শরীর না মন— কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দিবেন?
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২২, ০৯:৩২
শরীর না মন— কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দিবেন?
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

কথায় বলে, 'শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়।— এই কথাটা বাস্তবিক অর্থে কতটা সঠিক? আদৌ কি ঠিক? কেউ মনে করেন শরীর ঠিক থাকলে দৌড়ে চলবে জীবন, কেউ মনে করে শরীরের যত্ন আবার কী প্রয়োজন। আসলে শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর যদি মনটা বিষাদে ভরে থাকে তাহলে সুস্থ শরীরও বিগড়ে যেতে পারে। প্রশ্ন এটাই শরীর না মন— কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দিবেন এখন? মনকে একদম ফেলনা ভাবলে চলবে না। বরং মানসিকভাবে ভালো থাকা কর্মোদ্যম জীবনে প্রথম ও প্রধান শর্ত। বয়স ও লিঙ্গ ভেদে, মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব ফেলে, সেই কথাই আলোচিত হয়েছে সাম্প্রতিক একটি গবেষণাপত্রে।


যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের চিন্তাশক্তি প্রখর হচ্ছে। মানুষ বুঝতে শিখছে, শুধু শরীর নয়, মনও থাকা চাই চাঙ্গা। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রমেই। ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ডিপ্রেশন অ্যান্ড অ্যাংজাইটি উইথ দ্য অ্যাকুমুলেশন অব ক্রনিক কন্ডিশনস’ নামক একটি গবেষণাপত্রে বিশদে বলা হল সেই কথাই। বয়স ও লিঙ্গ ভেদে, মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব ফেলে সেই কথাই আলোচিত হয়েছে এই গবেষণাপত্রে।


আমেরিকার মিনেসোটা স্টেটের ৪০৩৬০ জন মানুষের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মানুষদের ২০ বছর, ৪০ বছর ও ৬০ বছর বয়স্ক— এই তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ভিত্তি করে গঠন করা হয় চারটি শ্রেণি— যাঁরা কেবল উদ্বেগে ভুগছেন, যাঁরা শুধু মাত্র মানসিক অবসাদে ভুগছেন, যাঁরা দু'টি সমস্যাতেই ভুগছেন এবং যাঁরা কোনও সমস্যাতেই ভুগছেন না।


সমীক্ষার ফল বলছে, সব বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রেই মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয় দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক রোগের ঝুঁকি। অন্য দিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে ২০ বছর বয়সি ব্যক্তিরা যদি দুশ্চিন্তা ও মানসিক অবসাদে ভোগেন তবে তা বাড়িয়ে দিতে পারে প্রায় ১৫ রকম গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের আশঙ্কা। এই ১৫টি রোগের মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, সিওপিডি এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মতো রোগ। তাহলে মনকে গুরুত্ব না দিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে পারবেন না। শরীর সুস্থ রাখতে মানসিক অবসাদ দূর হয় এমন কাজগুলো করতে হবে।


★ প্রতিদিন হাঁটা, দৌড়ানোর মতো অভ্যাস গঠনের পাশাপাশি শ্বাসের ব্যায়াম করুন। শ্বাস টেনে পাঁচ সেকেন্ড আটকে রেখে আবার পাঁচ সেকেন্ডে নিঃশ্বাস ফেলুন। এভাবে পনেরো মিনিট করলে দেখবেন আপনার মানসিক দুঃশ্চিন্তা ও অবসাদ দূর হয়েছে অনেকটাই। মেজাজও হালকা হয়ে থাকবে।


★ সকালের রোদ পোহান। অবশ্যই সকাল সাড়ে সাতটার আগের রোদ। এই রোদ এন্টিডিপ্রেটিভ। আপনার মানসিক ক্লান্তি দূর করতে এরচেয়ে উপকারি আর কিছুই হতে পারে না।


★ প্রতিদিন কয়েকটি বাদাম খান। বাদামে এন্টিডিপ্রেটিভ। চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম যে-কোনো বাদাম খেতে পারেন।


★ চোখ বন্ধ করে জীবনের সুখময় স্মৃতি ভাবুন কিংবা ছেলেবেলার কথা ভাবুন। এটি রাতে করতে পারেন এবং এতে বিশ মিনিট সময় দিন। এতে ঘুমও ভালো হবে, সকালে ঘুম ভাঙবে প্রফুল্ল মন নিয়ে।


★ চাপ নিবেন না কোনোকিছুতেই। জীবনকে সহজ করে ভাবুন। কথায় বলে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। নিজেকে ভালোবাসুন, নিজেকে নীরোগ রাখুন। আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা থেকে দূরে থাকুন।


তাহলে কথা শেষ পর্যন্ত এই— শরীর সুস্থ তো মন ভালো, মন ভালো তো শরীর সুস্থ।


বিবার্তা/এসবি


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com