মোটরসাইক্লিং— কীভাবে এড়াবেন দুর্ঘটনা?
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২২, ১২:০১
মোটরসাইক্লিং— কীভাবে এড়াবেন দুর্ঘটনা?
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আপনি নতুন করে বাইক কেনার জন্য আগ্রহী হলে আপনাকে কিছু নিয়ম কানুন জানতে হবে। যদি নুতন চালক হন আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা যদি না থাকে, আপনি যদি মোটবাইক চালানোর নিয়ম কানুন খুব ভালভাবে না জানেন তবে এটা যেকোনো মুহূর্তে আপনার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মোটরবাইক চালানোর আগে আপনাকে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুব ভালভাবে জানতে হবে। মোটরসাইকেল চালানোর সময় কীভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে আজ শিখব সেসব কৌশল—


একজন দায়িত্ববান রাইডার হিসেবে আপনার টাইমিং এবং প্রয়োজনীয় দূরত্ব সম্পর্কে ভালমত জানা প্রয়োজন। যথেষ্ঠ প্রস্ত্ততি থাকলে মোটরসাইক্লিং খুবই আনন্দদায়ক।


★ আপনি মোটর সাইকেল কেনার আগে খুঁটিনাটি জানুন আপনি টেকনিক্যাল মানুষ নাও হতে পারেন কিন্তু মোটর সাইকেলের কিছু মেকানিক্স আপনি সহজেই শিখে নিতে পারেন। প্রায় সব মোটর বাইকের গঠন প্রকৃতি এক তবে বড় মোটর বাইকের ইঞ্জিনটি বেশী বড় আর অনেক বেশী শক্তিশালী হয় ।


★ আপনি রাস্তায় যখন মোটরসাইকেল চালাবেন তখন আপনার পাশের চালকের বিষয়ে সতর্ক থাকুন রাস্তার সব চালক একরকম নয়। অনেক চালক আক্রমণাত্মক ভাবে গাড়ি চালায়। কিন্তু আপনার নিরাপত্তা আপনাকেই বজায় রাখতে হবে। রাস্তায় কোন চালকের দেখাদেখি আপনি জেদি বা আক্রমণাত্মক ভাবে গাড়ি চালাবেন না কখনোই। মোটর সাইকেল চালানোর সময় অবশ্যই আপনি রক্ষণাত্মক ভাবে আপনার মোটর সাইকেল চালাবেন। রাস্তায় ছোট বড় অনেক যানবাহন আছে সেগুলোর ব্যপারে বা আপনার আশেপাশের সব চালকদের ব্যাপারে সজাগ হলে আপনি নিরাপদ থাকবেন আরও বেশী।


★ আবহাওয়ার হঠাৎ বদলে যেতে পারে এ ব্যপারে নিজে প্রস্ততি নিন যেকোনো সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। আপনি হয়ত পরিষ্কার আকাশ আর সুন্দর আবহাওয়ার দেখে ঘর থেকে মোটর বাইক নিয়ে বের হলেন আর তারতোই শুরু হল ঝড় বৃষ্টি। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে আপনার বাইক চালানোতে পরিবর্তন আনুন। আপনি যদি ঝড় বৃষ্টিতে মোটর বাইক চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য না পান তবে তা থামিয়ে রাখুন আর অপেক্ষা করুন ঝড় বৃষ্টি থামা পর্যন্ত। তবে বৃষ্টির সময় বাইক খুবই সাবধানতার সঙ্গে চালাতে হবে।


★ নতুন হোক বা পুরাতন হোক নিয়মিত মোটর সাইকেল পরীক্ষা করুন প্রতিবার মোটর বাইক নিয়ে বাইরে বের হবার আগে বাইকের সব কিছু ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিবেন । ব্যস্ততার কারণে এটি না করা মানে রাস্তায় আরও বেশী ঝুঁকির মধ্যে পড়া।


