পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশ খুবই দূর্বল: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:১৩
পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশ খুবই দূর্বল: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য। সরকারবিরোধী নানা আন্দোলনে অগ্রগামী একজন হিসেবেই তাকে গণ্য করে বিএনপি। আগামী সংসদ নির্বাচন, জামায়াতে ইসলামী, আন্দোলন এবং বাংলাদেশ- ভারতের সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কিরণ শেখ।


বিবার্তা: সরকার পতন আন্দোলনে ‘বৃহৎ প্লাটফর্ম’ গঠনে সংলাপ করছে বিএনপি। এই ঐক্য গঠনের কার্যক্রম কতদূর?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: আলোচনাটা এখনও ইতিবাচক। সেই আলোচনাটা খুব যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই সেটা আত্মপ্রকাশ করবে।


বিবার্তা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনা কি?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: আমরা এখন সরকার পতন নিয়ে ভাবছি। আগামী নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না।


বিবার্তা: বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে, সরকার যদি এই দাবি মেনে না নেয় তাহলে আপনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: আমরা যেখানে আছি, সেটা শুধু বিএনপির সিদ্ধান্ত না। এটা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই মনে করে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না। এই ব্যাপারে সবাই একমত। আরেকটি হলো, আপনি শূন্য আসনে ভোট করবেন। একদিকে সংসদ রেখে (৩০০ আসন রেখে) আরেকদিকে ৩০০ আসনে নির্বাচন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পৃথিবীর কোন দেশেই এধরনের নিয়ম নাই। সরকার প্রধান থাকলেও কখনো দল থাকে না কিংবা সংসদ থাকে না। সুতরাং এই দাবিটা যদি বলি শুধু রাজনৈতিক দলের তাহলে সেটাও ভুল হবে। এই দাবিটা এখন সাধারণ মানুষের। কারণ সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারে না। মানুষ তার ভোটটা দিতে চায়। আর আমাদের দাবিটা সেখানেই। কে ক্ষমতায় আসলো সেটা বড় কথা না।


'এই দাবিতে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলও একমত। ইতিপূর্বে আমাদের সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের পদ্ধতি ছিল না। আজকের এই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াত মিলেই আন্দোলন করেছিল। আর সংবিধান দেশের জন্য, দলের জন্য না। কিংবা সংবিধানের জন্য দেশ নয়। কিন্তু আজকে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) সংবিধানে যে নানা ধরনের পরিবর্তন করেছে, এগুলো মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অত্যন্ত সাংঘর্ষিক। সুতরাং আমরা পরবর্তীতে কি করব, এটা শুধু বিএনপি নয়- আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসেই আমরা নির্ধারণ করার চেষ্টা করব।'


বিবার্তা: জামায়াতে ইসলামী বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে গেছে, এর সত্যতা কতুটুকু?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: এই বিষয়টা আনুষ্ঠানিকভাবে যতক্ষণ ঘোষণা না হবে ততক্ষণ পর্য‌ন্ত বিষয়টি নিয়ে বক্তব্যে না রাখাটাই সমীচীন।


বিবার্তা: বিএনপি একদফা আন্দোলনের কথা বলছে, এই আন্দোলন কবে নাগাদ শুরু হবে?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: দেশের সকল রাজনৈতিক দল যখন একটা ভাবনায় আসবে তখন সবাই মিলেই এই আন্দোলনের শুরুটা ঠিক করা হবে।


বিবার্তা: বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর গোলা ছোড়ার ঘটনায় আপনার মন্তব্য কি?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: এটা হলো, আমাদের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন এবং আমাদের দেশের
পররাষ্ট্রনীতি খুবই দূর্বল। আর আমাদের নিজস্ব সত্ত্বা এবং অবস্থাটাকে শক্তভাবে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সরকারের কিছু দূর্বলতা আছে। এটা কিন্তু শুধু সরকারের সমস্যা না। এটা জাতিগতভাবে, আমি এদেশের নাগরিক। আমাদের দেশে যদি অন্য দেশের গোলা-বারুদ পরে, কিংবা আমার দেশের সীমান্তে যদি এধরনের ঘটনা ঘটে তাহলে সেটা অবশ্যই সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। অনেকে মনে করছেন, সরকার বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছে- একদিকে জনগণের দাবি আরেকটি অর্থ শূন্য। তারপরে জিনিসপত্রে দাম বেশি। আর এই যে, মিয়ানমারের টুকিটাকি ঘটনা হঠাৎ করে ঘটছে, এমনও হতে পারে সরকার একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং গেম করতে পারে পূর্বাঞ্চলে।


বিবার্তা: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বলেছেন যে, ভারতকে বলেছি- শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে। এই বক্তব্যেকে আপনি কিভাবে দেখছেন?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি গোপন একটা তথ্য জনগণের সামনে ফাঁস করেছেন। সুতরাং তাকে যদি কেউ বেকুব বলে সেটা তার দল (আওয়ামী লীগ) বলতে পারে। তবে জাতির কাছে যে তিনি একদম খোলাসাভাবে বলেছেন- সেজন্য আমি মনে করি, তিনি ধন্যবাদ প্রাপ্য। কারণ একটা সত্য কথা বলছেন।


বিবার্তা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লি গিয়েছিলেন। সফরে কিছু সমঝোতা স্মারক ও কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য কতটুকু দিয়ে আসলেন, কতটুকু নিয়ে আসলেন?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: অতীত অভিজ্ঞতা বলে, তিনি দিয়ে আসেন- নিয়ে আসতে পারেন না। এবারও আমাদের দিয়ে আসার ক্ষেত্রে কনফার্ম হলেও নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমরা আশা করতে পারি না। আর নিয়ে আসলেও আসতে পারে একটাই, সেটা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সূত্র ধরে বলতে হয়- তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ক্ষমতা থাকতে চান। তার এই অভিলাস পূরণ করার ক্ষেত্রে ভারতকে কতটুকু দিয়েছেন সেটা একান্তই গোপন। সেটা তো আমরা জানতে পারবো না।


বিবার্তা: বাংলাদেশ- ভারতের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কটা অবশ্যই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। এই বন্ধুত্বটা আমাদের বন্ধুত্বের মতোই থাকা উচিত। আর কোনোমতেই একটা প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বন্দ্ব না থাকাই ভালো। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা তো ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চাই আজীবন। সেই বন্ধুত্বটা ভারত কিভাবে দেখবে, সেটা হচ্ছে ভারতের বিষয়। আর ভারত যদি বন্ধুত্ব চায় আমাদের তো বন্ধুত্ব থেকে সরে আসার কারণ নাই। কিন্তু ভারত যদি আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়, তাহলে সেই বন্ধুত্বের জায়গাটা তো থাকে না। ভারতকে আরেকটা বিষয় ভাবতে হবে, ভারত কি বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব চায় এবং বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব চায়- না কি একটি ব্যক্তি বা একটি দলের সাথে বন্ধুত্ব চায়। এই বিষয়টা ভারতকে তার নিজস্ব কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়েই পরিস্কার করতে হয়।


বিবার্তা/ কিরণ/ রোমেল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com