শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে প্রযুক্তির স্বর্ণযুগে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৩১
শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে প্রযুক্তির স্বর্ণযুগে বাংলাদেশ
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার ১৮ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করা হয় ২০২১ সালে দেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ পরিণত হবে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, সহজেই নাগরিক সেবা প্রাপ্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবস্থাপনা, কর্মপদ্ধতি, শিল্প-বাণিজ্য ও উৎপাদন, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনযাত্রা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনার লক্ষ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়।


২০০৯ সালের পর থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল, এক যুগ পর সেটি প্রযুক্তির স্বর্ণালী যুগে প্রবেশ করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষরাও প্রযুক্তির সুফল ভোগ করছেন। সব নাগরিক সেবা ও জীবনযাপন পদ্ধতিতে প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে এক বিশ্বস্ত মাধ্যম। এখন সেলফোন বা অনলাইনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে মানুষ।


প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্টনায়কের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে সেই রাষ্ট্র প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যায়। রাষ্ট্রনায়কের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে সে দেশ সঠিকভাবে কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না। বঙ্গবন্ধু যেমন তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, ঠিক তেমনি ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সময়োপযোগী নানা যুগান্তকারী উদ্যোগের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির স্বর্ণ যুগে নিয়ে এসেছেন। তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন।


প্রধানমন্ত্রী দক্ষ নেতৃত্ব এবং খ্যাতিমান তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান, নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তব। সারাদেশে ইউনিয়নগুলোতে উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। মোবাইল ফোনের সংযোগ সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি।


শেখ হাসিনা সরকারের প্রযুক্তিতে সাফল্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মহাকাশে নতুন ইতিহাস রচনা করা। ২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটনির্ভর সম্প্রচার ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করে। বিশ্বের ১৯৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্পেস সোসাইটিতে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয় বাংলাদেশের নাম। দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশনসহ সম্প্রচারমাধ্যম এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে, যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি অন্যান্য দেশকে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।


ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথডের মূল্য হ্রাস, ইন্টারনেট ব্যবহারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবকাঠামো সৃষ্টি এবং সর্বোপরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের মূল্য ছিল ৭৮ হাজার টাকা; কিন্তু এই সরকার প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের মূল্য ৩০০ টাকার নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৯ সালের আগে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেখানে ১০ লাখ ছিল, সেখানে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। সারাদেশে ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের মাধ্যমে ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে এবং ১৮ হাজার ৫০০টি সরকারি অফিসকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি অবকাঠামো গড়ে ওঠার কারণে দেশের সফল সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। সরকার ২ হাজার সেবা ডিজিটাইজড করেছে। বর্তমানে ৮ হাজার ৩৬৩টি ডিজিটাল সেন্টারে ১৬ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে। মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতিমাসে ১ কোটি মানুষ এসব সেন্টার থেকে সেবা গ্রহণ করছেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিমাসে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি-কৌশল বাস্তবায়নের সাফল্যকে তুলে ধরছে। ৯টি হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক/আইটি ইনকিউবেশন সেন্টারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ই-নথি, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩, ই-নামজারি, আরএস খতিয়ান সিস্টেম, কৃষি বাতায়ন, ই-চালান, এক পে, এক শপ, একসেবা, কিশোর বাতায়ন, মুক্তপাঠ, শিক্ষক বাতায়ন, আই-ল্যাব, করোনা পোর্টাল, মা টেলি হেলথ সার্ভিস, প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার, ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম, ডিজিটাল ক্লাসরুমসহ অনলাইনে অসংখ্য সেবা জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করেছে। করোনার মতো মহামারি মোকাবেলায় বাংলাদেশ অনন্য সাফল্য দেখিয়েছে প্রযুক্তির কল্যাণে, যা শুধু দেশে নয়, বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে।


সূত্রমতে আরো জানা গেছে, দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এআই, রোবোটিকসহ ৩৩টি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অপরদিকে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সরকার ৫০০ কোটি টাকা ফান্ড দিয়ে এই আইটি স্টার্টআপদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।



শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ যে একটা নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে ২০২০-২০২১ সালের বৈশ্বিক মহামারি করোনার পরিস্থিতি মোকাবেলার মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা এবং আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিরলস পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশে যে ব্যাপক ডিজিটাইজেশন হয়েছে তারই সুফল পাওয়া গেছে করোনার সময়ে। অফিসের মিটিং, স্কুলের ক্লাস, ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা সবকিছুতেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হয়েছে।



করোভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই বাংলাদেশ চিকিৎসাসেবা, সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ, সঠিক পরীক্ষা ইত্যাদি নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। কিন্তু রোগের ধরন, ভাইরাস থেকে সুরক্ষার উপায়, রোগীদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে করণীয়, টেস্ট করানো সম্পর্কিত তথ্য ইত্যাদি জরুরি বিষয়ের সঠিক তথ্য জানার জন্য কোন নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ছিলো না। এসব সমস্যা দূর করে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য সহজে পৌঁছে দিতে সরকারের আইসিটি ডিভিশন সময়োপযোগী বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে।


করোনার সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তথ্যপ্রযুক্তি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান করেছে। সরকারি অনলাইন লার্নিং সেবা 'মুক্তপাঠ' এর গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার, যা পূর্বে ছিলো ২ লাখ ৩২ হাজার। করোনায় ১১ হাজার ৪০০ শিক্ষক ৩ কোটি ৫০ লাখ অনলাইন ক্লাস নিয়েছেন যার সুবিধা গ্রহণ করেছে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও অনলাইনে ১৮৭ কোর্সের মাধ্যমে ১০ লাখ ৬৫ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।


চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি ই-নথি ব্যবহারের জন্য আবেদন করা গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৬.৮ লাখ। ‘মাই গভ’ অ্যাপস ব্যবহারকারী মাসে ৪ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৭১৩ জন। সরকার প্রদত্ত ‘৩৩৩ তথ্য ও সেবা’ সার্ভিসের ব্যবহার ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ ৯২ হাজারে। এই সার্ভিস ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক তথ্য জেনেছেন ৪ লাখ ৯ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে ই-প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৫৩১ জনকে। এই সার্ভিস ব্যবহার করে জরুরি ওষুধ বা নিত্য পণ্যের জন্য আবেদন করেছেন ১ লাখেরও বেশি মানুষ।


ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া ছিলো বিচার বিভাগেও। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অনলাইন বিচার ব্যবস্থা শুরু হয় যেখানে মে মাসে আবেদন করেন ১৫ হাজার ৫৫৩ জন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অনলাইনে শুনানির দিন ধার্য হয় ১১ হাজার ৪১৬ মামলার, যার মধ্যে ৯ হাজার ৪৭৪ মামলার শুনানি হয় এবং জামিন পান ৬ হাজার ৪৮৬ জন।


করোনাকালে জনগণকে তথ্য জানাতে চালু করা 'www.corona.gov.bd' পোর্টাল থেকে নিয়মিত তথ্য গ্রহণ করেছে ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। এই 'নিউ নরমাল' জীবনে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যাংকিং ক্ষেত্রে। মানুষ ব্যাংক বা এটিএম সার্ভিসে যাওয়ার পরিবর্তে বাড়িয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। এ ছাড়াও 'প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার', 'কৃষকের পণ্য' এমন বেশ কিছু সেবামূলক সার্ভিস ব্যবহার সুযোগ পেয়েছেন দেশে ও দেশের বাহিরে থাকা প্রবাসীরা।


ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের মেধাবী তরুণ-তরণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে ২০১৮ সালে সারাদেশে ২৮টি হাই-টেক পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ হাই–টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শুরুতেও ‘জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়)’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় হাই-টেক পার্কের কার্যক্রম চালু হয়েছে। তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবছরও বিভিন্ন জেলায় আইটি/হাই-টেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সব কাজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে করছে বাংলাদেশ হাই–টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। নেতৃত্বে দিচ্ছেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ।



