝরনার পথে এগিয়ে যেতেই প্রথমে চোখে পড়বে বিশাল চা বাগান। আরও দেখতে পাবেন গাছের মধ্যে বেঁধে রাখা বিভিন্ন ঝুলন্ত কাঠের দোলনা। আছে বিভিন্ন প্রজাতির উঁচু গাছ। উপজাতিদেরও দেখা পাবেন।


কিভাবে যাবেন?


চট্টগ্রাম থেকে বাসে ফটিকছড়ি এসে সিএনজি নিয়ে ১৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হাজারিখিল অভয়ারণ্যে পৌঁছাতে পারবেন।


কোথায় খাবেন?


হাজারিখিল অভয়ারণ্যে অবস্থিত ভাতঘরে খেতে পারবেন। আবার ইচ্ছে হলে অভয়ারণ্য কাছে অবস্থিত বিবির হাটে গিয়েও খাবার খেতে পারেন। আর সুযোগ থাকলে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় মেজবানি ও কালা ভুনা খেয়ে দেখতে পারেন।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com