পটুয়া কামরুল হাসানের জন্মদিন আজ
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫১
পটুয়া কামরুল হাসানের জন্মদিন আজ
শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

কামরুল হাসান একজন বরেণ্য চিত্রশিল্পী। তার আঁকা চিত্রকর্মের নিজস্ব রীতি ছিল লৌকিকতা আর আধুনিকতার মিশেল। তাই তিনি ‘পটুয়া’ নামে খ্যাতি লাভ করেন। শিল্পের এই মাধ্যমটিতে কামরুল হাসান আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি–এক কথায় বাংলার সামগ্রিক রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। আজ তার ৯৯তম জন্মবার্ষিকী।


কামরুল হাসানের জন্ম ১৯২১ সালের ২রা ডিসেম্বর কলকাতায়। সেখানে গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস থেকে ১৯৪৭ সালে চিত্রকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। দেশ বিভাগের পর চলে আসেন ঢাকায়। এখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সাথে যুক্ত হয়ে একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীকার ও অসহযোগ আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সহ যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কামরুল হাসান ছিলেন প্রতিবাদে সোচ্চার।


কামরুল হাসান ছোটবেলা থেকেই সফল সংগঠক হিসেবে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার আঁকা পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের দানবমূর্তি সংবলিত পোস্টার- ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। দেশের জাতীয় প্রতীকসহ বাংলাদেশ ব্যাংক, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, পর্যটন করপোরেশন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মনোগ্রাম অঙ্কন করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। কামরুল হাসান দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের তথ্যকেন্দ্রের প্রধান শিল্পী এবং শিশু সংগঠন মুকুল ফৌজ ও বিসিক নকশাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায়ও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে জাতীয় কবিতা উৎসবের মঞ্চে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বরেণ্য এ শিল্পী।


তার চিত্রকর্ম গণতান্ত্রিক চেতনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আর স্বদেশপ্রেমেরই পরিচয়বাহী। শিল্পীর আঁকা বেশ কিছু চিত্রকলা দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংকটে জনসাধারণকে প্রতিবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। তেমনি একটি ছবির শিরোনাম ‘এই জানোয়ারকে হত্যা করতে হবে’। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার রক্তপিপাসু, হিংস্র মুখমণ্ডল নিয়ে আঁকা একটি পোস্টারের শিরোনাম ছিল এটি। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা এবং বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম তৈরির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।


তার আঁকা ‘তিন কন্যা’ ও ‘নাইওর’ শিরোনামের দুটি চিত্রকর্ম অবলম্বনে যুগোস্লাভিয়া ও বাংলাদেশ দুটি স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করে। ১৯৮৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে কামরুল হাসান এঁকেছিলেন স্বৈরাচার বিরোধী পোস্টার ‘দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে’। এ সময় তিনি দ্বিতীয় জাতীয় কবিতা উৎসবের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছিলেন।


তাঁর চিত্রকর্মের দিকে তাকালে আমরা দেখি কালের লেলিহান রূপ, সতত সুন্দর বাংলার প্রকৃতি ও প্রকৃতিশীল মানুষ ও প্রাণিকুলের সচ্ছল বিচরণ, নারীর বিচিত্র অভিব্যক্তি—ইতি-নেতির ঘূর্ণাবর্তে একটি শিল্পীপ্রাণ কত যে মুদ্রায় ঝলকায় তার প্রমাণ কামরুলের সৃষ্টি।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com