এ প্রসঙ্গে ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বিবার্তাকে বলেন, ২০০৮ সালের যুগান্তকারী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এক নতুন সময়ে। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ‘দিন বদলের সনদ’কে সামনে রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের এক মহা কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। একইসাথে ভিশন-২০২১ প্রনয়নের মাধ্যমে দিকহারা বাংলাদেশ যেন পায় নতুন লক্ষ্য। পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রো রেল নির্মাণের মতো বিশাল সব মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি শতভাগ বিদ্যুতায়ন, প্রতিটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, শক্ত অর্থনীতি তৈরি করা, শতভাগ শিক্ষার হার অর্জন করা, দারিদ্র্য নির্মূল করার মতো জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার।


তিনি বলেন, ২০০৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশের একটা ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। আগে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৬০০ ডলারের নিচে। এখন সেটি উন্নীত হয়েছে ২৮৬০ ডলারে। দেশের তরুণদেরেকে মেধা সম্পদে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। মেধাবী তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে সারাদেশে হাইটেক পার্ক ও আইটি ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৯টি হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক/আইটি ইনকিউবেশন সেন্টারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব পার্কগুলিতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্ব ও তাঁর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শী পরিকল্পনায় ডিজিটাল বাংলাদেশের কাজ পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সাল নাগাদ দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে নানান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তখন আমাদের দেশ হবে উন্নত ও উচ্চ আয়ের দেশ। আমরা হবো জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী জাতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হবে, আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি তাঁর দূরদর্শী দক্ষ নেতৃত্বে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে স্মার্ট। আমরা হবো স্মার্ট জাতি।



প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিতে সাফল্যের বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন তারুণ্যের বাতিঘর। বাংলার তরুণরা এখন ইন্টারনেট শক্তি ব্যবহার করে নিজেদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে। অর্থনীতি ও উন্নয়ন, সমাজনীতি, সংস্কৃতি, আইন-শৃঙ্খলা, পররাষ্ট্রনীতিসহ সকল খাতকে প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সফলতার গল্প আজ শুধু জাতীয় কিংবা আঞ্চলিক পর্যায়ে নয়, গোটা পৃথিবীতে তাঁর সাফল্যের কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বে তিনি দীর্ঘতম সময় ধরে নেতৃত্ব দেয়া জাতীয় নেতা। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সফলতা বিশ্বেরও বিস্ময়। এককথায় তিনি উন্নয়ন, সুশাসন ও সফলতার প্রতীক।


তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের উপর ভিত্তি করে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সাশ্রয়ী, টেকসই, উদ্ভাবনী, বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞাননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ এবং উন্নত দেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন তা একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য তিনি যে স্বপ্ন দেখছেন তার বাস্তবায়ন সফল হোক, তিনি দীর্ঘজীবন লাভ করুন- এটাই আমাদের সকলের কামনা।


প্রযুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ প্রযুক্তির মুখ দেখেছে শেখ হাসিনার হাত ধরে। আমরা যে এখন প্রযুক্তি বিপ্লবের কথা বলছি এর আগে কেউ এমন বিপ্লব চোখেও দেখে নাই। বিপ্লব সম্পর্কে কেউ ধারণাও করে নাই। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনকে একটা ডিজিটাল নির্বাচন হিসেবে পরিগণিত করেছিলেন। আমি তখন ‘আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ’ নামে একটি নিউজ সার্ভিস করেছি। সেই নিউজ সার্ভিস দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করেছি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায় আসেন বস্তুত বাংলাদেশ তখন তৃতীয় শিল্পযুগে পা দিয়েছে। তখন বড় ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা ছিল কম্পিউটারের উপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার। এই কাজটি যদি তিনি তখন না করতেন, তাহলে আজকে ঘরে ঘরে কম্পিউটার-এর কথাটি আমরা ভাবতেও পারতাম না। আমার স্পষ্ট মনে আছে, ঠিক সে সময় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আমি বছরে ১০ হাজার কম্পিউটার প্রোগ্রামার তৈরি করতে চাই। তখন তো আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট কখনও দুই গুণ, তিনগুণ, চারগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সাথে সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনিযে তথ্যপ্রযুক্তির চর্চাটা শুরু করেন, এটি একটা অসাধারণ বিষয় ছিল। তিনি তখন ‘হাউ টু এক্সপোর্ট সফটওয়্যার ফ্রম বাংলাদেশ’ বলে একটা টাস্কফোর্স গঠন করেছিলেন। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেই টাস্কফোর্সে ৪৫টি রিকমেন্ডেশন ছিল। ২৮টি তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন। বাকিগুলো বাস্তবায়নের পথে ছিল।