যেমন ধরুন চেইন, বেল্ট, ব্রেক ও শ্যাফট সব কিছু যথাযথ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে সব ঠিকমতো কাজ করছে আর তা যদি না করেন যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যেকোনো সময় । মাঝে মাঝে আপনার পছন্দমতো ভাল কোন মেকানিকের কাছে অথবা আপনার নিজের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত মোটর সাইকেল পরীক্ষা করুন ।


★ বাঁক ঘুরতে চাইলে বেশ কিছু নিয়ম আপনার জানা প্রয়োজন। যখন আপনার মোটরসাইকেল আস্তে চলবে ও রাস্তাটি হবে অল্প বাঁকের- তখন শুধু মোটর সাইকেল কাত করলেই চলে; আপনার শরীর সোজা রাখা তখন জরুরী।


★ এগুলো আপনার ফাঁকা রাস্তায় প্র্যাকটিসের প্রয়োজন হবে। প্রথমে দেখে নিন পিছনে বা সামনে থেকে যানবাহন আসছে কিনা তারপর এই নিয়ম গুলো মেনে চলুন তাহলে দেখবেন নির্বিঘ্নে বাঁকটি পেরিয়ে যেতে পারবেন।


★ ★ গতি কমান (২৫/৩৫ কি:মি:)
★ ★ যেদিকে যেতে চান সেদিকে তাকান (দুরে তাকান; সামনের চাকার কয়েক ফুট সামনে নয়!!)
★ ★ কাউন্টার স্টিয়ারিং! যেদিকে ঘুরবেন তার বিপরীতে হ্যান্ডেল বারে পুশ করতে হয়ে বলে একে বলে কাউন্টার স্টিয়ারিং। এটা শুনতে অদ্ভুত কিন্তু অনেকেই এটি নিজের অজান্তেই হয়তো করে থাকেন। ডানে যেতে চাইলে ডান হাত সামান্য সামনে ঠেলতে হবে। বাম হাত সামান্য টানতে হবে। অনুরুপভাবে বামে যেতে চাইলে বামহাতে হ্যান্ডেল সামান্য সামনে ঠেলতে হবে এবং ডানহাতে সামান্য নিজের দিকে টানতে হবে। তবে যেহেতু বিষয়টি বহু প্র্যাকটিসের প্রয়োজন সেহেতু আপনি যেদিকে যেতে চান সেদিকেই হ্যান্ডেল বার ঘোরান। যখন খুব ভাল চালাতে শিখবেন তখন এটা প্র্যাকটিস করুন। খুব স্পিডে ঘুরতে চাইলে কাউন্টার স্টিয়ারিং জানা অবশ্যই প্রয়োজন।


★ অনেকেই জানেন না যে, বাঁক ঘোরার সময় যদি প্রয়োজন মত কাত না হতে পারেন; তাহলে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেড়ে যায়। যে কোন বাঁক ঘুরতে চাইলেই আপনাকে কাত হতেই হবে। অল্প বাঁক হলে মোটরসাইকেল কাত করে নিজে সোজা থাকলেও চলে। সামনে বাঁক দেখলে আপনার বাইকের গতি ঘন্টায় ২০/২৫ কি:মি: এর মধ্যে নিয়ে আসুন। বাঁক ঘুরতে চাইলে যে দিকে রাস্তা চলে গেছে সেই দিকে তাকান। মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে থাকলেই হবে। কাঁধ ঘুরাবেন না।


আপনার তাকানোর উপর নির্ভর করছে কতখানি কাত হওয়া প্রয়োজন। অবশ্যই জোর করে সোজা থাকার চেষ্টা করবেননা। মোটর সাইকেল যতখানি কাত হওয়া প্রয়োজন-ঠিক ততখানিই কাত হয়ে যাবে আপনার তাকানোর উপর নির্ভর করে। তাহলে প্রয়োজনমত আপনার বাইক কাত হয়ে বাঁকের অংশটুকু পার হয়ে যাবে। আপনার বাইকের গতি যদি বেশি হয় এবং আর যদি বাঁকটি তীক্ষ্ম হয়- আপনাকে বেশি কাত হতে হবে। আপনার শরীর ও বাইক একসাথে কাত হবে, দৃষ্টি থাকবে দুরে রাস্তার দিকে। কাছে তাকালে কাত হতে সমস্যা হবে। আপনার তাকানোর উপর নির্ভর করছে কোন রাস্তায় কতখানি কাত হওয়া প্রয়োজন।


