বাংলাদেশের কৃষি আধুনিক রূপ লাভ করেছে: হাসান জাফির তুহিন
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৩
বাংলাদেশের কৃষি আধুনিক রূপ লাভ করেছে: হাসান জাফির তুহিন
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

টানা ২২ বছর পর নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল। গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর কৃষকদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়। ওই নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। নতুন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন। একদফা আন্দোলন, কৃষকদলের কর্ম-পরিকল্পনা এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষা নিয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন হাসান জাফির তুহিন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কিরণ শেখ।


বিবার্তা: কৃষকদল নিয়ে আপনার কর্ম-পরিকল্পনা কি?


হাসান জাফির তুহিন: দেশে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ জড়িত। এই পেশার মানুষের সুখে-দু:খে থাকার জন্য কৃষকদল গঠন করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আমরা চেষ্টা করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন পূরণের জন্য। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সারা বাংলাদেশে যখনই কোনো কৃষক বিপদগ্রস্ত হয়েছে, আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। আর এই সরকারের অন্যায়-অত্যাচারে দেশে ইতিমধ্যে অনেক কৃষক আত্মহত্যা করেছে। কারণ এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল যে, তারা বিনামূল্যে সার দেবে এবং কৃষি উৎপাদন যন্ত্রের দাম কমাবে। কিন্তু এই সরকার কোনো কথাই রাখেনি। প্রত্যেকটি কৃষি-উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।



তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের দুটি কাজ। এরমধ্যে একটি হচ্ছে, বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ কৃষক সংগঠনে পরিনত করা। আরেকটি হচ্ছে, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন, সুখে-দু:খে আমরা কৃষকের পাশে থাকব। আর তার প্রমান, আমরা গত একবছরে রেখেছি। আমরা মনে করি, আমরা কৃষকের পাশে থাকব। পাশাপাশি এখন যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু হয়েছে, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের লক্ষ্যে- বিএনপির পক্ষ থেকে যখন যে কর্মসূচি দেবে, সেই কর্মসূচিতে কৃষকদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে আমরা এই সরকারের পতন আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখব।



বিবার্তা: কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষকদল কী কী করছে?


হাসান জাফির তুহিন: আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছি। এবার বন্যায় হাজার হাজার কৃষককে আমরা ত্রাণ দিয়েছি। আর বন্যা পরবর্তীতে কৃষি পুর্নবাসনের কর্মসূচি নিয়েছি। সেখানে কয়েক হাজার কৃষকের মধ্যে আমরা বীজ বিতরণ করেছি। আশা করছি, সামনে শীতে শাক-সবজির যে বীজ রয়েছে, সেটাও আমরা সারা বাংলাদেশে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করব। আর আমাদের মধ্যে অনেক দক্ষ কৃষিবিদ রয়েছেন। যদি কোন কৃষকের পরামর্শের প্রয়োজন হয়, সেটার জন্যও কৃষকদলের প্রস্তুতি রয়েছে।


বিবার্তা: বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন কতটুকু হয়েছে?


হাসান জাফির তুহিন: শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি নীতির কারণে ওই সময়ে থেকেই ‘কৃষি’ আধুনিক রূপ লাভ করেছে। পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পরে নতুন করে কাজ করেছেন। সুতরাং বিএনপি সরকার সব সময় কৃষিবান্ধব সরকার। আর অন্য যারা (আওয়ামী লীগ সরকার) ক্ষমতায় এসেছেন তারা তেমন কিছু করেনি। বরং কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়ে দিয়ে কৃষকদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে কৃষির সফলতা আছে। কৃষি সফল হয়েছে। গত ৫০ বছরে কৃষির অনেক উন্নতি হয়েছে। কৃষির নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান হয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উল্লেখ করার মত। আর এটার পুরোটাই বিএনপির সরকারের অবদান।


বিবার্তা: বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষক নিয়ে কেনো প্রহসন হয়?


হাসান জাফির তুহিন: এই সরকার তো শুধু কৃষি ও কৃষকের সাথে প্রহসন করছে না। সব পেশার সাথেই প্রহসন করছেন। বলেছিলেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। চাকরি কি দিচ্ছে? বরং বেছে বেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কাউকে চাকরি দিচ্ছে না। আর যারা চাকরি করতেন তাদেরকে বিভিন্ন অযুহাতে চাকরি থেকে বিতাড়িত করছে। অনেককে আবার ওএসডি করে রাখা হয়েছে। সুতরাং সব মিলেই অবস্থা বেশি ভালো না।


বিবার্তা: বিএনপি সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনের কথা বলছে, এই আন্দোলনে কৃষকদলের ভূমিকা কি থাকবে?


হাসান জাফির তুহিন: আমরা মনে করি, আমাদের সংগঠন অতীতের চেয়ে এখন বেশি শক্তিশালী। আমরা সময় পেলে সংগঠনের ব্যাপ্তি আরও বৃদ্ধি করব। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সারা বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং ছাত্র সংসদে ছিল। সেই সময়ে ছাত্রদের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল। এখন বাংলাদেশে মেধাবী ছাত্র এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলে থাকতে পারে না।



সবচেয়ে বড় কথা সারা বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দখলে। সেখানে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস করা সম্ভব। আন্দোলন করার সম্ভব না। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। তাই আমরা মনে করি, ১৯৯০ সালে ছাত্রদল এবং ছাত্রদের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছিল। আমরাও প্রত্যাশা করি, এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে। আর সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কৃষকদল প্রস্তুত আছে।



বিবার্তা: সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, এক্ষেত্রে কৃষি আন্দোলন গড়ে তোলার কি পরিকল্পনা রয়েছে?


হাসান জাফির তুহিন: এজন্যই তো ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্যই তো প্রত্যাশা করছি, আমরা যখন আন্দোলনের কর্মসূচি দেবো, বাংলাদেশের কৃষক সমাজ আমাদের সঙ্গে আসবে। যেখানে কৃষকরা আত্মহত্যা করছে, কৃষি পণ্য পুড়িয়ে ফেলছে এবং রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। তাই তারা (কৃষকরা) কৃষকদলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করবে- এই প্রত্যাশা থেকেই বলছি, এবারের আন্দোলন হবে কৃষকদলের নেতৃত্বে।


বিবার্তা: কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


হাসান জাফির তুহিন: এবার আন্দোলনে যদি বিজয়ী হওয়া যায়, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয় এবং যদি গণতান্ত্রিক পন্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে অবশ্যই আগামীর বাংলাদেশ হবে- একটি আধুনিক বাংলাদেশ এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ। আর যদি ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তের কারণে আন্দোলন ব্যর্থ হয় তাহলে এই বাংলাদেশ হবে ‘ব্যর্থ বাংলাদেশ’।


বিবার্তা/ কিরণ/ রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com