'আওয়ামী লীগ বাঙালির ইতিহাস, বাঙালির আবেগ অনুভূতি'
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৪, ২৩:১৩
'আওয়ামী লীগ বাঙালির ইতিহাস, বাঙালির আবেগ অনুভূতি'
সামিনা বিপাশা
প্রিন্ট অ-অ+

একটি জাতির বহু ধর্ম বর্ণ গোত্র ও শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, এমন সাফল্যলাভ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য, অভাবনীয় নেতৃত্ব গুণের এবং প্রত্যয় ও প্রচেষ্টার ফসল। বাঙালি জাতির ক্ষেত্রে এই সাফল্য সম্ভবপর হয়েছিল উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং বাঙালির ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন এ আত্মপ্রকাশ ঘটে দলটির। ২৩ জুন, রবিবার আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।



প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ গঠনের আদর্শ, একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক-প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তি রচনা করে আওয়ামী লীগ।



১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার কে এম দাস লেনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ প্রাঙ্গণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী মুসলিম লীগের প্রগতিশীল কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে পাকিস্তান রাষ্ট্রে প্রথম বিরোধী দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটির প্রথম কমিটিতে মওলানা ভাসানী সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলে থাকা অবস্থায় যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান।


আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে যাত্রা শুরু করলেও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালে কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয়- ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম নেয় দলটি, যেটি এখন প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। প্রতিষ্ঠার প্লাটিনাম জয়ন্তী বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।


১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডের অধ্যায় ইতিহাসের পাতায় লিখিত হয়। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, উত্তরা থেকে মতিঝিল চলছে ঢাকাবাসীর স্বস্তির মেট্রোরেল। চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম টানেল। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর বহুমুখী দ্বিতল পদ্মা সেতু। মহাকাশে স্যাটেলাইট। প্রতিবেশী দেশের সাথে ছিটমহল বিনিময়। স্থলসীমানা নির্ধারণ, নতুন জলসীমা জয়। শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ঘরে ঘরে ইন্টারনেট সুবিধা- যার কারণে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ গুরুত্বারোপ। করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে বাংলাদেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আরো সক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২১-২০২৫ মেয়াদি অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ। প্রায় ১০ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য জমিসহ বাড়ি নির্মাণ। বিনামূল্য প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা এবং উপবৃত্তির মাধ্যমে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। মূলত, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার কারণেই এসব অর্জন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে- ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্মার্ট বাংলাদেশ স্লোগানে দেশের মানুষকে শতভাগ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙালির অর্জন এবং বাংলাদেশের সকল উন্নয়নের মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে ‘ডেল্টা পরিকল্পনা’ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।


আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বিবার্তাকে বলেন, এদেশের মানুষের মুক্তি এবং স্বাধিকারের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। শুরু থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, বাঙালি জাতির স্বাধিকার ছাড়া তাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না। কারণ দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভাজিত হওয়ার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বারা শোষণ, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছিল। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যান। পূর্ব পাকিস্তানের সেই সময় থেকেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৫৪'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৬'র শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা আন্দোলন এর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে একদিকে যেমন ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তেমনি ছয় দফার মধ্যেই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশনা। এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ম্যান্ডেট পাওয়ার পর '৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে বাঙালি জাতি যেমন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।



হানিফ বলেন, বাঙালি জাতির যা কিছু অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে, উন্নয়ন অগ্রগতির মাধ্যমে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগের কারণেই। আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালির ইতিহাস, আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির আবেগ অনুভূতি। এই দেশের প্রতিটি কণা, প্রতিটি ইঞ্চি মাটির সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক।



তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। পাশাপাশি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই আওয়ামী লীগ পাকিস্তান আমলেই যেমন আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক ছিল, এখনও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আস্থা এবং নির্ভরতার দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। অচিরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত হবে।


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি বিবার্তাকে বলেন, ৭৫ বছর পূর্ণ করল আওয়ামী লীগ। জন্ম থেকেই এই দলটি বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয় বিকাশের পথ ধরে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কল্যাণ ও সমৃদ্ধির সেই প্রত্যয়েই দলটি আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে।



নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী, জনপ্রিয় ও গৌরবান্বিত এক রাজনৈতিক দল। যে প্রত্যয় নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল সেই প্রত্যয়েই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের দায়িত্ব নিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। বাংলাদেশের যত সাফল্য সব কিছুর সাথে একাকার হয়ে আছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের সাফল্যের প্রবাহমান স্রোতধারা বেড়েই চলেছে, আর এই গতিই বাংলাদেশের মানুষের কাছে দলটিকে আস্থায় পরিণত করেছে।



বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এমপি বিবার্তাকে বলেন, আওয়ামী লীগের জন্মই হয়েছিল এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। পরবর্তীতে যেটি স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হয়। আওয়ামী লীগের সবসময়ই লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ করা। দলটি সেই লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি সমর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থায় আছে এবং যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তা অদূর ভবিষ্যতে ২০৪১ সালে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আমরা সেই লক্ষ্যে এখন কাজ করে যাচ্ছি।


বিবার্তা/এসবি/রোমেল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com