★ নিরাপদে মোটরসাইকেল চালাতে আপনার মাথা ঠান্ডা রাখাটা জরুরি। পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে হবে। ভাল রাইডাররা জানেন কখন গতি কমাতে হয় এবং কখন গতি আর কৌশলের সমন্বয়ে বিপদ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে কিছু করে বসলে দূর্ঘটনার সম্ভবনা থাকে। কোন যানবাহনের একদম পিছনে থাকা ঠিক নয়। এমন জায়গায় থাকুন যাতে সে তার রিয়ারভিউ মিররে সহজেই আপনাকে দেখতে পায়। আপনার গতি যদি ঘন্টায় ৪০ কি: মি: এর নীচে হয় তাহলে দুই সেকেন্ড দূরত্বে থাকুন। দুই সেকেন্ড দূরত্ব বলতে বোঝায়, যখন কারটি কোন ইলেকট্রিক পোল পার হয়, তখন ‘‘বাংলাদেশ এক, বাংলাদেশ দুই’’ বলার পর যদি আপনিও ঐ ইলেকট্রিক পোল পার হোন তারমানে গাড়ীটি থেকে আপনি দুই সেকেন্ড দূরত্বে আছেন।


★ থামতে চাইলে কয়েকবার হালকা ব্রেক কষে ব্রেক লাইট ফ্ল্যাশ (এমারজেন্সি ব্রেক ছাড়া) করুন। তাহলে পিছনের যানবাহন আপনার ব্রেক লাইট দেখে সাবধান হবে। দুই তিনবারে ব্রেক করতে বলছি এ’জন্যে যে একটা স্থির লাইটের চাইতে একটি ফ্ল্যাশিং লাইট বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে।


★ হর্ণ ব্যবহার করে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন। তবে এর উপর বেশি ভরসা করতে যাবেন না। হর্ণকে খুব একটা পাত্তা দেননা তারা (অন্যান্য ড্রাইভার)। যে কোন যানবাহনের খুব কাছে যাবার চেষ্টা করবেন না। অন্য বস্ত্ত থেকে আপনার দূরত্ব যত বেশি হবে; তত বেশি আপনি নিরাপদ থাকবেন। আপনি ভুল না করলেও অন্য ড্রাইভার ভুল করতেও পারে। নিরাপদ দূরত্বে থেকে বাইক চালানোর চেষ্টা করুন। ট্রাকের মতো যানবাহন বাতাসের ধাক্কাতেও আপনার ব্যালান্স নষ্ট করে দিতে পারে। রাস্তার এমন একটি দিক বেছে নিন যেখান থেকে আপনি পুরো রাস্তা র দিকে নজর দিতে পারেন এবং আপনাকেও অন্য ড্রাইভার সহজে দেখতে পায়। বাজে রাস্তা অ্যাভয়েড করুন।


★ কোন যানবাহন আপনাকে অতিক্রম করার সময় যানবাহনের দিকে না তাকিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে বাইক চালান। আপনি যেদিকে তাকাবেন সাধারণত সেদিকে আপনার বাইক যেতে চাইবে।


★ আপনি যখন বাইক চালাবেন তখন মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রন জানা খুবই জরুরি। যখন বাইক চালানোর সকল কলাকৌশল আয়ত্ত করুন ভাল ও সুচারুরূপে মোটর সাইকেল চালাতে হলে আপনাকে প্রচুর অনুশীলন করতে হবে। এজন্য খোলা জায়গায় বা খালি মাঠে প্রচুর পরিমানে অনুশীলন করবেন। আপনার অনুশীলনের মাত্রা যত বেশী হবে রাস্তার বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য আপনি তত বেশী নিজেকে তৈরি করতে পারবেন।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com