দেশে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রদূত মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল হচ্ছে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি। এর উপর ভিত্তি করে পরবর্তীকালে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা এগিয়ে যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য হল, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যে কাজগুলি করতে চেয়েছিলেন সেগুলি তিনি করতে পারেননি। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তখনকার সরকার বেগম খালেদা জিয়া দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাওয়ার অজুহাতে সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ গ্রহণ করেননি। সেই সংযোগই তারা ২০০৬ সালে গ্রহণ করেছেন ৩১০ কোটি টাকা দিয়ে। কিন্তু এটাকে কার্যকর করার জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। তাই ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই সাবমেরিন ক্যাবল থেকে মাত্র সাড়ে ৭ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হতো। সুতরাং এই সময়টা হচ্ছে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশ করার সুবর্ণ সময়। এই সময়টার উপরে ভিত্তি করে আজকের বাংলাদেশের ভিত্তিটা তৈরি করেছে। বাকিটা তো এখন আমরা সবাই উপভোগ করছি।


ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সহযোদ্ধা ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৮ সাল থেকে আমি নিজেই সরাসরি ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে যুক্ত। সেই কারণে আমি উঁচু গলায় বলতে পারি যে, ২০০৬ সালে আমরা জাতীয় নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারটা প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। কিন্তু সে ইশতেহার অনুসারে ২০০৬ সালে নির্বাচনটা করতে পারিনি। ২০০৮ সালে আমাদের নির্বাচন করতে হয়েছে। আমার মতে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করেছিল, কোন দলই তার সমতুল্য ইশতেহার তৈরি করতে পারেনি। সেই ইশতেহারের প্রত্যেকটি বিষয় ২০২১ সালে বাংলাদেশ কী পর্যায়ে আসবে, কোন খাত কী অবস্থায় থাকবে তার সমস্ত বিবরণ দেয়া ছিল। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপারটা আমার লেখা ছিল। সেখানে আমি বলেছিলাম আমরা কি কি করতে চাই এবং কোন কোন পথে যেতে চাই। সেটিরই একটা সূত্র ছিল ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হবে। সেরকম একটা লাইন আমরা ইশতেহারে লিখে দিয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটি ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করেন। পরে ২০০৯ সাল থেকে সেটি বাস্তবায়ন করা শুরু করেন।


তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলব, আপনি এখন দেশের যে খাতেই হাত দিতে চান, সে খাতেই আপনি খুঁজে পাবেন ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তরগুলি কী কী হয়েছে। আজকের বাংলাদেশের যে ডিজিটাইজেশন এর পুরোটাই তো এই সময়কার ভিতরের। পুরোটা বলতে শত ভাগ বুঝিয়েছি। ৯৯.৯ ভাগও না। অন্য কোনো সরকার কোনো অবস্থাতেই এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে ভিত্তিটা ছিল, সেই ভিত্তিটা করার জন্য কোনো ধরনের কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করে নাই। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অথবা প্রযুক্তি বিপ্লবের কোনোটাতেই কোনো কাজ করে নাই। পুরোটাই করেছে আওয়ামী লীগ সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com