সম্রাটের জামিন বাতিল
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২২, ১১:৪৫
সম্রাটের জামিন বাতিল
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে সাতদিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


বুধবার (১৮ মে) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সম্রাট। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তিন শর্তে ৯ জুন পর্যন্ত সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। যা বাতিল করলেন হাইকোর্ট।


এদিকে জামিন পেলেও শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় এখনো হাসাপাতালেই রয়েছেন সম্রাট। চিকিৎসকরা বলছেন, সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এ কারণে বাইরের কোনো দেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়াটা জরুরি।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রায়হান মাসুম মণ্ডলের অধীনে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।


ডা. রায়হান মাসুম বিবার্তাকে বলেছিলেন, ১৯৯৮ সালে চিকিৎসক দেবী শেঠীর অধীনে তার (সম্রাটের) ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি বেশ জটিল একটা সার্জারি। কারা সেলে পর্যাপ্ত সাপোর্ট না থাকায় আমরা তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলাম। তার হৃদস্পদন বেশ অস্বাভাবিক। তাই সব মামলায় জামিন পেলেও হাসপাতাল থেকে এখনই ছাড়া পাচ্ছেন না তিনি। আমরা দেখবো হোম পরিবেশে তার শরীর সাপোর্ট করে কিনা। তার পালস রেট এবং রিদমে সমস্যা আছে কিনা। এই ব্যাপারগুলো নিশ্চিত হতে আরো বেশ কিছুদিন অবজারবেশনের দরকার। এরপরই আসলে বলা যাবে তিনি কখন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন।


ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলোজী বিভাগের সিসিইউ এর চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রসুল আমিন শিপন বিবার্তাকে বলেন, উনার হার্টের সমস্যা ছিল বলেই আমরা তাকে এতদিন সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলাম।


২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করে তাকে কাকরাইল অফিসে নেয়া হয়। তল্লাশি চলার সময় কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু লোককে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে অফিসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এবং ব্যক্তিগত আক্রোশে সম্রাটকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পরপরই সম্রাটের মুক্তি চেয়ে পুরো নগরজুড়ে পোস্টার সেঁটে দেয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ এবং তার অনুসারীরা।


পারিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে চিকিৎসক দেবী শেঠীর অধীনে সম্রাটের ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে হার্টে ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। তখন থেকে সম্রাট অসুস্থ শরীর নিয়েও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সম্রাটকে গ্রেফতারের পর ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তার মা সাহেরা খাতুন চৌধুরী বলেন, সম্রাট শেখ হাসিনার পরীক্ষিত সৈনিক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন সম্রাট। ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সভা-সমাবেশ সফল করতে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন সম্রাট। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তার ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হচ্ছে।


যুবলীগ নেতা-কর্মীরা বলছেন, রাজধানীতে আওয়ামী লীগের দলীয় সমাবেশ সফল করতে সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো সম্রাটের। বিশেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত নানা কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতৃবৃন্দ এবং সম্রাটের অনুসারীদের আধিক্যই বেশি দেখা যেতো। আর এসব কারণে সম্রাটকে ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠক’ও ঘোষণা করা হয়।


বিবার্তা/কেআর


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com